kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

মাঠে বিজেএমসির জায়গা নিচ্ছে পুলিশ

শাহজাহান কবির   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাঠে বিজেএমসির জায়গা নিচ্ছে পুলিশ

‘বিজেএমসি খেলোয়াড় কমিয়ে আনছে, এটা আমিও শুনেছি। আর শুনেছি কি! আমরা নিজেরাই (কাবাডি ফেডারেশন) তো এর ভুক্তভোগী। মেয়েদের কাবাডিতে মূলত দুটিই দল ছিল এত দিন— আনসার ও বিজেএমসি। সর্বশেষ টুর্নামেন্টে সেই বিজেএমসিই দল গড়ল না। আমাদের তো মেয়েদের কাবাডি চালিয়ে নেওয়াই কঠিন হয়ে যায় তখন। শেষে আমরা পুলিশ থেকেই মেয়েদের দল গড়লাম। পুলিশের ছেলেদের দল আগেই ছিল, যুক্ত হলাম মেয়েদের কাবাডিতেও’—বলছিলেন কাবাডি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক ও বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি  (ডেভেলপমেন্ট) গাজী মোজাম্মেল হক।

ছবিটা বড় উদাহরণ এই মুহূর্তের ক্রীড়াঙ্গনের। একসময়ের প্রতাপশালী বিজেএমসির খেলাধুলায় অবস্থান ক্রমে রুগ্ণ হতে হতে এখন তা প্রায় বন্ধ হওয়ারই উপক্রম। দেশের পাটকলগুলো এমনিতেই আর্থিক ক্ষতির মধ্যে আছে। শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়েই কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে তাদের। সেখানে খেলাধুলার জন্য অর্থ খরচ বিজেএমসির সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দেয়। গত মাস দেড়েক আগে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিজেএমসির অধীনে দৈনিক মজুরিভিত্তিক যত অস্থায়ী শ্রমিক আছে সবার নিয়োগ বাতিল করা হয়। সেই দলে প্রায় আড়াই শ খেলোয়াড়ও পড়ে গেছেন। বিজেএমসির খেলোয়াড়রা মূলত ওই অস্থায়ী শ্রমিক শ্রেণিতে ক্রীড়াঙ্গন নিজেদের অংশগ্রহণ ধরে রাখছিলেন। নতুন সিদ্ধান্তে সেই খেলোয়াড়দের চাকরি চলে যায়। যদিও কাল বিজেএমসির চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ ঢালাওভাবে খেলোয়াড়দের চাকরিচ্যুত করার বিষয়টি বলতে রাজি হননি, ‘অস্থায়ী শ্রমিকদের ব্যাপারেই মূলত এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাতে খেলোয়াড় কয়জন পড়েছে সঠিক সংখ্যাটা আমি বলতে পারব না। আর খেলাধুলার বিষয়ে নতুন একটি কমিটি করা হয়েছে। জানেন তো বিজেএমসি কি আর্থিক সমস্যার মধ্যে আছে। এর মধ্যে আমরা খেলোয়াড়দের ধরে রাখতে পারব কি পারব না তা সরকারি নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে।’ জানা গেছে আড়াই শ খেলোয়াড় থেকে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে আবার একশজন খেলোয়াড়কে ধরে রাখার ব্যাপারে নতুন করে আলোচনা করেছে কমিটি। সামনে বাংলাদেশ গেমসে সীমিত আকারে হলেও যেন অংশগ্রহণ থাকে। এই বিজেএমসি জাতীয় অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, উনিশবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সাইক্লিংয়ে, এগারবার হ্যান্ডবল,  চ্যাম্পিয়নশিপ আছে ভলিবল, কাবাডিতেও। উশু, ভারোত্তোলন, তায়কোয়ান্দো, জিমন্যাস্টিকসসহ প্রায় সব খেলায় তারা বড় শক্তি ছিল। এখন শখানেক খেলোয়াড় নিয়ে শুধু হয়তো তাদের টিকে থাকাটাই সম্ভব হবে। মোহামেডান, আবাহনীর পাশাপাশি একসময় ফুটবলেও দাপট দেখানো দলটি ২০১১-তে আবার নতুন করে পেশাদার লিগে নাম লিখিয়েও নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারেনি। প্রিমিয়ার থেকে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে নেমে গেছে তারা। কিন্তু চ্যাম্পিয়নশিপেও খেলছে না এবার, অর্থাৎ ফুটবল থেকেই নাম উঠিয়ে নিয়েছে।

সেখানে পুলিশ নতুন করে ক্রীড়াঙ্গনকে আলোকিত করতে শুরু করেছে। বিজেএমসি ছাড়া তিন বাহিনী—সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীতেই এত দিন বেঁচে আছে ক্রীড়াঙ্গন। ছিল পুলিশও। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে শুধু থাকার জন্য থাকা না, পুলিশ আবার এমন জোরালোভাবে নিজেদের মেলে ধরছে যে অন্যদের জন্য তা নতুন অনুপ্রেরণাও হতে পারে। ডিআইজি মোজাম্মেল মেয়েদের কাবাডির একটা উদাহরণ তো দিয়েছেনই। ফুটবলেও একই ছবি। বিজেএমসির মতো দল যেখানে নিজেদের গুটিয়ে নিল, সেখানে পুলিশ প্রথমবারের মতো পেশাদার লিগে নাম লিখিয়েই স্বপ্ন দেখছে বড় কিছু করার। অভিষেক মৌসুমেই যে আটঘাট বেঁধে নেমেছে তারা লিগের দ্বিতীয় ম্যাচেই চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের কাছ থেকে পয়েন্ট কেড়ে নিয়ে সেটা এরই মধ্যে জানানও দিয়ে ফেলেছে দলটি। এই মুহূর্তে ৩২টি খেলায় পুলিশের অংশগ্রহণ আছে। যেসব খেলায় আগে তারা ছিল না, নতুন করে সেগুলোতেও এখন নাম লেখাচ্ছে পুলিশ। দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে নিজেদের মেলে ধরা তো আছেই, এই মুহূর্তে যে খেলাটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি মাতামাতি সেই আর্চারিতেও নতুন করে দল গড়তে যাচ্ছে তারা। প্রথমবারের মতো দল গড়তে যাচ্ছে টেবিল টেনিসে। আগামী মাসে প্রথম বিভাগ টেবিল টেনিস লিগেই যাত্রা শুরু হচ্ছে তাদের। সামনের বাংলাদেশ গেমসে এই পুলিশ দলকে দেখা যাবে ব্যাডমিন্টনেও। গত বছর প্রিমিয়ার লিগ দাবায় প্রথমবারের মতো নাম লিখিয়েই তো ইতিহাসই গড়েছে তারা অভিষেক মৌসুমে শিরোপা জিতে। ক্রীড়াঙ্গনে একদিকে বিজেএমসিকে নিয়ে তাই যেমন হতাশা, তেমন আশার আলোকচ্ছটাও আছে পুলিশের অংশগ্রহণ বাড়ায়। মোজাম্মেল হক বলছিলেন, ‘কৌশলগতভাবেই খেলাধুলায় আমরা আরো ভালোভাবে আসছি। কে না জানে তরুণসমাজ খেলাধুলায় যত বেশি সম্পৃক্ত থাকবে তত অপরাধ কমবে। ক্রীড়াঙ্গনের আমরা নিজেরাই তা একটা উৎসাহজনক পরিবেশ তৈরি করতে চাইছি।’

 

মন্তব্য