kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

বিশাল আর্থিক সংকটে ইউরোপের ফুটবল

২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাস শুধু জীবন বিপন্ন করছে না, সারা বিশ্বের অর্থনীতিও যেন শুষে নিচ্ছে। ইউরোপের ফুটবল ক্লাবগুলো জীবন বাঁচাতে খেলা বন্ধ রাখছে, কিন্তু সেই ধাক্কায় তারা বিশাল আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। সারা বিশ্বেই পেশাদার খেলাধুলায় চিত্রটা একই। ফুটবল নিয়ে ইউরোপে সারা বছর যেমন অর্থের ঝনঝনানি করোনার থাবায় তাদের বিপন্নতাটাও তাই ফুটে উঠছে বেশি।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখই যখন এই ধাক্কা সামলাতে খেলোয়াড়দের বেতনে হাত দিয়েছে তখন বাকিদের অবস্থা অনুমেয়। জার্মান লিগের বেশ কয়েকটি ক্লাবই খেলোয়াড়দের বেতন কমিয়ে দিয়েছে। ইউরোপে বেতনের পেছনে সবচেয়ে বেশি খরচ করে যারা সেই বার্সেলোনায়ও এমন কিছু হতে যাচ্ছে বলেই খবর। অনেক ক্লাবেরই এই সময়টা পাড়ি দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অর্থ সঞ্চয়ে নেই। স্কটল্যান্ডের ক্লাবগুলো যেমন মূলত গেটমানির ওপরই নির্ভরশীল। খেলা বন্ধ থাকায় তাদের আয় পুরোপুরি বন্ধ। অথচ আগামী কয়েক মাসে প্রতিটি ক্লাবের কমপক্ষে সাড়ে ৫ মিলিয়ন ইউরো খরচ আছে। অ্যাবারডিন চেয়ারম্যান ডেভ কোরম্যাক তাই মনে করেন, ‘কোনো ক্লাবই তাদের যে রকমই বিনিয়োগ থাক না কেন, কোনো রকম আয় ছাড়া তিন থেকে ছয় মাস চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।’ শুধু ক্লাব কেন, লিগগুলোও বড় ক্ষতির মুখে। বছরে চার বিলিয়ন ইউরো আয় করা বুন্দেসলিগা যেমন এবার বড় লোকসানের মুখ দেখতে যাচ্ছে। প্রধান নির্বাহী ক্রিস্টিয়ান সেইফার্ট তো বলেই দিয়েছেন, ‘অতি দ্রুত দর্শকহীন মাঠে হলেও খেলা চালাতে না পারলে ১৮-২০ দলের এই লিগ ধরে রাখাই কঠিন হয়ে যাবে। সব মিলিয়ে ২০টি পেশাদার ক্লাব আমরা রাখতে পারব না।’

খেলা নেই মানে গেটমানি বন্ধ, ব্রডকাস্টারদের সঙ্গেও যে বিপুল অঙ্কের চুক্তি থাকে সেটিও হুমকির মুখে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শুধু ঘরোয়া সম্প্রচার বাবদই স্কাই স্পোর্টস ও বিটি স্পোর্টের কাছ থেকে হারাতে যাচ্ছে প্রায় ৮৩২ মিলিয়ন ইউরো। বিশ্লেষণী সংস্থা কেপিএমজির মতে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ (ইংল্যান্ড, স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির) যদি আর শুরুই করা না যায় তাহলে সব মিলিয়ে চার বিলিয়ন ইউরোর বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাদের। ক্লোজড ডোরে হলেও লিগগুলো শুরু করা নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, তার কারণ ব্রডকাস্টারদের কাছ থেকে পাওয়া এই অর্থ। তার আগে খেলোয়াড়দের বেতন কমছে এটা অন্তত নিশ্চিত। ফ্রান্সে এরই মধ্যে লিওঁ এবং মার্শেইয়ের মতো দুটি বড় ক্লাব খেলোয়াড়দের বেতন কমিয়ে দিয়েছে। জার্মানিতে প্রথম বেতন কমানোর প্রস্তাব দেয় বরুশিয়া মুনশেনগ্লাডবাখ, তাদের পথ ধরে ওয়ের্ডার ব্রেমেন, শালকে ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ডও। ‘বিল্ড’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড়রা বেতনের ২০ শতাংশ কমানো মেনে নিয়েছেন। ওদিকে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন ক্লাবগুলোর জন্য ৫০০ মিলিয়ন ইউরোর প্যাকেজ ঘোষণা করেছে এই ক্ষতি পোষাতে। এএফপি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা