kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

এমন ট্র্যাকে বাংলাদেশ গেমস!

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




এমন ট্র্যাকে বাংলাদেশ গেমস!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দেশের অ্যাথলেটিকসের অবস্থা জানতে অ্যাথলেটদের টাইমিং দেখার প্রয়োজন নেই। একবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের অ্যাথলেটিকস ট্র্যাক দর্শন করে নিলেই পরিষ্কার ধারণা হয়ে যাবে এখানকার অ্যাথলেটিকসের। ট্র্যাকের বিভিন্ন জায়গায় ফেটে গেছে, কোথাও কোথাও ফুলে উঠেছে। অ্যাথলেটদের বিবেচনায়, ‘এই ট্র্যাকের চেয়ে মাঠে দৌড়ানো অনেক ভালো।’ কারণ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে মেয়াদোত্তীর্ণ ট্র্যাকটি। কিন্তু এখানেই হবে বাংলাদেশ গেমস!

এই ট্র্যাকের বয়সও হয়েছে অনেক। ২০০৬ সালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বসানো হয়েছিল এই ট্র্যাক। কিন্তু ছয়-সাত বছর পর থেকে তাতে নানা সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তখন লোকজন দিয়ে ফেটে যাওয়া জায়গাগুলো জোড়া লাগাত। সেটা ঢাকার রাস্তা মেরামতের মতোই সংস্কার। পিচঢালা রাস্তার খানাখন্দগুলো যেমন ইট-বালি-সুরকি দিয়ে ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা হয়। ট্র্যাকের ফেটে যাওয়া জায়গাগুলোতে এভাবে পট্টি মারা হয়েছে, এ রকম বহু পট্টিতে ভরা ট্র্যাকটি দেখলেই বোঝা যায় এ দেশে অ্যাথলেটিকসের কী করুণ হাল। অবশ্য ট্র্যাকের এত বাজে অবস্থা না হয়েও উপায় নেই। কখনো তার সেভাবে রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি, খেলার বাইরে নানা অনুষ্ঠানের মঞ্চ করায় এর ক্ষতি হয়েছে বেশি। অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টুর চোখে এটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ট্র্যাক, ‘এই ট্র্যাকে অ্যাথলেটদের ইনজুরি হতে পারে যেকোনো সময়। এটার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অনেক আগে। এ ছাড়া আর্মি স্টেডিয়ামের ট্র্যাকও এটার মতো জোড়াতালি দেওয়া।’ সাতবারের দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তারও বলছেন, ‘এই ট্র্যাকে এখন অ্যাথলেটিকস করা কঠিন। আমি বিপদে না পড়লে এখানে ট্রেনিং করতেও আসি না।’

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে এ প্রসঙ্গ তুললে তারা দেখান বিশাল কমপ্লেক্সের স্বপ্ন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম নতুন করে সাজানোর জন্য ১০০ কোটি টাকার একটা পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেটি অনুমোদিত হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কাজ দৃশ্যমান হয়নি। বাংলাদেশ গেমসের আগে ট্র্যাকের অবস্থা উন্নয়নেরও কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়ে দিয়েছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সচিব মাসুদ করিম, ‘এখন কিছু করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ গেমসের আগে তো সময়ও নেই। স্টেডিয়ামকে নতুন করে সাজানোর জন্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা আছে। তখন নতুন ট্র্যাক বসানো হবে এখানে।’ সেই স্বপ্নের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কখন হবে, কেউ জানে না। তাই বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুনও চিন্তিত, ‘ট্র্যাকের যে অবস্থা শুনেছি, তাতে এখানে কিভাবে অ্যাথলেটিকস হবে আমি জানি না। অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনকে বলেছি, বিকল্প কিছু চিন্তা করার জন্য।’ কিন্তু অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের কাছেও বিকল্প তেমন নেই। বিকল্প বললে, সোজা বিকেএসপিতে চলে যেতে হবে। দলগুলো যেহেতু ঢাকায় থাকবে তাই সেটাও কতটা বাস্তবসম্মত হবে তা নিয়ে চিন্তা করছেন ফেডারেশন সম্পাদক।

আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুরু হবে ১০ দিনের বাংলাদেশ গেমস। এর অ্যাথলেটিকস ভেন্যু নিয়েই বিপাকে পড়েছে বিওএ এবং ফেডারেশন। বিওএ একটা প্রস্তাবনা দিয়েছে, ফিল্ডের ইভেন্টগুলো বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে করে ট্র্যাকের ইভেন্টগুলো অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া যায় কি না। সে ক্ষেত্রে বিকেএসপির ট্র্যাকে হতে পারে এই ইভেন্টগুলো। তবে ফেডারেশন চাইছে সব কিছু বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে করতে। তাদের যুক্তি এটাই অ্যাথলেটিকসের জায়গা, সবাই দেখতে আসবে এই স্টেডিয়ামে। কয়েক মাস আগে জাতীয় অ্যাথলেটিকস চট্টগ্রামে হলেও তার আগে অ্যাথলেটিকসের সব আয়োজন হয়েছিল ঢাকার এই ট্র্যাকে। এ রকম কিছু হলেই  ফেডারেশন নানা কায়দা-কানুন করে জোড়াতালি দিয়ে ট্র্যাকের ফাটলগুলো সারিয়ে তোলে। বাংলাদেশ গেমসেও সেরকম আপৎকালীন করতে চাইছে তারা। আবার ট্র্যাক একেবারে বাদ দিয়ে হলেই বা ক্ষতি কী! কিছুদিন আগে চট্টগ্রামেই তো ঘাসের মাঠে হয়েছে জাতীয় অ্যাথলেটিকস। গেমসেও না হয় তাই হলো বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠে। রুগ্ণ অ্যাথলেটিকসের জীর্ণ ট্র্যাকে তখন আলো পড়বে বেশি। নড়চড়ে বসবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদও।

মন্তব্য