kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

রিয়ালের মাঠে সিটির উৎসব

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রতিপক্ষ চ্যাম্পিয়নস লিগের ‘রাজা’ রিয়াল মাদ্রিদ। খেলাটাও তাদের মাঠে। অথচ সেরা চার তারকা সের্হিয়ো আগুয়োরো, রহিম স্টার্লিং, দাভিদ সিলভা, ফের্নানন্দিনহোকে বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছিলেন পেপ গার্দিওলা! ‘ফলস নাইন’ হিসেবে খেলিয়েছেন কেভিন ডি ব্রুইনকে। এই জুয়াতেই সফল ম্যানচেস্টার সিটি। নকআউটের প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারিয়েছে তারা। এক গোল করে, আরেকটি করিয়ে ম্যাচসেরা ডি ব্রুইন।

চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের বিপক্ষে এটাই প্রথম জয় ম্যানসিটির। আর জিদানের অধীনে নকআউটে টানা ১২ ম্যাচ পর প্রথম হার রিয়ালের। ৭৭ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে ছিল জিনেদিন জিদানের দল। পরের ১০ মিনিটে ম্যানসিটির দুই গোলের পাশাপাশি সের্হিয়ো রামোসের লাল কার্ডে সর্বনাশটা হয়েছে রিয়ালের। ম্যাচ শেষে এই ১০টা মিনিট মনোযোগ ধরে রাখতে না পারার আফসোস করেছেন জিনেদিন জিদান।

অপর ম্যাচে অলিম্পিক লিওঁ অপ্রত্যাশিতভাবে ১-০ গোলে হারিয়েছে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর জুভেন্টাসকে। পুরো ৯০ মিনিটে একটা শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি ইতালিয়ান জায়ান্টরা! জুভেন্টাসের বিপক্ষে ফ্রান্সের ঐতিহ্যবাহী দলটির প্রথম জয় এটা।

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বিরতির আগে গোল পায়নি রিয়াল মাদ্রিদ বা ম্যানসিটি। সেল্তা ভিগোর সঙ্গে ড্র আর লেভান্তের মাঠে হেরে যাওয়া রিয়ালের উল্লেখ করার মতো প্রথম আক্রমণ ২৯ মিনিটে। করিম বেনজিমার হেড গোলরক্ষক এদেরসন ফেরালে বল এসে পড়ে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের পায়ে। সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি এই তরুণ। তবে বিরতির ১০ মিনিট পর এগিয়ে যায় রিয়াল। রক্ষণের দুই খেলোয়াড়ের মাঝখান দিয়ে বাড়ানো ভিনিসিয়াসের দুর্দান্ত পাস থেকে লক্ষ্যভেদ করেন ইসকো।

ম্যানচেস্টার সিটি সমতা ফেরায় ৭৬তম মিনিটে। ডি ব্রুইনের ক্রসে নেওয়া হেডে গোল গ্যাব্রিয়েল জেসুসের। এর পর থেকে দ্রুত বদলে যায় খেলার ছবি। বদলি খেলোয়াড় রহিম স্টার্লিংকে ডি-বক্সে দানি কারভাহাল ফাউল করলে পেনাল্টি পায় সিটি। স্পট কিক জালে জড়াতে ভুল করেননি ডি ব্রুইন। ৮৬ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে পেছন থেকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন রামোস। রিয়ালের হয়ে ২৬ আর চ্যাম্পিয়নস লিগে এটা চতুর্থ লাল কার্ড তাঁর। শেষদিকের ১০টা মিনিটে সর্বনাশ হওয়ার কথা মেনে নিলেন জিদান, ‘এখনো সব শেষ হয়ে যায়নি। আমাদের ওদের মাঠে যেতে হবে আর ২ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে। আমরা ভালোই খেলেছি, কিন্তু শেষ ১০ মিনিট বদলে গেলাম। ভুল করলাম, যা ভুগিয়েছে দলকে। সিটির মতো দলের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট মনোযোগ ধরে রাখা উচিত ছিল আমাদের।’ ইউরোপে আগামী মৌসুমে নিষিদ্ধ ম্যানসিটি ম্যানেজার পেপ গার্দিওলাও কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত ধরে নিচ্ছেন না, ‘রিয়াল রক্ষণের ছক দেখেই কোনো ফরোয়ার্ড খেলাইনি। আমরা এখানে জেতার চেষ্টা করতে এসেছিলাম আর জিতেছি। এটা শুধু প্রথম অংশ। কারণ এই পরিস্থিতি থেকে কোনো দল ঘুরে দাঁড়াতে পারলে সেটা রিয়ালই পারবে।’

অলিম্পিক লিওঁর মাঠে চতুর্থ মিনিটে গোলের সুযোগ নষ্ট করে জুভেন্টাস। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর দারুণ ক্রসে পা ছোঁয়াতে পারেননি হুয়ান কুয়াদ্রাদো। নিজেদের মাঠ বলেই বিরতির আগে গোলের জন্য বেশি মরিয়া ছিল লিওঁ। এ সময় তারা পোস্টে শট নিয়েছে ১০টি আর জুভেন্টাস চারটি। তবে জুভেন্টাসের কোনো শটই ছিল না লক্ষ্যে। একের পর এক আক্রমণের ফসল হিসেবেই ৩১ মিনিটে প্রথম গোল লিওঁর। লুকাস তুজার দুর্দান্ত ভলিতে এগিয়ে যায় ফরাসি দলটি।

বিরতির পর পাউলো দিবালার শট খুব কাছ থেকে অপ্রত্যাশাতিভাবে বাইরে মারেন গনসালো হিগুয়াইন। শেষদিকে দিবালা একবার বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল হয়নি সেটা। ম্যাচ শেষে জুভেন্টাস কোচ মরিসিও সারির হতাশা, ‘বিরতির আগে বলের দেয়া-নেয়া খুব ধীরে করেছি আমরা। বিরতির পর গতি বেড়েছিল। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগ এক অর্ধের খেলা নয়।’ জুভেন্টাসকে আটকে লিওঁ ম্যানেজার রুদি গার্সিয়ার সন্তুষ্টি, ‘জুভেন্টাসকে প্রথমবার হারানোটা দুর্দান্ত। বিরতির পর ওরা চার ফরোয়ার্ড নামায়। আমরা সবাই মিলে তাই রক্ষণ সামলাই।’ এএফপি

মন্তব্য