kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

তৈরি হচ্ছেন বারকোস

এএফসি কাপের আগেই ‘কিংস-ব্র্যান্ড’ ফুটবল

সনৎ বাবলা   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এএফসি কাপের আগেই ‘কিংস-ব্র্যান্ড’ ফুটবল

অপ্রতিরোধ্য বসুন্ধরা কিংস! এই চেনা ছবিটায় যেন ধুলার আস্তরণ পড়ে গেছে নতুন মৌসুমে। দলের প্রফাইল আরো ঝকমকে হলেও মাঠে তার সুস্পষ্ট প্রকাশ নেই। কিন্তু তা না হলে যে এএফসি কাপে চলবে না। তার আগেই ফুটবলীয় শক্তিতে আঁকা ওই চেনা ছবিটা ফেরাতে কিংসের প্রাণান্ত চেষ্টা।

বসুন্ধরা কিংসের গত মৌসুমটা ছিল ছবির মতো। শুধু শিরোপায় নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেও তারা অতুলনীয়। কিংসকে হারানোর আত্মবিশ্বাসই যেন হারিয়ে ফেলেছিল প্রতিপক্ষ দলগুলো। প্রথমে পিছিয়ে পড়লেও মাঠ ছেড়েছে জিতে।

চলতি মৌসুমে তারা খুঁজছে সেই আত্মবিশ্বাস জাগানো পারফরম্যান্স। প্রতিপক্ষকে দুমড়েমুচড়ে দেওয়া ফুটবল। ফেডারেশন কাপ শিরোপায় মৌসুম শুরু করলেও তাদের সেই দাপুটে পারফরম্যান্স এখনো দেখা যায়নি। প্রিমিয়ার লিগের প্রথম তিন ম্যাচের একটিতে পুলিশের বিপক্ষে ড্র করেছে। তবে গত পরশু তৃতীয় ম্যাচে ব্রাদার্সের বিপক্ষে কিংসের নিজস্ব ব্র্যান্ডের ফুটবলের ঝলক দেখা গেছে। ধুলা সরিয়ে যেন পুরনো ছবিটা ফিরছে। কিন্তু ফিরতে ফিরতেই আবার ফিকে হয়ে গেল। তিন গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষভাগে পূর্ণ পয়েন্ট নিশ্চিত করার জন্য সময় নষ্ট করতে হয়েছে কিংসকে।

ব্রাদার্সের সঙ্গে ম্যাচটা তাই বসুন্ধরা কিংসের জন্য যুগপৎ আশা-নিরাশার। বসুন্ধরা কিংসের প্রেসিডেন্ট ইমরুল হাসানের কাছেও এটা আশা আর আক্ষেপের জায়গা, ‘এই মৌসুমে ব্রাদার্সের বিপক্ষে বোধহয় সেরা ম্যাচটা আমরা খেলেছি। কিন্তু স্কোরলাইন দেখে কেউ কি বুঝবে ম্যাচে এত ভালো ফুটবল খেলেছি! তিন গোলে লিড নেওয়ার পর খেলোয়াড়দের মনোযোগ সরে গিয়েছিল। এএফসি কাপের আগে আমাদের এমন পারফরম করা জরুরি।’ কারণ দেশের ফুটবলের নতুন পরাশক্তি এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গন মাতাতে চাইছে। অন্তত উপমহাদেশীয় ফুটবলে সাড়া ফেলার লক্ষ্যে শুরু হবে তাদের প্রথম এএফসি কাপ অভিযান।

দুয়ারে কড়া নাড়ছে এএফসি কাপ। বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে বসুন্ধরা কিংসের অভিষেক হবে ১১ মার্চ মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টসের সঙ্গে ম্যাচ দিয়ে। তার আগে সময় পাচ্ছে তিন সপ্তাহ। এর মধ্যে তিনটি সমস্যার সমাধান করতে হবে। একটি হলো নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়িয়ে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত একই তালে খেলে যাওয়া এবং রহমতগঞ্জের বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচটিতে ‘ক্লিন শিট’ রাখা। লিগের তিন ম্যাচের দুটোতেই গোল হজম করেছে চ্যাম্পিয়নরা। এএফসি কাপের আগে লিগে রহমতগঞ্জের ম্যাচে গোল হজম না করলে স্থানীয়দের নিয়ে গড়া রক্ষণভাগে যোগ হবে বাড়তি আত্মবিশ্বাস।

অন্য সমস্যাও আছে। জাতীয় দলে খেলোয়াড়দের ব্যস্ততার কারণে একসঙ্গে ক্লাব প্র্যাকটিস কম হওয়ায় টিম কম্বিনেশনে পিছিয়ে আছে দেশি ফুটবলাররা। এর মধ্যে ব্রাদার্সের বিপক্ষে ইব্রাহিমের জোড়া গোল অবশ্যই ইতিবাচক। দ্বিতীয়টি হলো, হার্নান বারকোসের সঙ্গে বাকিদের বোঝাপড়া। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডটি এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে দামি ফুটবলার। তাঁকে কিংস এনেছে এএফসি কাপের কঠিন বৈতরণী পার হতে। ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না বলে বারকোসের সঙ্গে অন্যদের বোঝাপড়ায়ও ঘাটতি থাকবে। তবে কিংস কোচ অস্কার ব্রুজোন আশাবাদী, ‘ট্রেনিংয়ে সে নাম্বার নাইনে খেলছে, ওর সঙ্গে অন্যরাও খেলছে। গোলে বারকোসের ভালো দক্ষতা আছে, সে সামনে খেলবে এবং কলিনদ্রেস শুরু করবে পেছন থেকে। তখন ম্যাচের চেহারা বদলে যাবে।’

তৃতীয় সমস্যা হলো ইনজুরি। মতিন মিয়া ভুগছেন হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে। আগামী সপ্তাহে মাঠে নামলেও এএফসি কাপের ম্যাচে খেলতে পারবেন কি না বলা মুশকিল। সদ্য ইনজুরিতে পড়েছেন দুই মিডফিল্ডার নিকোলাস দেলমোন্তে ও ইমন। দুজনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর্জেন্টাইন দেলমোন্তে, এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার না থাকলে দলের ভারসাম্য বজায় রাখা মুশকিল হয়ে পড়ে। মাশুক কিংবা ফাহাদ সুস্থ থাকলে তার অভাব কিছুটা পূরণ করতে পারতেন। ইনজুরির দুশ্চিন্তা স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোনের মধ্যেও ভর করেছে, ‘দলের বেশ কিছু খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়েছে। তাদের সেরে ওঠার ওপর দলের ভালো-মন্দ নির্ভর করছে অনেকখানি। তবে বসুন্ধরা কিংসের খেলা আরো ভালো হবে সামনে। আশা করি, এএফসি কাপের আগেই ভালো ছন্দে চলে আসবে দলের খেলা।’

এই ছন্দটাই খুব জরুরি। শুরু থেকে ছন্দটা ছিল বলে গতবার কমজোরি দল নিয়েও প্রায় সর্বজয়ী হয়েছিল বসুন্ধরা কিংস। এবার সব দুর্বলতা ঢেকে তারা আরো বলীয়ান। ছন্দটা ফেরেনি বলেই কিংস-ব্র্যান্ড ফুটবল এখনো ঠিক জমেনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা