kalerkantho

বুধবার । ২৫ চৈত্র ১৪২৬। ৮ এপ্রিল ২০২০। ১৩ শাবান ১৪৪১

ফুটবলের নির্বাচন ২০ এপ্রিল

২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফুটবলের নির্বাচন ২০ এপ্রিল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে। বাফুফের ১৮তম সভায় আগামী ২০ এপ্রিল ফুটবলের নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ উপলক্ষে মেজবাহউদ্দিন আহমেদকে প্রধান করে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন।

ফুটবলে নির্বাচনী হাওয়া শুরু হয় বেশ আগেই। বর্তমান কমিটির কর্মকাণ্ডের ওপর নানামুখী আলোচনা-সমালোচনায় মাঠ গরমও হয়েছিল। তবে তরফদার রুহুল আমিনের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় নির্বাচনী উত্তাপ এখন খানিকটা কম। তখনই বাফুফে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০ এপ্রিল নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে। সভা শেষে বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী জানিয়েছেন, ‘আমাদের মেয়াদ শেষের দিকে। আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০ এপ্রিল বাফুফের এই কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও এবার নির্বাচন একটু এগিয়ে আনা হয়েছে। মাহে রমজানের কথা ভেবে আমরা নির্বাচন ১০ দিন এগিয়েছি। অর্থাৎ আগামী ২০ এপ্রিল নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বাফুফে সভায়।’ এই দিন হবে ফুটবলের আগামী মেয়াদের কমিটি নির্বাচন। ২১ সদস্যের এই কমিটির বিন্যাস হলো—একজন সভাপতি, পাঁচজন সহসভাপতি এবং ১৫ জন সাধারণ সদস্য। গতবার ১৩৪ জন কাউন্সিলরের ভোটে নির্বাচিত হয়েছিল বর্তমান কমিটি। এবার কাউন্সিলর সংখ্যা দু-একজন কমবেশি হবে। নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু করার পর তা চূড়ান্ত  হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার সেই মেজবাহউদ্দিন আহমেদ। এই সাবেক আমলা ২০০৮ সাল থেকে ফুটবলের নির্বাচনের গুরুদায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দুই সহকারী পাসপোর্ট অফিসের সাবেক পরিচালক মাহফুজুর রহমান সিদ্দিকী এবং সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহের হোসেন সাজু। তবে নির্বাচন এবার র‌্যাডিসন হোটেল ছেড়ে ফিরছে বাফুফে ভবনে। সালাম মুর্শেদী এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে, ‘নির্বাচন হবে বাফুফে ভবনে। এবার কোনো ঝুঁকি দেখছি না আমরা। আমাদের কাউন্সিলররা অনেক ভদ্র এবং মার্জিত। আমি মনে করি, ফুটবলের নির্বাচন কোনো হোটেলে না করে ফুটবলের জায়গায় করাই ভালো।’ চার বছর আগে ফুটবলের নির্বাচনকে ঘিরে চারদিকে এক অস্থির পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। চট্টগ্রাম আবাহনীর সংগঠক তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিন মাঠে থাকলে হয়তো এবারও সেরকম অবস্থা হতো। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি সভাপতি পদে নির্বাচন না করার ঘোষণা দেওয়ায় পরিবেশ আপাতত শান্ত। এর পরপরই বাফুফের বর্তমান কমিটির এক সহসভাপতি বাদল রায় বিদ্রোহ করায় পরিস্থিতি খানিকটা ঘোলাটে হয়। সপ্তাহখানেক আগে সভাপতি প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়া সাবেক এই ফুটবল তারকা বলেছেন, ‘নির্বাচনের ঘোষণায় আমি খুশি। ফুটবলে নিশ্চয় এবার পরিবর্তন আসবে। ফুটবল তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। আমি আশা করি, এই নির্বাচনে ফুটবল আবার ঘুরে দাঁড়াবে।’ নতুন নির্বাচনী টুইস্ট না আসা পর্যন্ত ফুটবলের নির্বাচন এখনো পর্যন্ত  কাজী সালাউদ্দিন বনাম বাদল রায়।

বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদী মনে করেন, ‘নির্বাচন মানেই বিভ্রান্তি। এ সময় নানা রকম কথা হবে। আমরা চেষ্টা করেছি ফুটবলকে এগিয়ে নেওয়ার। জাতীয় দল সাফল্য না পেলেও বয়সভিত্তিক দলগুলো ভালো করেছে।’ তবে তাদের সাফল্য-ব্যর্থতা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে সন্তুষ্ট। কাজী সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে আমরা গত চার বছরে অনেক কর্মকাণ্ড করেছি। তবে  সার্টিফিকেট দেওয়ার অধিকার আমার নেই। কাজের মূল্যায়ন করবে অন্যরা।’ মূল্যায়নের ভোট হবে  ২০ এপ্রিল।

এ ছাড়া টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে স্টুয়ার্ট ওয়াটকিসকে। মাত্র তিন মাসের জন্য জাতীয় দলের এই সহকারী কোচকে এই পদ দেওয়া হয়েছে। অথচ ফুটবলে জাতীয় দলের প্রধান কোচেরও ওপরের পদ টেকনিক্যাল ডিরেক্টর!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা