kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

এখন সিলেটে...

ফিরছে কি সেই পেসসজ্জা?

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফিরছে কি সেই পেসসজ্জা?

ছবি : আশকার আমিন রাব্বি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রায় শুরু থেকেই তিনি ‘ঠেকার কাজ’ চালানো পেসার। এমনকি সেটি টেস্ট ক্রিকেটেও। ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনের বিপক্ষেও একাদশে দ্বিতীয় কোনো পেসার না থাকায় সে ভূমিকা পালন করতে হয়েছিল সৌম্য সরকারকে! ভাবা যায়?

বিশেষ করে স্পিনের বিপক্ষে দারুণ সাবলীল ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের সামনেও স্পিনসজ্জায় সজ্জিত হয়েই ২০১৫-র জুনে ফতুল্লা টেস্ট খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। একাদশে একমাত্র স্বীকৃত পেসার হিসেবে রাখা হয়েছিল মোহাম্মদ শহীদকে। কাজ চালানোর পেসার হয়ে উঠেছিলেন দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঠিক আগের সিরিজেই অভিষিক্ত বাঁহাতি ব্যাটসম্যান সৌম্য।

যদিও নিজেদের ডেরায় টেস্ট খেলতে নামলে বাংলাদেশের রণপরিকল্পনা এমন থাকে যে একাদশে বরাবরই পেসারদের ঠাঁই হয় কম। কখনো কখনো তা-ও হয় না। গত সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টেই যেমন একাদশে কোনো পেসার ছিলেন না। সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে সেই ম্যাচে স্পিনসর্বস্ব বোলিং আক্রমণ নিয়েও অবশ্য শেষ রক্ষা হয়নি। ২২৪ রানের বিশাল পরাজয়ের ‘কলঙ্কতিলক’ও কপালে বসিয়ে দিয়েছিলেন রশিদ খানরা।

অবশ্য টেস্টে স্পিননির্ভরতায় প্রাপ্তির খাতায় বড় সাফল্যও টুকে নেওয়ার অতীত আছে বাংলাদেশের। মুশফিকুর রহিম টেস্ট অধিনায়ক থাকাকালীন ধীর গতির এবং নিচু বাউন্সের উইকেটে ক্রমাগত স্পিন লাগিয়ে দিয়ে ‘বধ’ করা গেছে ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়াকেও। ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা অবশ্য টেস্ট খেলেন না সেই ২০০৯ সাল থেকে। তবে তাঁর নেতৃত্বে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে চালু হওয়া চার পেসার খেলানোর রেওয়াজও সাফল্যের মুখ দেখিয়েছে। ২০১৫-তে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে ফেরা দলের একাদশে চার পেসার ভারতকেও চমকে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট ছিল। মাত্রই কয়েক দিন আগে ফতুল্লা টেস্টে যেখানে মাত্র এক পেসার নিয়ে নামে টাইগাররা, সেখানে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে খেলেন চার পেসার! সেই সিরিজেই ওয়ানডে অভিষেক মুস্তাফিজুর রহমানের। প্রথম দুই ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের নায়কের রাজকীয় উত্থানের শুরুও তখনই।

এরপর অনেক সময় পেরিয়েছে। দুঃসময়ের ঘূর্ণাবর্তে পড়েছেন মুস্তাফিজও। ২০১৯-এর বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স তাঁর অধিনায়ক মাশরাফিকে নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। গত জুলাইতে চোটের জন্য শ্রীলঙ্কা সফরে যেতে না পারা ওয়ানডে অধিনায়ক এবার জিম্বাবুয়ে সিরিজ দিয়েই আবার ফিরছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। তাঁর ফেরার সঙ্গে সঙ্গে কি ফিরছে একাদশে পেসারদের আধিক্যও? জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের জন্য ১৫ জনের দলে পাঁচ পেসারের উপস্থিতিকে (মাশরাফি-মুস্তাফিজ ছাড়াও আছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, শফিউল ইসলাম এবং আল-আমিন হোসেন) সে রকমই কোনো বার্তা বলে ধরতেও পারেন। অবশ্য আজ সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট দেখার আগে আগাম কোনো সিদ্ধান্তের খবরও নেই। আবার সিলেটের উইকেটও কিছুটা দ্বিধার অবকাশ রেখে দিয়েছে।

এমনিতে কিছুটা পেসবান্ধব বলে মনে করা হলেও বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ম্যাচগুলো মনে করিয়েছে অন্য কিছুই। ওই সময় কিছুটা ধীরগতির উইকেট এত দ্রুত আচরণ বদলে ফেলবে বলেও মনে হচ্ছে না সংশ্লিষ্টদের। তা ছাড়া শীত শেষে এখন কুয়াশার প্রকোপও নেই। তাই দিবারাত্রির ম্যাচের জন্য আগাম ছক কষার আগে উইকেটটি আগে ভালোভাবে পরখ করে নিতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১ মার্চের ম্যাচ দিয়েই আবার দেশের মাটিতে ওয়ানডে ফিরছে। এবং নিজেদের মাঠে বাংলাদেশ সবশেষ ওয়ানডেও খেলেছিল সিলেটেই। ২০১৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেটি ছিল সিরিজ নির্ধারণী ওয়ানডেও। ঢাকায় প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেটে জিতে বাংলাদেশ সিরিজে এগিয়ে গেলেও ক্যারিবীয়রা সমতা ফিরিয়েছিল পরের ওয়ানডেতেই। জিতেছিল ৪ উইকেটে। তবে সিলেটের ‘ফাইনাল’-এ ৮ উইকেটের অনায়াস জয়ে সিরিজ পকেটে ভরার দিন একাদশে ছিলেন তিনজন পেসার। মাশরাফি ও মুস্তাফিজের সঙ্গে ছিলেন সাইফউদ্দিনও। চোটের কারণে লম্বা সময় মাঠের বাইরে থাকার পর শেষেরজন এই সিরিজ দিয়েই আবার মাঠে ফিরছেন।

ফিরছেন মাশরাফিও। তাঁর সঙ্গে একাদশের বাড়তি পেসসজ্জাও ফিরছে কি না, অধিনায়কের ফেরা তৈরি করেছে সেই কৌতূহলও।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা