kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

ঢাকার বাইরেও বেঁচে আছে হকি

যে কেরামাতিয়া স্কুল এবার ৮০টি স্কুলকে পেছনে ফেলে হকিতে বিজয়ী হলো, তাদের ফইনালে খেলতে হলো ধার করা স্টিক নিয়ে। ঢাকার বাইরের হকির উন্নতির প্রতি আমাদের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আর হকি ফেডারেশনের কী পরিমাণ নেকনজর—এই ধার করা স্টিক থেকেই তা প্রমাণিত। এদের প্রতিভা আছে। প্রয়োজন ঘষামাজার।

২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকার বাইরেও বেঁচে আছে হকি

স্কুল হকির ফাইনাল হয়ে গেল। রংপুরের কেরামাতিয়া হাই স্কুল হকির ঐতিহ্যবাহী ও আঁতুড়ঘর আরমানিটোলা সরকারি স্কুলকে ২-০ গোলে হারিয়ে জিতেছে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্কুল হকি টুর্নামেন্টর শিরোপা। অথচ কেরামাতিয়া স্কুল ফাইনালে আরমানিটোলার সঙ্গে খেলার জন্য পুলিশ টিমের কাছ থেকে স্টিক ধার নিয়েছিল। জেলা পর্যায়ে হকির কথা চিন্তা করলে সবার আগে চোখে পড়ে সরঞ্জামের অভাবটা। আধুনিক হকিতে এখন ঘাসের মাঠ গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। ১৯৭৬ সালের মন্ট্রিয়ল অলিম্পিকের থেকেই হকি খেলায় চালু হয়েছে কৃত্রিম মাঠ। ঘাসের মাঠ অমসৃণ। বল বারবার শরীরে লেগে ফাউল হওয়াতে খেলার গতি কমে যায়। দম নেওয়ার প্রচুর সুযোগ থাকে। কৃত্রিম মাঠ এতই মসৃণ, যার জন্য হঠাৎ বল লাফিয়ে শরীরে লাগে না, আর বল না লাগাতে ফাউল কম হয়, খেলার গতি বন্ধ না হওয়াতে দম নেওয়ার সুযোগই থাকে না।

আধুনিক হকিতে জায়গা করতে হলে কৃত্রিম মাঠ থাকতেই হবে। অথচ বাংলাদেশে আছে পাঁচটি টার্ফ হকি মাঠ, যার চারটিই ঢাকা আর সাভারে। এ মাঠগুলো সবার জন্য উন্মুক্তও নয়। একেকটি টার্ফের মূল্য চার কোটির টাকার মতো। ঢাকার বাইরেও যে ভালো হকি হয় তার জ্বলন্ত প্রমাণ এই স্কুল হকি। এদের এই উৎসাহকে সম্মান জানিয়ে যদি কৃত্রিম মাঠ সংযোজন করা হয় তাহলে সেই ১৯৮৫ সালের মতো হকিতে জোয়ার চলে আসবে। যে কেরামাতিয়া স্কুল এবার ৮০টি স্কুলকে পেছনে ফেলে হকিতে বিজয়ী হলো, তাদের ফইনালে খেলতে হলো ধার করা স্টিক নিয়ে। ঢাকার বাইরের হকির উন্নতির প্রতি আমাদের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আর হকি ফেডারেশনের কী পরিমাণ নেকনজর—এই ধার করা স্টিক থেকেই তা প্রমাণিত। এদের প্রতিভা আছে। প্রয়োজন ঘষামাজার।

আমরা সব সময় এশীয় মানের—পিছিয়েছি এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো হকি হয়ে পড়েছিল ঢাকাকেন্দ্রিক এবং কম খেলোয়াড়, প্রতিযোগিতা নেই খেলোয়াড়দের মধ্যে। তবে এবারের এই স্কুল হকি প্রমাণ করেছে ঢাকার বাইরেও হকি বেঁচে আছে। পরিকল্পনা আছে স্কুল হকি থেকে ১০০ খেলোয়াড় বেঁছে পূর্ণদৈর্ঘ্য ক্যাম্প হবে। খুবই ভালো পদক্ষেপ। একই সঙ্গে আম্পায়ার্স ট্রেনিং চালু করা দরকার। এবারের স্কুল হকির বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ছিল বিতর্কিত। স্কুল হকির খেলোয়াড় দিয়ে এখনই জাতীয় দল করা সম্ভব নয়। যারা জাতীয় দলের খেলোয়াড় সাপ্লাই দেবে সেই ক্লাবগুলো খেলোয়াড়দের টাকা দিচ্ছে না। প্রিমিয়ার লিগ বন্ধ, কবে চালু হবে তার কোনো কথাই হকি অঙ্গনে নেই।

কেরামতিয়া স্কুলের ফরোয়ার্ড আল আমিনের কথায় কষ্ট বুকে দানা বাঁধে। নাশতা আর গাড়ি ভাড়া না পাওয়ার কথা বলেছিল ছেলেটা। কোচ আবু সাইদের অভিযোগ, ‘ফেডারেশন থেকে যে স্টিক দিয়েছে, সেগুলো খেলার উপযুক্ত নয়।’ অবাক ও লজ্জার কথা যে ফেডারেশনের দেওয়া হকি স্টিক খেলার উপযুক্ত নয়!

মেজর চাকলাদার (অব.)

(লেখক : সাবেক জাতীয় হকিদল অধিনায়ক এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা