kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

ক্রিকেটের মূল ফটকে

ঘরে থাকার যুদ্ধে হাঁসফাঁস

নিত্যদিনের ছকে বাঁধা জীবনে হাঁসফাঁস উঠে যাচ্ছে বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরীরও। যে কারণে তাঁকে ফোন দিয়ে সুবিধা করতে পারছেন না ক্রিকেটাররাও, ‘ওদের অনেকেই আমাকে ফোন করছে। কেউ কেউ নিকটজনের অসুস্থতায় পরামর্শও নিচ্ছে। আবার কারো কারো কথা হলো, ঘরে থাকতে একদমই ভালো লাগছে না। সঙ্গে সঙ্গে আমিও আমার খারাপ লাগার কথা ওদের শুনিয়ে দিচ্ছি। শুনে ওরা ফোনও কেটে দিচ্ছে...(হাসি)।’

২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঘরে থাকার যুদ্ধে হাঁসফাঁস

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : জাতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে ইমরুল কায়েসই যা একটু ব্যতিক্রম। করোনার থাবা এড়াতে অন্যদের মতো যাঁর ঘরে থাকার উপায়ই নেই কোনো। থাকবে কিভাবে? মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত বাবা বনি আমীনের জীবন এমন সংকটাপন্ন যে বাসা আর হাসপাতাল করেই কাটছে তাঁর সময়। সুবাদে দিনে একাধিকবার বাসা থেকে বেরও হতে হচ্ছে। আর অন্যরা গৃহবন্দি থাকতে থাকতে কতটা হাঁপিয়ে উঠছেন, তা বেশ ভালোই টের পাচ্ছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী। ক্ষণে ক্ষণে বেজে উঠছে তাঁর ফোন। ওপার থেকে শুনে যেতে হচ্ছে, ‘আর ভালো লাগছে না!’

ভালো কি দেবাশীষেরও লাগছে? তিনিও পাল্টা শুনিয়ে দিচ্ছেন বাসা থেকে বের হতে ব্যাকুল হৃদয়ের কথা। দুয়েমিলে ফোনালাপও আর দীর্ঘায়িত হচ্ছে না খুব। অস্ট্রেলিয়া থেকে দুই ক্রিকেটার সাদমান ইসলাম ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর অস্ত্রোপচার করিয়ে ফেরার পর এই চিকিৎসক নিজেও আছেন ১৪ দিনের ‘সেলফ কোয়ারেন্টিনে’। নিত্যদিনের ছকে বাঁধা জীবনে হাঁসফাঁস উঠে যাচ্ছে তাঁরও। যে কারণে তাঁকে ফোন দিয়ে সুবিধা করতে পারছেন না ক্রিকেটাররাও, ‘ওদের অনেকেই আমাকে ফোন করছে। কেউ কেউ নিকটজনের অসুস্থতায় পরামর্শও নিচ্ছে। আবার কারো কারো কথা হলো, ঘরে থাকতে একদমই ভালো লাগছে না। সঙ্গে সঙ্গে আমিও আমার খারাপ লাগার কথা ওদের শুনিয়ে দিচ্ছি। শুনে ওরা ফোনও কেটে দিচ্ছে...(হাসি)।’

নিজে চিকিৎসক হয়েও দেবাশীষ মনে করছেন, অভ্যস্ত জীবনের বাইরে এসে এই ‘ঘরে থাকার যুদ্ধে’ পেরে ওঠা যে কারোর জন্যই ভীষণ মুশকিল। চাইলেও এর সঙ্গে তাল মেলানোয় মন সায় দিতে চায় না, ‘আগে কী হতো? যে পেশারই হন না কেন, ঘরের বাইরেই ১২ ঘণ্টা সময় কাটত। ঘুম আট ঘণ্টা। দেখা যেত পরিবারকে বড়জোর দুই ঘণ্টা সময় দিতেন আপনি। এখন পুরো ব্যাপারটিই উল্টে গেছে। বলতেই হচ্ছে, এভাবে বাসায় বসে থাকাটা কঠিনই।’ কঠিন হলেও নিজে নিরাপদ থাকতে এবং অন্যকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে এর বিকল্পও নেই আপাতত। এই অবস্থায় ব্যতিক্রম ইমরুলের বাবাকে ঘিরে দুশ্চিন্তায় পেরিয়ে যাচ্ছে সময়। কিছুটা শঙ্কামুক্তির খবরও দিয়েছেন কাল, ‘এখনো আইসিইউতেই আছেন। তবে মাঝখানে লাইফ সাপোর্টে চলে গিয়েছিলেন। সেটি খোলা হয়েছে। মস্তিষ্কে একটি অস্ত্রোপচারও হয়েছে। ডাক্তাররা বলছেন যে এখন কিছুটা ভালো উনি।’

ইমরুলের বাবা তবু স্কয়ার হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। কারো কারো আবার হাসপাতালে রোগী নিয়ে গিয়ে বিরূপ অভিজ্ঞতাও হয়েছে। যেমন শফিউল ইসলামের। কিছুদিন আগেই বাবাকে হারানো এই পেসারের বড় বোন অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে মিরপুরের ডেল্টা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ ভর্তি করাতে অস্বীকৃতি জানায়। এই বাস্তবতায় অবশ্য শফিউল সেটি স্বাভাবিক কারণেই মেনে নিয়েছেন, ‘ঘটনাটি সেদিনের, যেদিন মিরপুরের টোলারবাগের এক মুরুব্বি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ওই হাসপাতালেই মারা যান। কাজেই বুঝতে পেরেছি যে কেন তারা রোগী নিতে চাইছে না। এ জন্য বোনকে বাসায় ফিরিয়ে এনেই চিকিৎসা দিই। উনি এখন সুস্থও।’ 

শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার চেষ্টায় পুরো জাতি ঘরেই বন্দি একরকম। কিন্তু টানা বাসায় থাকাটা আবার মানসিক স্বাস্থ্যকেও ফেলতে পারে ঝুঁকির মুখে। সে ঝুঁকি আছে বলেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াও এর খেলোয়াড়দের নিয়ে সতর্ক। সেই সংশয় উড়িয়ে দিচ্ছেন না দেবাশীষও। তবে এই সময়ে অন্য কিছু একটি নিয়ে ব্যস্ত থাকার মধ্যেই সমাধান দেখছেন তিনি, ‘মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও অনেক কথাবার্তা হচ্ছে। এই সময়ে আসলে নিজেকে ব্যস্ত রাখাও জরুরি। আমি আমার নিজের কথাই বলি। আগে কখনো সময় হয়নি। তবে এখন সময় পেয়ে আমি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাসংক্রান্ত একটি অনলাইন কোর্স করছি। সার্টিফিকেটও পাওয়া যাবে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের। এটি করতে গিয়ে আমার দিনের অনেকটা সময় কেটে যাচ্ছে।’ বুঝতেই পারছেন, লম্বা সময় পার করার কিছু একটা বন্দোবস্ত ক্রিকেটারদেরও করে নিতে বলছেন এই চিকিৎসক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা