kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

ভেট্টরির ক্লাস

জিম্বাবুয়ের কাছে হারে না মাশরাফির দল

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



জিম্বাবুয়ের কাছে হারে না মাশরাফির দল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এ দফা অধিনায়কত্বের শুরু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে; সেই ২০১৪ সালে। শেষটাও কি তা-ই হবে; এই ২০২০ সালে? হতে পারে; না-ও হতে পারে। সিরিজের নাকের ডগায় ওই অনিশ্চয়তাটুকুন তো ঝুলিয়ে রেখেছে খোদ বিসিবি!

তবে রেকর্ডকে সাক্ষী মানলে একটি ব্যাপারে নিশ্চিত থাকতে পারেন। সিলেটের ওয়ানডে সিরিজের তিনটি ম্যাচই জিতবে বাংলাদেশ! কিভাবে? মাশরাফি বিন মর্তুজার অধিনায়কত্বে গত অর্ধযুগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সব ওয়ানডেই যে জিতেছে!

অধিনায়কত্ব কিংবা ক্যারিয়ারের শেষ হোক, না হোক—সে রেকর্ডে নিশ্চিতভাবে আঁচড় কাটতে দিতে চাইবেন না মাশরাফি।

পূর্ণাঙ্গ সফরেই এবার বাংলাদেশে এসেছে জিম্বাবুয়ে। শুরুটা একমাত্র টেস্ট দিয়ে। এই ফরম্যাটে সাম্প্রতিক সময়ে বাজে অবস্থা এবং ২০১৮ সালের সর্বশেষ সিরিজের ১-১ ড্র মাথায় রেখে খানিক অস্বস্তিতেই ছিল স্বাগতিকরা। তা কেমন দাপুটে রাজসিকতায়ই না উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ! মমিনুল হকের দলের কাছে জয়ের সে প্রত্যাশার ভাঁজে ভয়ও গুটিসুটি মেরে ছিল। মাশরাফির দলের কাছে তা নয়। টেস্টে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দেওয়া গেলে ওয়ানডেতে গুঁড়িয়ে দেওয়া যাবে না কেন?

৫০ ওভারের ফরম্যাটের আবহে আবার যোগ হয়েছে ‘মাশরাফি ফ্যাক্টর’। ২০১৪ সালে এ দফায় অধিনায়কত্বে ফেরানো হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেটের তখন ঘোর দুঃসময়। পরাশক্তিদের সামনে অসহায়; এমনকি টি-টোয়েন্টিতে হারে হংকংয়ের মতো দলের কাছে। তখনকার বাস্তবতায় একেবারে সাদামাটা আফগানিস্তানের কাছে হার ওয়ানডেতে। মাশরাফির অধিনায়কত্বে ফেরার সিরিজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হলেও চ্যালেঞ্জটা ছিল অনেক বড়।

আর প্রথম সেই পরীক্ষাতেই লেটার মার্কস নিয়ে পাস মাশরাফি। তাঁর নেতৃত্বে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ৫-০ ব্যবধানে জেতে বাংলাদেশ।

সেই শুরু। ৫০ ওভারের ফরম্যাটে জিম্বাবুয়ে আর কখনো পাত্তা পায়নি। সেই ২০১৪ থেকে দুই দলের মুখোমুখি ১৩ ওয়ানডেতেই জয় বাংলাদেশের। এ সময়ে ছয় টেস্ট খেলে একটিতে হেরেছে—২০১৮ সালে সিলেটে। আট টি-টোয়েন্টির মধ্যেও হার তিনটিতে—২০১৫ সালে ঢাকার এক এবং ২০১৬ সালে খুলনার দুই ম্যাচ। কিন্তু ওয়ানডেতে অজেয় থেকে গেছে মাশরাফির দল।

সিলেটে পহেলা মার্চ থেকে যে সিরিজ শুরু হচ্ছে, সেখানে স্বাগতিক দাপটের প্রত্যাশা আবদুর রাজ্জাকের। জাতীয় দলের জার্সিতে ১৫৩ ওয়ানডেতে ২০৭ উইকেট এই বাঁহাতি স্পিনারের ভাবনায় হোয়াইটওয়াশ, ‘টেস্টে আমরা খুব ভালোভাবে জিতেছি। আর ওয়ানডেতে তো বাংলাদেশ তিন ফরম্যাটের মধ্যে সব সময়ই সবচেয়ে ভালো খেলে। পাশাপাশি ২০১৪ সাল থেকে সব ম্যাচ জেতার যে পরিসংখ্যানের কথা বললেন, তাতে দলের আত্মবিশ্বাস আরো বাড়বে। আমি তো অবশ্যই মনে করি, এ সিরিজে জিম্বাবুয়েকে আমাদের হোয়াইটওয়াশ করা উচিত।’ অধিনায়ক মাশরাফির জন্যও তাঁর শুভ কামনা, ‘আমরা এখনো জানি না, মাশরাফির জন্য এটি অধিনায়ক কিংবা খেলোয়াড় হিসেবে শেষ সিরিজ কি না। ওকে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া উচিত। এ সম্মান ওর প্রাপ্য। তবে এটি যদি অধিনায়ক হিসেবেও মাশরাফির শেষ সিরিজ হয়, মনে রাখার মতো কিছু নিশ্চয় করতে চাইবে। সে শুভ কামনা ওর জন্য আমার থাকল।’

মাশরাফি ও রাজ্জাক বাংলাদেশের অনেক যুদ্ধের সহযোদ্ধা। কখনো জয়ের মিছিলে থেকেছেন সামনের দিকে; আবার পরাজয়ের সময়ও সাহসী মুখ হয়ে। যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে এখন এমন দুর্বার বাংলাদেশ, এর শুরুতে এ দুই বোলারের উজ্জ্বল উপস্থিতি। ২০০৬ সালে খুলনা, বগুড়া, ঢাকার ওয়ানডে সিরিজ ৫-০ ব্যবধানে জেতে স্বাগতিকরা। দুই দলের টক্করে প্রথমবারের মতো স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। সে সিরিজের সফলতম বোলার রাজ্জাক; ৫ ম্যাচে ১৩.২৫ গড়ে নেন ১২ উইকেট। ১৫.১৮ গড়ে ১১ শিকারে মাশরাফি ঠিক তাঁর পেছনে।

জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশের প্রত্যাশার কথা অবলীলায় বলেন রাজ্জাক। তবে ১৩ বছর আগে সে অর্জন যে সহজসাধ্য ছিল না, মনে করিয়ে দেন তাও, ‘তখন বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে প্রায় সমানে সমান। কখনো ওরা জেতে, কখনো আমরা জিতি। ৫-০ ব্যবধানে জেতা তাই ভীষণ কষ্টের ছিল। সেটি আমরা করে দেখিয়েছি। আমাদের দুজনের তাতে বল হাতে অবদান ছিল, মনে করিয়ে দিলেন বলে ভালো লাগছে।’

ঘরোয়া ক্রিকেটে রাজ্জাক এখনো দারুণ পারফরমার। সদ্য সমাপ্ত বিসিএলেই যেমন ২২ উইকেট নিয়ে হয়েছেন সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। কিন্তু জাতীয় দলের ভাবনা থেকে ছিটকে গেছেন বেশ আগে। আর ওয়ানডের কথা বললে, মাশরাফি এ দফা অধিনায়ক হওয়ার ঠিক আগের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজে খেলেছেন ১৫৩ ম্যাচের শেষটি। সেখানে মাশরাফি এখনো খেলে চলেছেন। বন্ধুকে স্যালুট জানিয়ে ক্যারিয়ারের দারুণ শেষের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে রাখেন রাজ্জাক, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটকে মাশরাফি অনেক কিছু দিয়েছে। আশা করি, নিজের শেষটা ওর মনমতো হবে।’

সেই শেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোক বা না হোক, সিরিজে হোয়াইটওয়াশের আশার কথা তো আগেই বলেছেন ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা বোলার রাজ্জাক।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা