kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২ জুন ২০২০। ৯ শাওয়াল ১৪৪১

পৃথিবী বদলে গেছে আকবরের

আসলে পারিশ্রমিক নিয়ে ভাবছি না। খেলতে পারলে খুব ভালো হতো। জানি এ রকম সময়ে খেলা হওয়াটা কারো জন্যই ভালো হবে না। তবু আশা করছি দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে আর খেলা মাঠে গড়াবে।

২৯ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পৃথিবী বদলে গেছে আকবরের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপটা জিতে আসার পর বদলে গিয়েছিল আকবর আলীর নিজস্ব পৃথিবী। নিমিষেই বিখ্যাত হয়ে যাওয়া, সংবর্ধনা আর স্তুতিবাক্যের স্রোতে ভেসে যাওয়ার যে স্বপ্নের পৃথিবীতে বাস করছিলেন আকবর, দ্রুতই সেটা বদলে গেল ভয়ের দুনিয়াতে। এবার শুধু আকবরের নিজের পৃথিবীটাই নয়, কভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণে গোটা পৃথিবীটাই এখন ভয়ের রাজ্য। স্থবির সব কিছু। বাইরে বের হতে মানা। রংপুরের বাসায় আবদ্ধ সময়ের এক বিকেলে, বাড়ির সবাই মিলে সিনেমা দেখার মাঝেই ফোনে আকবর জানালেন, মন টিকছে না ঘরে। জানেন কিছুই করার নেই, থাকতেই হবে। তাই বিনোদনের দুনিয়া আর অন্তর্জালেই সময় কাটানোর চেষ্টা করে যাওয়া।

কৈশোর কেটেছে বিকেএসপিতে। সেখানে খেলা আর পড়া একসঙ্গে। এরপর ক্রিকেটার জীবন। খেলার মাঠেই যাঁর কেটেছে জীবনের বেশির ভাগ সময়, বাসার চার দেয়ালে সেই আকবরের জীবন হাঁপিয়ে উঠছে, ‘জীবনে কখনো এ রকম হয়নি। খেলতে যেতে পারছি না, দৌড়াতেও বের হতে পারছি না।’

অনূর্ধ্ব-১৯ দলের স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ রিচার্ড স্টোইনার অন্তর্জালে বেশ সরব। ইনস্টাগ্রাম আর ফেসবুকে শিষ্যদের শেখাচ্ছেন ঘরে থেকে ব্যায়ামের কৌশল। আকবর জানালেন, স্টোইনারের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বর্তমান প্রিমিয়ার লিগ দল গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের দিকনির্দেশনাও পৌঁছে যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপে। কোনো রকম যন্ত্রের ব্যবহার ছাড়াই ঘরে বসে সেসব ব্যয়াম করেই নিজেকে প্রস্তুত করছেন আকবর। আশা রাখছেন, ভয়কে জয় করে আবার ঘরের বাইরে নিশ্চিন্তে পা রাখবে মানুষ। বিকেএসপির সাবেক অধ্যক্ষ বলেছিলেন আকবরের পড়ুয়া মনের কথা। এই অখণ্ড অবসরটাকে কি বই পড়ার কাজে লাগাচ্ছেন? এমন প্রশ্নে উত্তর মিলল, ‘স্যারের কাছ থেকে একবার এক রমজান মাসে শচীন টেন্ডুলকারের ওপর লেখা একটা বই নিয়ে পড়েছিলাম। এমনিতে আমি খুব পড়ুয়া না। তবে ক্রিকেট নিয়ে পড়ার চেষ্টা করি, আর্টিকেল বা অনলাইনে যেসব পাই।’ এর বাইরে ছবি দেখা, টিভি দেখা আর অনলাইনে সতীর্থদের সঙ্গে ভার্চুয়াল আড্ডাতেই কাটছে সময়, ‘নিজেদের গ্রুপে মজাই হয় বেশি। তবে এখন আর তেমন মজাও হচ্ছে না। সবাই বুঝতে পারছে অবস্থাটা, কেউই ভালো নেই।’

ঘরবন্দি সময়ে মনের মেঘটাই যে সবচেয়ে ভারী হয়ে জমছে, সেটা স্পষ্ট আকবরের কথায়। গেলবার প্রিমিয়ার লিগে খেলেছিলেন বিকেএসপি দলের হয়ে। এবারই প্রথম কোনো পেশাদার দলে, সত্যিকারের চুক্তিতে। মাত্র একটা ম্যাচ খেলার পরই লিগ বন্ধ, এমন সময়ে অনেক ক্রিকেটারই শঙ্কায় পারিশ্রমিক নিয়ে। আকবর অবশ্য পারিশ্রমিকের চাইতে খেলার সুযোগ হাতছাড়া হওয়া নিয়েই বেশি চিন্তিত, ‘আসলে পারিশ্রমিক নিয়ে ভাবছি না। খেলতে পারলে খুব ভালো হতো। জানি এ রকম সময়ে খেলা হওয়াটা কারো জন্যই ভালো হবে না। তবু আশা করছি দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে আর খেলা মাঠে গড়াবে।’

অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আপাতত সবার মতো ঘরবন্দি আকবরও। বিকেএসপি, বয়সভিত্তিক দল মিলিয়ে বাইরে বাইরে অনেকটা দিন কাটিয়ে দেওয়া আকবর এখন পরিবারের সবাইকে নিয়ে ছবি দেখার অবকাশও পাচ্ছেন। স্বাভাবিক সময়ে এমন একটা দিন হতে পারত যে কারো জন্যই আরাধ্য। কিন্তু সময়টাই যে এমন, ভয়ের গুমোটে ঢেকে যাচ্ছে আনন্দের মুহূর্তগুলোও।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা