kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

বাফুফে নির্বাচন

বাধ্যবাধকতা নেই ফিফার

২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : ফুটবলের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তুঘলকি কাণ্ড ঘটিয়ে চলেছে বাফুফে। ফিফা-এএফসির দোহাই দেওয়ার পর সর্বশেষ তারা কমিটির সদস্যদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে, নির্বাচনের পক্ষে-বিপক্ষে মতামত দেওয়ার জন্য! অথচ ফিফার তরফ থেকে এই দুর্যোগে নির্বাচন করার কোনো বাধ্যবাধকতাই নেই।

বাফুফে এগোচ্ছে, তাদের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২০ এপ্রিল নির্বাচনের দিকে। করোনাভাইরাসের প্রকোপে দেশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনাচার স্তব্ধ হয়ে গেলেও ফুটবলের নির্বাচন এখনো পূর্ব নির্ধারিত তারিখে আছে। ইতিমধ্যে ফিফা-এএফসি জানিয়ে দিয়েছে বাফুফে নির্বাচনে তাদের পর্যবেক্ষক না পাঠানোর কথা। অথচ এদিকে বাংলাদেশের ফুটবল কর্তারা দোহাই দিচ্ছেন এএফসি-ফিফার—৩০ এপ্রিল বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হবে, তাই ২০ এপ্রিল নির্বাচন করতেই হবে। বাফুফে সাধারণ সম্পাদক বলেছিলেন, ‘নির্বাচনের ইস্যুতে ফিফা এখনো কিছু জানায়নি। তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে শুভ কামনা জানিয়েছে।’ কিন্তু ফিফার তরফ থেকে এই দুর্যোগের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের কোনো বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়নি। ফিফার এক মুখপাত্র গতকাল ই-মেইল বার্তায় কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, ‘আমরা মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার কথা বলি এবং তাদের বিধি-নিষেধ মেনেই কংগ্রেস আয়োজন করা উচিত।’ তাদের এই কথায় স্পষ্ট যে, কভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে বাফুফের নির্বাচনী কংগ্রেস আয়োজনের কোনো যৌক্তিকতা নেই। এই মহামারির ভয়াবহতার কথা ভেবে বাংলাদেশ সরকার অফিস-আদালত বন্ধ করে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের ঘরের বাইরে বের হওয়া নিষেধ। দুজন মানুষ একসঙ্গে হলেই সেনাবাহিনীর কাছে জবাবদিহি করতে হচ্ছে। পুরো দেশ কোয়ারেন্টিনে চলে গেছে ১০ দিনের জন্য। এমন অবস্থায় বাফুফের নির্বাচন এক হাস্যকর বিষয়। 

যেখানে মানুষের জীবন বিপন্ন সেখানে বাফুফের কাছে বড় হয়ে গেছে নির্বাচন। নির্বাচিত কমিটি যেন দেশের ফুটবলকে স্বর্গে তুলে নিয়ে যাবে। চারদিকে আলোচনা-সমালোচনা হলেও বাফুফে এখনো নির্বাচনমুখো। সিদ্ধান্তের জন্য তাদের আজ সভায় বসার কথা। সভার আগে বাফুফে প্রেরিত সদস্যদের চিঠি নিয়ে চলছে আরেক দফা নাটক। বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ স্বাক্ষরিত এই চিঠিটি আসলে একটি ফরম। তাতে লেখা আছে ‘বাফুফে নির্বাচনী সাধারণ সভা আগামী ২০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে’— এটার ওপর ‘হ্যাঁ/না’ মতামত দিতে হবে সদস্যদের। মত ‘না’ বোধক হলে কারণ সবিস্তারে লিখতে হবে। এটা দেখে এক সদস্য ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছেন, ‘আমাদের সাধারণ সম্পাদকের জ্ঞানের বহর দেখেন! দেশে এখন মহামারির মতো অবস্থা, সবাই কাবু হয়ে গেছে আর উনাকে বিস্তারিত লিখে বোঝাতে হবে কেন নির্বাচন দেওয়া যাবে না! নির্বাচন নিয়ে কেন যে এত জল ঘোলা করছে আমি বুঝতে পারছি না।’

ওই ফরমে “বাফুফে নির্বাচনী সাধারণ সভা স্থগিত করা হলেও ‘ডেলিগেট মনোনয়ন ফরম’ (কাউন্সিলর) বাফুফের কাছে জমা দেওয়ার সময় বর্ধিত না করণ”, এই ইস্যুতেও ‘হ্যাঁ/না’ ভোট দিতে হবে। এটাও কোনো ইস্যু হতে পারে না বলে মনে করেন বাফুফের নির্বাহী কমিটির অনেক সদস্য। কারণ নির্বাচন স্থগিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়াগুলোও স্থগিত হয়ে যেতে বাধ্য। আবার যখন নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হবে কাউন্সিলর চাইতে হবে, এটাই হলো নিয়ম। তা ছাড়া এখন সারা দেশে সভা-সমিতির ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় কোনো ডিএফএ সভা করে তার কাউন্সিলর চূড়ান্ত করতে পারবে না। সংস্থা এ সময় কাউন্সিলরের নাম পাঠালে অন্য কেউ চ্যালেঞ্জ করে আদালতেও চলে যেতে পারেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা