kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

বায়ার্নের দাপটের রাতে সাদামাটা বার্সা

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বায়ার্নের দাপটের রাতে সাদামাটা বার্সা

ডিয়েগো ম্যারাডোনার নেপলসে প্রথমবার খেলতে গেছেন লিওনেল মেসি। নেপোলিটানরা তাঁকে সাদর অভ্যর্থনাই জানিয়েছে। আগে যেমন ‘ডিয়েগো’ ‘ডিয়েগো’ বলে সব আবেগ ঢেলে দিত তারা, তেমনি মেসির নাম ধরে ডেকে ভালোবাসা জানিয়েছে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির উত্তরসূরির প্রতি। কিন্তু মাঠে মেসির ঝলমলে রাতগুলোর একটা ছিল না এদিন। কেকে সেতিয়েনের বার্সাকে তাই বেশ ভুগতে হয়েছে। আন্তোয়ান গ্রিয়েজমানের গোলে ১-১ ড্র নিয়ে ফিরতে হয়েছে তাদের।

তবে কে না জানে, প্রতিপক্ষের মাঠে গোল করে ড্র নিয়ে ফেরা দুই লেগের খেলায় একরকম জয়ই। চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ ষোলোয় এখনো তাই কাতালানরাই এগিয়ে। নেপলসে কী হয়েছে এদিন! মেসি গোল পাননি, অ্যাসিস্টও নেই। গ্রিয়েজমানের সমতা ফেরানো গোলটি ছাড়া পোস্টে কোনো শটই নেই বার্সার। এমন নয় যে নাপোলিই তেড়েফুঁড়ে খেলেছে। বলের দখল সব সময় বার্সারই বেশি। কিন্তু গোলের সেই পরিষ্কার সুযোগ একবারই এসেছে। ৩০ মিনিটে দ্রিস মের্টেন্সের অসাধারণ এক গোলের পর গ্রিয়েজমান সমতা ফেরান দ্বিতীয়ার্ধে। এরপর স্বাগতিকরাই সুযোগ পেয়েছিল জয়সূচক গোলের। কিন্তু আন্দের টের স্টেগান আরো একবার বার্সার ত্রাতা হয়েছেন হোসে কায়েহনের শটটা এগিয়ে এসে শরীর দিয়ে ফিরিয়ে দিয়ে।

লন্ডনে অবশ্য চেলসিকে বাঁচাতে পারেনি কেউ। গ্রুপ পর্বেই প্রতিবেশী টটেনহামকে ৭ গোলে ভাসিয়ে ফিরেছিল বায়ার্ন মিউনিখ। নক আউট রাউন্ডের প্রথম ম্যাচে চেলসিকে হারিয়েছে এদিন তারা ৩-০তে। টটেনহামের মাঠে সেদিন একাই চার গোল করা সার্জ জিনাব্রি স্টামফোর্ড ব্রিজেও উজ্জ্বল, করেছেন জোড়া গোল। অন্য গোলটি রবার্ত লেভানদোস্কির। নিজেদের মাঠে পরের লেগটা পেরিয়ে যাওয়া নিশ্চয় কঠিন হবে না বাভারিয়ানদের জন্য। সেই ২০১২- এর চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের পর এদিনই আবার প্রথম চেলসির মুখোমুখি হয়েছিল জার্মান ক্লাবটি। সেই ঝালটাই মিটিয়েছে নাকি তারা এত দিনে, কে বলতে পারে। রবার্তো দি মাত্তেওর অধীনে সেবার গড়পড়তা এক চেলসি সেমিফাইনালে বার্সার বাধা পেরিয়ে দিদিয়ের দ্রগবার ৮৮ মিনিটের গোলে ফাইনালটা নিয়ে যায় টাইব্রেকারে এবং শিরোপাও জেতে। ফ্রাংক ল্যাম্পার্ড ছিলেন সেই দলে। পরশু রাতে তিনি কোচের ভূমিকায় বায়ার্নের রোষটা ভালোই অনুভব করেছেন।

বার্সা ইতালিতে জয় পায় না সেই ২০০৬ সাল থেকে। সর্বশেষ যে মিলানকে হারিয়েছিল, তার মিডফিল্ডে ছিলেন জেন্নারো গাত্তুসো। পরশু রাতে তিনি নাপোলির ডাগ আউটে থেকে বার্সাকে কঠিন এক সময় উপহার দিলেন। যদিও জানেন দ্বিতীয় লেগটা বার্সার হাতেই বেশি। ম্যাচ শেষে তাই স্বীকার করে নিয়েই বলছিলেন, ‘জানি নু ক্যাম্পে কী কঠিন সময় অপেক্ষা করছে আমাদের। নতুন হ্যালমেট, বর্ম নিয়েই যেতে হবে আমাদের ওখানে।’ পরশু রাতের পয়েন্ট এবং জয়ের মতো অবস্থাও তৈরি করেছিল নাপোলি মূলত বার্সাকে ওই আটকে রেখেই। নিজেদের খেলার এই ধরনের পক্ষে যুক্তিও দিয়েছেন গাত্তুসো, ‘কেকে সেতিয়েনের অধীনে এই বার্সা আক্রমণে ক্রমেই পাঁচ-ছয়জনকে জড়ো করে ফেলে। ফলে প্রতিপক্ষকে নিচে নেমে আসতেই হয়।’ বার্সা শেষ পর্যন্ত ওই পেনাল্টি এরিয়াতেই আটকে গেছে। সের্হিয়ো বুশকেত্জ, ইভান রাকিতিচ, ফ্রাংকি ডি ইয়ং ও আর্তুরো ভিদাল—এই চারজন মিলে মিডফিল্ডে আধিপত্য দেখালেও মেসির চমকহীন রাতে প্রতিপক্ষকে আসলে তেমন কোনো হুমকির মধ্যে ফেলতে পারেনি তারা। যেটি নাপোলি নিয়মিতই করেছে প্রতি-আক্রমণ থেকে। মের্টেন্সের গোলটাও পাল্টা আক্রমণ থেকে। ডানদিকে উড়ে আসা একটা লং বল ধরে পিওতর জিয়েলিনস্কি জুনিয়র ফিরপোকে ডজে পেছনে ফেলে কাট ব্যাক করেছেন, বক্সের ওপর থেকে সেই বলেই ইতালিয়ান উইঙ্গারের চোখ-ধাঁধানো শট পোস্টের ওপরের কোণ দিয়ে জালে, টের স্টেগানকে জায়গা থেকে নড়তেও দেয়নি। বার্সার গোলটা আবার বুশকেেজ মুগ্ধতা মাখানো এক থ্রুতে, সেই বলে নেলসন সেমেদোর ক্রস, ছোট বক্সের ওপর থেকে গ্রিয়েজমান তা-ই পাঠিয়ে দিয়েছেন জালে। এই বুশকেত্জই আবার মের্টেন্সকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে দ্বিতীয় লেগে নিষিদ্ধ হয়ে গেছেন। ম্যাচ শেষের আগে আগে মাথা গরম করে ভিদাল দেখেছেন লাল কার্ড। তাতে দ্বিতীয় লেগে এই দুজনকেই পাচ্ছেন না সেতিয়েন, তবে ইনজুরি কাটিয়ে ইহোর্দি আলবা ও সের্গে রবার্তোর ফেরার আশায় আছেন তিনি ওই ম্যাচের আগে। গোলডটকম

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা