kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

নিজেদের ভাগ্যবান ভাবছেন তাঁরা

১৪ দিনের আইসোলেশন থেকে বেরিয়ে ক্লাবের ওয়েবসাইটে আক্রান্ত হওয়ার দিনগুলোর অভিজ্ঞতা জানালেন আর্সেনাল কোচ, ‘লক্ষণের দিক ভাবলে আমার কাছে অন্য ভাইরাসের মতোই মনে হয়েছে। তিন-চারটি দিন খুব কঠিন গেছে। জ্বর ছিল, শুকনো কাশি হচ্ছিল, বুকে অস্বস্তি হচ্ছিল অনেক।’

২৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিজেদের ভাগ্যবান ভাবছেন তাঁরা

করোনার থাবায় ইতালি এখন মৃত্যুপরী। সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন ইউরোপের এই দেশটিতে। চীন, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান—করোনার আক্রমণ থেকে বাঁচেনি কোনো দেশ। আক্রান্ত অনেক ফুটবলারও। ইতালিয়ান সিরি ‘এ’র চ্যাম্পিয়ন জুভেন্টাসের পুরো দল কোয়ারেন্টিনে চলে যায় ডিফেন্ডার দানিয়েল রুগানির শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ায়। এ ছাড়া পাওলো মালদিনি, আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা, জুভেন্টাসের পাউলো দিবালা, বেলজিয়ামের তারকা মারুয়ান ফেলাইনিসহ আতালান্তা, সাম্পদোরিয়া, ফিওরেন্টিনা, ভ্যালেন্সিয়ার অনেক খেলোয়াড় আক্রান্ত কভিড-১৯-এ।

আশার কথা সেরে উঠছেন সবাই। পাউলো দিবালা ইনস্টাগ্রামে জানিয়েছেন সুস্থ হওয়ার খবর, ‘আমরা ভালো আছি।’ এই আর্জেন্টাইনের বান্ধবী অরিয়ানা সাবাতিনি জানালেন বিস্তারিত, ‘এখন অনেক ভালো আছি। দুই-তিন দিন শরীর খুব খারাপ ছিল। পুরো শরীর ভেঙেচুরে গিয়েছিল। দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম আমরা দুজন। ডাক্তাররা কিছু ভিটামিন দিয়েছেন আর ৩১ মার্চ পর্যন্ত আলাদা থাকতে বলেছেন পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে।’ জুভেন্টাস ফুটবলারদের কোয়ারেন্টিন অধ্যায় শেষ হয়েছে কদিন আগে। করোনা না হওয়ায় ডিফেন্ডার লিওনার্দো বানুচ্চি ভাগ্যবান ভাবছেন নিজেকে, ‘আমার শরীরে করোনার লক্ষণ ছিল না, ভাগ্যবান ভাবছি নিজেকে। বাড়িতে সময় কেটেছে আমার ছেলের সঙ্গে। বাগানে অনুশীলন করেছি প্রায় প্রতিদিন। তবে একা একা থাকার সেই দিনগুলো ছিল খুব বিরক্তির।’

নিজেকে ভাগ্যবান ভাবছেন আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতাও। গত ১৩ মার্চ তাঁর শরীরে ধরা পড়ে করোনার সংক্রমণ। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা আসে প্রিমিয়ার লিগ স্থগিত করার। ১৪ দিনের আইসোলেশন থেকে বেরিয়ে ক্লাবের ওয়েবসাইটে আক্রান্ত হওয়ার দিনগুলোর অভিজ্ঞতা জানালেন এই স্প্যানিশ কোচ, ‘লক্ষণের দিক ভাবলে আমার কাছে অন্য ভাইরাসের মতোই মনে হয়েছে। তিন-চারটি দিন খুব কঠিন গেছে। জ্বর ছিল, শুকনো কাশি হচ্ছিল, বুকে অস্বস্তি হচ্ছিল অনেক। যে মানুষগুলো আমার সংস্পর্শে এসেছেন, তাঁদের নিয়ে চিন্তা চলে আসে। আর ভয়টা লাগে তখনই। তিনটা বাচ্চা আছে আমার। ওদের নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছিল। আমার স্ত্রী আর নানি গেছে এর মধ্য দিয়ে। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ বাচ্চাদের কিছু হয়নি।’

লিওনেল মেসির আর্জেন্টাইন দলের সতীর্থ এজেকুয়েল গেরাই লা লিগার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে আক্রান্ত হয়েছিলেন করোনায়। পরে ভ্যালেন্সিয়ার ৩০ শতাংশ ফুটবলারের শরীরে ধরা পড়ে এই সংক্রমণ। ইতালিয়ান মিডিয়ার অভিযোগ ভ্যালেন্সিয়ার সঙ্গে আতালান্তার চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচের সময় তাঁদের দেশে ছড়িয়েছে করোনা! গেরাই অবশ্য সেরে ওঠার খবর জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, ‘আমার শরীরে করোনা ধরা পড়েছিল। তবে সুস্থ আছি। আর মেনে চলছি ডাক্তারদের উপদেশ।’

চায়নিজ সুপার লিগের প্রথম ফুটবলার হিসেবে করোনায় আক্রান্ত হন মারুয়ান ফেলাইনি। শেনডং লুনেংয়ের হয়ে খেলা এই বেলজিয়ান গত ২০ ফেব্রুয়ারি ছুটি পেয়ে সময় কাটিয়েছেন বেলজিয়াম, মরক্কো, মালদ্বীপ আর দুবাইয়ে। এরপর সিঙ্গাপুর থেকে সাংহাই হয়ে দ্রুতগামী ট্রেন ধরেন জিনানের। এই শহরের একটি হাসপাতালে করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ায় সেই বিমান আর ট্রেনের সব যাত্রী পড়েন শঙ্কায়। ফেলাইনি অবশ্য সেরা উঠছেন এখন, ‘ডাক্তার, নার্স আর ক্লাবের সবাই ভীষণ যত্ন নিয়েছেন আমার। তেমন কষ্ট হয়নি। ১৪ দিনের আইসোলেশন শেষের দিকে। আশা করছি মাঠে ফিরব দ্রুত।’ করোনা আক্রান্ত সব খেলোয়াড়ের এভাবে দ্রুত মাঠে ফেরার প্রত্যাশাতেই সমর্থকরা। ডেইলি মেইল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা