kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

জয় ছাড়া ভাববে কেন বাংলাদেশ!

২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জয় ছাড়া ভাববে কেন বাংলাদেশ!

ছবি : মীর ফরিদ, সিলেট থেকে

সিলেট অফিস : সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে একটি টেস্ট খেলে হেরেছে বাংলাদেশ। দুটি টি-টোয়েন্টির হেরেছে দুটিতেই। কিন্তু একমাত্র যে ওয়ানডে, জয় তাতে। এ মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে জয়ের প্রত্যাশা তো তাই করতেই পারে বাংলাদেশ।

সিরিজের আবহে মাশরাফি বিন মর্তুজাকে নিয়ে আবার প্রবল আলোচনা। এটি অধিনায়ক হিসেবে তাঁর শেষ সিরিজ হবে কি না, সে প্রশ্ন চারদিকে। অমনটা হলে এ সিরিজের গুরুত্ব হবে অন্য রকম। তা ছাড়া টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের পর এখন জয় ছাড়া ভিন্ন কিছু নেই বাংলাদেশের ভাবনায়।

সিলেট স্টেডিয়ামে কাল বিকেলে পুরোমাত্রায় অনুশীলন করে স্বাগতিকরা। সেখানে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার কাজটা করেছেন সবাই। এক নম্বর নেটে বল হাতে মাশরাফি আর ব্যাট হাতে তামিম। জাতীয় দলের সঙ্গে অনুশীলনে বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন ফুরফুরে মেজাজে। বোলিং করেছেন ওভার পাঁচেক। শুরুতে ছোট রান আপে, পরবর্তীতে নিয়মিত রান আপে দেখা গেছে। তামিমকে বেশ ভুগিয়েছেনও নেটে। বোলিং অনুশীলন শেষে ব্যাট হাতেও মাশরাফি প্রস্তুত করে নেন নিজেকে। এরপর কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ। ওয়ানডে সিরিজের পরিকল্পনাই যে তাতে গুরুত্ব পেয়েছে, সেটি বলাই বাহুল্য।

অনুশীলনে দৃষ্টি ছিল মাশরাফির দিকেই। তবে এ দিন যে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন না, সেটি অনুমিত। দলের প্রতিনিধি হিসেবে আসেন অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ইনজুরির ধকল কাটিয়ে জাতীয় দলে তাঁর প্রত্যাবর্তন পাঁচ মাস পর। ফেরার আনন্দই বেশি করে ফুটে ওঠে তাঁর কথায়, ‘এত দিন পর আবার মাঠে নামার সুযোগ হচ্ছে। এই দিনটারই অপেক্ষায় ছিলাম কবে ফিরব। অবশেষে ফিরতে পেরে অনেক ভালো লাগছে।’ তবে শুধু ফেরার খুশিতে বিভোর নেই সাইফউদ্দিন। মাঠে পারফরম করার জন্যও মুখিয়ে আছেন, ‘এখন আমি সব কিছু নতুনভাবে শুরু করতে চাই। এ জায়গাটাই এমন। পারফরম না করলে জায়গা হারাতে হবে। নির্বাচকরা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। এর প্রতিদান মাঠে দিতে চাই।’ আর সিরিজ শুরুর আগে জয় ছাড়া যে অন্য কিছু দলের ভাবনায় নেই, সেটাও জানালেন, ‘টেস্ট ম্যাচটাতে জয় পাওয়ায় আত্মবিশ্বাস আমাদের অনেক বেশি। সেটা ধরে রেখেই ওয়ানডে সিরিজে খেলে যাব। আশা করি এখানেও শুরুটা দারুণ হবে।’

এদিকে টেস্টে বড় হারের পর জয়ে ফিরতে চায় জিম্বাবুয়ে। গতকাল মাঠে দীর্ঘ সময়ের নিবিড় অনুশীলনে তা বোঝা গেছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অনুশীলনে নামে সফরকারীরা। চলে টানা বেলা ২টা পর্যন্ত। অনুশীলন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক চামু চিবাবা। সিলেটের উইকেটের প্রশংসার পর জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করার ব্যগ্রতা ফুটে ওঠে তাঁর কথায়, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে আমরা শেষ জিতেছিলাম সাত বছর আগে। এবার তা পরিবর্তন করে জয়ের লক্ষ্যে নামব আমরা।’ পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারলে সেটি অসম্ভব মনে হচ্ছে না, ‘আমাদের দলে অনেক নতুন ক্রিকেটার। অভিজ্ঞতা কম। তার পরও যে পরিকল্পনা রয়েছে, সেটা কাজে লাগাতে পারলে জয় পাওয়া সম্ভব।’ এ ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ দলে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন, ‘সাকিব না থাকাটা আমাদের জন্য বড় সুযোগ। এ সুযোগটা হাতছাড়া করতে চাই না। সাকিব না থাকা মানে বাংলাদেশের একজন করে বোলার ও ব্যাটসম্যান কমে যাওয়া। এ সুযোগটাই আমরা নিতে চাইব।’

দীর্ঘ সংস্কারের পর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম এখন যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো অবস্থায়। উইকেট স্পোর্টিং হবে বলে সবার ধারণা। যেখানে বোলাররা যেমন সুবিধা পাবেন, ব্যাটসম্যানরাও তেমন রান পাবেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক এবং সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরীর আশা তেমনই। তাঁর কথার প্রতিধ্বনি জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক চামু চিবাবারও, ‘এখানে প্রচুর রান হবে। সকালে উইকেট দেখে মনে হয়েছে ব্যাটিং সহায়ক পিচ হবে। জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচ হবে বলে আশা করছি।’

ওয়ানডেতে প্রায় সাত বছর ধরে জিম্বাবুয়ের কাছে হারেনি বাংলাদেশ। সিলেটের মাঠে একমাত্র জয়ও এ ফরম্যাটে। জয় ছাড়া তাই অন্য কিছু ভাববে কেন মাশরাফির দল?

মন্তব্য