kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

ফুটবলের নির্বাচন স্থগিত

নির্বাহী কমিটির সদস্যদের লিখিত মতামতের ভিত্তিতে কাল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন আগামী ২০ এপ্রিলের নির্বাচন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এখন ফিফা-এএফসির কাছে পাঠিয়ে কমিটি তাদের মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করবে। এত দিন ফুটবলের এই নির্বাচন নিয়ে শুধু জলঘোলা করে গেছে বাফুফে। দেশ অচল হয়ে গেলেও তারা অবিচল ছিল ওই নির্বাচনের দিকে।

২৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফুটবলের নির্বাচন স্থগিত

ক্রীড়া প্রতিবেদক : অবশেষে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেল বাফুফে নির্বাচন। নির্বাহী কমিটির সদস্যদের লিখিত মতামতের ভিত্তিতে কাল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন আগামী ২০ এপ্রিলের নির্বাচন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এখন ফিফা-এএফসির কাছে পাঠিয়ে কমিটি তাদের মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করবে।

এত দিন ফুটবলের এই নির্বাচন নিয়ে শুধু জলঘোলা করে গেছে বাফুফে। দেশ অচল হয়ে গেলেও তারা অবিচল ছিল ওই নির্বাচনের দিকে। তাদের দুই সহসভাপতি বাদল রায় ও মহিউদ্দিন মহি নির্বাচন স্থগিত করার আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানানোর পরও তারা কানে তোলেনি। বাফুফে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সভা করে আগামী ৩ এপ্রিল নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার দিন-ক্ষণ চূড়ান্ত করেন। তখন থেকেই প্রশ্ন ওঠা শুরু হয়। কারণ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি হয় সভা-সমিতির ওপর। লোকজনকে বড় জমায়েত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই দেখে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ দ্বিধান্বিত হলেও বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ ছিলেন মরিয়া। যেকোনো মূল্যে তিনি ২০ এপ্রিল নির্বাচন সেরে ফেলতে চান। না হলে যেন ফিফা খড়্গ উচিয়ে ধরবে!

এই কদিনে সোহাগ বেশ ফিফা-এএফসি দেখিয়েছেন। ‘বাংলাদেশের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে ফিফা, তাদের প্রেসক্রিপশন ছাড়া তো আমরা কিছু করতে পারি না’—এ রকম কথাবার্তা বলে তিনি রীতিমতো হাইকোর্ট দেখিয়েছেন সবাইকে। এভাবে বিভিন্ন সময় এ দেশে ফিফাকে চিত্রিত করা হয়েছে বাঘ-ভাল্লুকের মতো করে। তাদের সঙ্গে কোনো কথা বলা যাবে না, আপনার সমস্যার কথা শুনলে যেন তারা কামড়ে দেবে! অনেক আগে থেকে নিজেদের সুবিধার্থে ফুটবল কর্তারা এ রকম একটা মুখোশ পরিয়ে ফিফাকে উপস্থাপন করেছে এ দেশে। সত্যিটা হলো ফিফা বরং অনেক মানবিক এবং বোধবুদ্ধিসম্পন্ন। তারাই বোঝে ফুটবল এবং ফুটবলের নির্বাচনের চেয়ে মানুষের জীবন বড়। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াইয়ে বিশ্ব ফুটবল সংস্থা ১০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে। তারা কিনা এ দেশের করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝবে না, এটা হতেই পারে না। ফিফার এক মুখপাত্র পরশু কালের কণ্ঠকে এক ই-মেইল বার্তায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ‘ফিফা সব সময় মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার কথা বলে। তাদের বিধি-নিষেধ মেনেই কংগ্রেস (নির্বাচন) আয়োজন করা উচিত।’ এই বক্তব্যে আসলে পরিষ্কার হয়ে যায় বাফুফের নির্বাচনী কংগ্রেস নিয়ে ফিফার মনোভাব। তাদের দিক থেকে ২০ এপ্রিল নির্বাচন আয়োজনের কোনো রকমের কোনো চাপ ছিল না। বাফুফে সাধারণ সম্পাদক তাদের দোহাই দিয়ে একটা ধোঁয়াশা তৈরি করতে চেয়েছিলেন। এ ব্যাপারে গতকাল কথা বলার চেষ্টা করা হলেও বাফুফে সাধারণ সম্পাদক ফোন ধরেননি।

ফিফার নামে যে ধোঁয়াশা তৈরির চেষ্টা, সেটা আরো পরিষ্কার হয় গতকাল বাফুফের নেওয়া সিদ্ধান্ত দেখলে। নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে বাফুফে নির্বাচন স্থগিত করেছে অনির্দিষ্টকালের জন্য। বাফুফে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কোথাও ফিফা-এএফসির মতামতের কথা বলা হয়নি। বরং বলা হয়েছে বাফুফে এখন নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তের কথা জানাবে ফিফা-এএফসিকে। অর্থাৎ বাফুফের সিদ্ধান্তকে সামনে রেখেই ফিফা সামনের দিনগুলো চলার একটা নির্দেশনা দেবে ফুটবল ফেডারেশনকে। মেয়াদ আগামী ৩০ এপ্রিল পেরিয়ে গেলেও কাজী সালাউদ্দিনের কমিটি কিভাবে ফুটবলে থাকবে এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আয়োজন করবে, তারই একটা রূপরেখা তৈরি করে দেবে ফিফা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা