kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

এরপর নাঈম

রানও বেশি মুশফিকের

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রানও বেশি মুশফিকের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তাঁর। স্বাভাবিকভাবে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটিও তখন নিজস্ব। পরে তা তামিম ইকবালে হাতছাড়া, সাকিব আল হাসানে আরো ছাড়িয়ে যাওয়া। কিন্তু হাল ছেড়ে দেওয়ার পাত্র তো মুশফিকুর রহিম নন। ঠিকই ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপরাজিত ২১৯ রানে তা আবার নিজের করে নেন তিনি।

তাঁর লড়াইটা তাই নিজের সঙ্গে। তাতে কাল জিততে পারেননি মুশফিক। তবে অপরাজিত ২০৩ রানের ইনিংস খেলার পথে তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরিটি তুলে নেন ঠিকই। সতীর্থদের ছাড়িয়ে ওপরে উঠে যান আরো।

১০০-২০০-৩০০-৪০০ সবই তো সেঞ্চুরির ব্র্যাকেটবন্দি। তাতে অবশ্য বাংলাদেশে সবার ওপরে নন মুশফিক। এত দিন এককভাবে ছিলেন তামিম ইকবাল। কাল তাঁকে স্পর্শ মমিনুল হকের। করেন নবম শতরান। তবে এক দিক দিয়ে সতীর্থ বাঁহাতির চেয়ে ঢের এগিয়ে। তামিমের দুই-তৃতীয়াংশ টেস্ট খেলেই তো মমিনুলের এ অর্জন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চলমান ম্যাচটি তামিমের ক্যারিয়ারের ৬০তম টেস্ট; মমিনুলের ৪০তম। প্রথমজনের খেলা সারা ১১৫ ইনিংস; পরেরজনের ৭৪।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ টেস্ট সেঞ্চুরি সংখ্যায় তামিমকে স্পর্শ করলেও এক জায়গায় আবার পিছিয়ে মমিনুল। সাদা পোশাকে কাল নবম সেঞ্চুরি করলেন— এর সবগুলোই দেশের মাটিতে। তামিমের ৯ সেঞ্চুরির মধ্যে পাঁচটি দেশের মাটিতে; চারটি বিদেশে। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা টেস্টে যে ৫৯ সেঞ্চুরি করেন, এর মধ্যে ৩৬টি দেশে; ২৩টি দেশের বাইরে।

দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ানের তালিকায় কাল সেরা তিনে ঢুকে গেছেন মুশফিকুর রহিম। মমিনুল যেদিন তামিমকে ছুঁয়েছেন; সেদিনই মুশফিক ছেড়ে যান মোহাম্মদ আশরাফুলের সঙ্গ। ৭০তম টেস্টের ১৩০তম ইনিংসে সপ্তম সেঞ্চুরি করেন তিনি। ৬১ টেস্টের ১১৯ ইনিংসে ৬ সেঞ্চুরি আশরাফুলের।

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিতে পরের দু’জন সাকিব আল হাসান এবং মাহমুদ উল্লাহ। ৫৬ টেস্টের ১০৫ ইনিংসে পাঁচ সেঞ্চুরি সাকিবের। ৪৯ টেস্টের ৯৩ ইনিংসে চার সেঞ্চুরি মাহমুদ উল্লাহর। ক্যারিয়ারের প্রথম ৭৭ ইনিংসে একটি মাত্র সেঞ্চুরি ছিল তাঁর। ২০১৮-১৯ সালে জিম্বাবুয়ের-ওয়েস্ট ইন্ডিজ-নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ছয় ইনিংসের মধ্যেই তিন সেঞ্চুরি। কিন্তু এ ফর্ম ধরে রাখতে পারেননি। এরপরের পাঁচ টেস্টের ১০ ইনিংসের মধ্যে একটিমাত্র পঞ্চাশ পেরোনো ইনিংস মাহমুদের। যার খেসারত দিয়ে টেস্ট স্কোয়াড থেকে ছিটকে পড়তে হয়।

ইমরুল কায়েসের ক্যারিয়ারে অমন দাঁড়ি পড়েছে কতবার; প্রতিবার সেটিকে কমা-সেমিকোলনে রূপান্তর করে প্রত্যাবর্তন। এবারও তা পারবেন কি না, উত্তর সময়ের হাতে। সেঞ্চুরিয়ানের তালিকায় নিজেকে আরো ওঠাতে পারবেন কি না, কে জানে! তবে ৩৯ টেস্টের ৭৬ ইনিংসে তিন শতরানে নিশ্চয়ই আটকে থাকতে চাইবেন না ইমরুল। সমান সেঞ্চুরির আরেকজনের অবশ্য ক্যারিয়ার দীর্ঘায়িত করার উপায় নেই। ৫০ টেস্টের ৯৯ ইনিংসে তিন সেঞ্চুরি করা হাবিবুল বাশারের ক্যারিয়ার যে শেষ আরো এক যুগ আগে! বর্তমানে নির্বাচকের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে একটি করে সেঞ্চুরি ১৩ জনের—আমিনুল ইসলাম, জাভেদ ওমর, খালেদ মাসুদ, মোহাম্মদ রফিক, নাফিস ইকবাল, শাহরিয়ার নাফীস, জুনায়েদ সিদ্দিকী, সোহাগ গাজী, নাঈম ইসলাম, শামসুর রহমান, নাসির হোসেন, আবুল হোসেন ও সৌম্য সরকারের।

একটির বেশি ডাবল সেঞ্চুরি নেই মুশফিক ছাড়া কারো। তাঁর তিন ডাবল সেঞ্চুরিতে কেউ স্পর্শের আগে আরো এগিয়ে যাবেন কিংবা প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে করবেন ট্রিপল সেঞ্চুরি—মুশফিকের বিপক্ষে বাজি ধরার লোক পাওয়া যাবে না খুব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা