kalerkantho

সোমবার । ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৫  মে ২০২০। ১ শাওয়াল ১৪৪১

বিদেশিদের বেতন-ভাতায় বিপাকে ক্লাবগুলো

ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্টে বসিয়ে রেখেই বিদেশিদের বেতন দিতে হবে। এই টাকার সংস্থান হবে কিভাবে, সে নিয়েই বিপাকে পড়েছে দেশের ফুটবল ক্লাবগুলো।

২৬ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রিমিয়ার লিগ বন্ধ হয়ে গেলেও নির্দিষ্ট করা আছে ফুটবলারদের বেতন। বিশেষ করে বিদেশি ফুটবলারদের বেতন। ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্টে বসিয়ে রেখেই তাঁদের বেতন দিতে হবে। এই টাকার সংস্থান হবে কিভাবে, সে নিয়েই বিপাকে পড়েছে দেশের ফুটবল ক্লাবগুলো।

লিগে এবার চমকে দেওয়া পারফরম্যান্স চট্টগ্রাম আবাহনীর। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস ও রানার্স-আপ ঢাকা আবাহনীকে হারিয়ে তারা পয়েন্ট তালিকায় আছে দ্বিতীয় স্থানে। কভিড-১৯-এর সংক্রমণে লিগ স্থগিতের কারণে তাঁদের ছন্দে ছেদ পড়তে পারে। তবে এখন তার চেয়েও বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদেশি ফুটবলারদের বেতন-ভাতা। চট্টগ্রাম আবাহনীর ম্যানেজার আরমান আজিজ মনে করেন ক্লাবগুলোর জন্য এটা চরম দুঃসময়, ‘পাঁচ বিদেশির বেতন ও ফ্ল্যাট ভাড়া বাবদ মাসে অনেক টাকা খরচ হয় আমাদের। ক্লাবের কোনো নিজস্ব আয় নেই, ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান তরফদার রুহুল আমিন সাহেব দেন এই টাকা। আমরা বুঝি, অর্থনৈতিক মন্দার সময় বিদেশিদের পেছনে এই টাকা খরচ করা খুব কঠিন, তা-ও আবার খেলোয়াড়দের বসিয়ে রেখে। মনে হয়, সব ক্লাবই এই দুর্দশার মধ্যে পড়েছে।’ আগে লিগ স্থগিত ছিল ৩১ মার্চ পর্যন্ত, তাই বিদেশিদের ঢাকা ছাড়তে দেয়নি ক্লাবগুলো। পরশু অনির্দিষ্টকালের জন্য লিগ বন্ধ হয়ে গেলে তাদের দেশে পাঠানো কঠিন হয়ে গেছে। তাই বেতন ও থাকার খরচের সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন দুশ্চিন্তা—বিদেশিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি। কোনোটাই এড়াতে পারছেন না ক্লাব সংগঠকরা।

অন্যান্য ক্লাবের চেয়ে বসুন্ধরা কিংসের বেলায় বেতনের চাপটা আরো বেশি। কিংস প্রেসিডেন্ট ইমরুল হাসানের দুশ্চিন্তা প্রতি মাসে এক কোটি টাকা জলে ফেলে দিতে হবে বলে, ‘বিদেশিদের বেতনসহ অন্যান্য খরচ নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেলাম। লিগ তিন-চার মাস বন্ধ থাকলেও বিদেশিদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিতে হবে। সেটা মাসে প্রায় এক কোটি টাকা। এটা খুব কঠিন। মাসে মাসে টাকাটা জলে ফেলে দেওয়ার মতো অবস্থা। আবার কেউ বেতন না পেলে এএফসিতে নালিশ করে দিলে ক্লাবকে গুনতে হবে জরিমানা।’ দেশের বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের ফুটবল ক্লাব হয়েও তাদের অর্থচিন্তা শুরু হয়েছে। কারণ করোনার থাবায় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য একরকম বন্ধ। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় চলা শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবেরও দুশ্চিন্তা শুরু হয়েছে পাঁচ বিদেশির বেতন নিয়ে। ক্লাবের ফুটবল কমিটির কর্মকর্তা আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নু বলেছেন, ‘বিদেশিদের বেতন আর অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া ধরলে আমাদের মাসে খরচ প্রায় ৪০ লাখ টাকার মতো। খেলা না চললে এটা হয়ে যায় বাড়তি চাপ। এভাবে কত দিন চলবে, আমরা কেউ জানি না। বিদেশিদের বেতনের ইস্যু নিয়ে আমরা বাফুফেকে অনুরোধ করেছি একটা সমাধানের রাস্তা খুঁজতে। ক্লাব-খেলোয়াড় দুই পক্ষকেই একটা সমঝোতার মধ্যে আসতে হবে।  ক্লাবগুলোকেও এই ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বসতে হবে।’  

দু-একটা ক্লাবের সমস্যা নয়, প্রিমিয়ারের সব ক্লাব বিদেশিদের বেতন-ভাতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে। কিংস প্রেসিডেন্ট ইমরুল হাসান আরেকটি শঙ্কার কথা বলেছেন, ‘বসিয়ে কয়েক মাস বেতন দেওয়ার পর যখন খেলা শুরু হবে তখন দেখা যাবে বিদেশিদের সঙ্গে ক্লাবের চুক্তি শেষ হয়ে গেছে। সব দিক দিয়ে ক্লাবগুলো বিপদে। ব্যাপারটা যদি এমন হয়, খেলা বন্ধ থাকলে তাদের চুক্তি স্থগিত থাকবে, ওই সময় বেতন দিতে হবে না। খেলা শুরু হলে আবার বেতন পাবে। কারণ এটা বৈশ্বিক সমস্যা। যেভাবেই হোক একটা সমাধানের রাস্তা খুঁজতে হবে।’ ফ্রান্সের লিঁও ইতিমধ্যে খেলোয়াড়দের বেতন কর্তন করেছে। বার্সেলোনার মতো ধনী ক্লাবও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফুটবলারদের বেতন কমানোর প্রস্তাব করেছে। বাংলাদেশের বেলায়ও তা হতে পারে। এ জন্য ক্লাবগুলো বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে অনুরোধ করেছে, ফিফা-এএফসির সঙ্গে যোগাযোগ করে একটা গাইডলাইন ঠিক করতে। এটাকে সামনে রেখে তখন ক্লাবগুলো কথা বলতে পারবে বিদেশি ফুটবলারদের সঙ্গে।

ফিফা-এএফসিও এ নিয়ে ভাবছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের ফুটবল এখন বন্ধ। তাই ক্লাবগুলোও পড়েছে বড় ক্ষতির মুখে। আর বিশ্ব ফুটবলে এটা একদম নতুন সমস্যা। তাই ফিফাও খুঁজছে উত্তরণের পথ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা