kalerkantho

সোমবার । ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৫  মে ২০২০। ১ শাওয়াল ১৪৪১

মানবিক ভাবনার সঙ্গে ক্ষতির আশঙ্কাও

২৬ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মানবিক ভাবনার সঙ্গে ক্ষতির আশঙ্কাও

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ‘উই নট গিভিং আপ’ হ্যাশ ট্যাগে ছড়িয়ে পড়া ডিজে ব্রাভোর গানের প্রথম দুটি লাইনই সারা বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি বুঝিয়ে দিচ্ছে। গৃহবন্দি হয়ে থাকা এই ক্যারিবীয় অলরাউন্ডারের নতুন কথা আর সুরে বাঁধা গানের শুরুটা এ রকম, ‘ইটস আ ব্যাড সিচুয়েশন, ইটস আ স্যাড সিচুয়েশন।’ আসলেই তাই। খারাপ পরিস্থিতি, যা একই সঙ্গে দুঃখজনকও। কবে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসবে সারা বিশ্ব, তা জানে না কেউই। তবে এটি কমবেশি সবারই জানা যে এই পরিস্থিতি চলে গেলেও এর ছাপ ঠিক রেখে যাবে। যার পরিপ্রেক্ষিতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়ছে বা পড়বে এর বিরূপ প্রভাব।

যার প্রভাবমুক্ত থাকছে না বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনও। অর্থের অঙ্কে ক্ষয়ক্ষতির গণনাও এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে অনেক জায়গায়। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ক্রিকেটও। প্রায় শেষ পর্যায়ে এসেও করোনাভাইরাস আতঙ্কে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) স্থগিত হয়ে যাওয়ায় ২০০ মিলিয়ন রুপি লোকসানের খবর এসেছে। এটি তো পাকিস্তানের ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসর। এর বাইরে একের পর এক আন্তর্জাতিক সিরিজও পিছিয়ে গেছে অনির্দিষ্টকালের জন্য। এমনকি পিছিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় বৈশ্বিক ক্রিকেটায়োজনও। ঘরোয়া সব আয়োজন পিছিয়ে দেওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) দুশ্চিন্তায় আসন্ন অনেক সিরিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে। দেশের সবচেয়ে ধনী ক্রীড়া ফেডারেশনের প্রত্যাশিত আয়-রোজগারকেও যা ব্যাপক প্রভাবিত করবে বলে আশঙ্কা।

যদিও আপাতত সেই আশঙ্কার কথা ভুলেই থাকতে চাইলেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, ‘আর্থিক ক্ষতির চেয়ে আমরা মানবিক দিককেই আপাতত বেশি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। ক্ষতি কী হচ্ছে, সেটি নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা তখনই করতে পারব, যখন পরিমাণটা জানব। এটি বৈশ্বিক সংকট। মানবিক ব্যাপারটিকেই তাই বিবেচনা করছি।’ অবশ্য সেই সঙ্গে তিনি এটিও মানছেন যে, ‘বার্ষিক আয়ের একটি লক্ষ্যমাত্রা তো থাকেই। এই সংকটে কী প্রভাব পড়ে, সেটি আরো পরে বোঝা যাবে। আমরা তো বিভিন্ন উৎস থেকে আয় করে থাকি। এখন দেশের অর্থনীতিতে যদি এই সংকটের প্রভাব পড়ে, তাহলে বিসিবিও এর প্রভাবমুক্ত থাকবে না। এটি চিন্তার জায়গা অবশ্যই।’ বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার মানসিক প্রস্তুতিও তাই নিয়ে রেখেছেন তারা, ‘ক্ষতি কী রকম বা কোন পর্যায়ে যাবে, তা এখনো বলা যাচ্ছে না। এই সংকট কত দিন থাকে, তার ওপর নির্ভর করবে অনেক কিছু। এই মুহূর্তে কোনো কিছুই বলা সম্ভব নয় এ জন্যই যে আপনিও জানেন না, আমিও জানি না এই পরিস্থিতি কত দিন বিরাজ করবে। এটি কত দিন স্থায়ী হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে আমরা কতখানি ক্ষতিগ্রস্ত হলাম। বিশ্ব অর্থনীতিতে এর একটি ধাক্কা আসবেই। এতে অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমরাও বাদ যাব না। আমরা তো বিশ্বের বাইরে না।’

অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে করোনা পরিস্থিতির আগেও খুব আশাব্যঞ্জক চিত্র ছিল না। নতুন মেয়াদে জাতীয় দলের টাইটেল স্পন্সর চেয়ে দরপত্র আহ্বান করেও কোনো প্রতিষ্ঠানের সাড়া পায়নি বিসিবি। পরে আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আগ্রহী করে তোলার চেষ্টাও বর্তমান পরিস্থিতিতে থমকে গেছে। এই প্রক্রিয়াকে কবে আবার গতিশীল করা যাবে, নেই সে নিশ্চয়তাও। আবার সংকট কেটে গেলেও পরিবর্তিত আর্থিক বাস্তবতায় খুব সহজে টাইটেল স্পন্সর মেলার কথা নয়। এই একটিই নয়, করোনা পরিস্থিতি যে এ রকম কত সংকটের পথ খুলে রাখছে। বিসিবির আয়ের সবচেয়ে বড় খাত বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির রাজস্বের ভাগ পাওয়া। করোনায় সেই ভাগও কমে যেতে পারে, ‘আইসিসির গ্লোবাল মার্কেটিং কিভাবে হয়, তার ওপর নির্ভর করবে। আইসিসিরও আয়ের একটি লক্ষ্যমাত্রা থাকে। সেই আয় যদি কম হয়, তাহলে সদস্য দেশগুলোর ওপর তা আসতেই পারে।’ বিসিবি প্রধান নির্বাহী অবশ্য আশাবাদী যে খুব সহসাই সেই ক্ষতির মুখে পড়তে হবে না, ‘তবে আমার ধারণা, ২০২৩ সাল পর্যন্ত আইসিসির যে লক্ষ্যমাত্রা, এখনই তারা প্রায় এর কাছাকাছি চলে গিয়েছে। সে রকম বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন তাই আসবে বলে মনে হয় না। তার মানে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চিন্তা করার কিছু আছে বলে মনে হয় না। কিন্তু এরপর কী হবে, সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা