kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

ভয় কাটিয়েই সফল শান্ত

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : টেস্টের সঙ্গে টি-টোয়েন্টিকে মেলানো যাবে না কিছুতেই, তবে কিছুদিন আগে হয়ে যাওয়া বঙ্গবন্ধু বিপিএলেই পরিবর্তনটা টের পাওয়া গিয়েছিল নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটিংয়ে। খুলনা টাইগার্সের হয়ে ঢাকা প্লাটুনের বিপক্ষে ২০২ রান তাড়া করার ম্যাচে ৫৭ বলে ১১৫ রানের ইনিংসের পর রাজশাহী রয়ালসের বিপক্ষে ৫৭ বলে ৭৮। দুটো ইনিংসেই অপরাজিত। হাবিবুল বাশার তখন বলেছিলেন, ‘শান্তর হাতে সব শটই আছে, ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলছে বলেই যে শটটা যেভাবে খেলতে চাইছে সেটা পারছে।’ এরপর বিসিএল এবং পাকিস্তান সফরে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টেও ব্যাটিংটা খারাপ করেননি শান্ত, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের আগে সবশেষ ইনিংসে বিসিএলে খেলেছেন অপরাজিত ২৫৪ রানের ইনিংস। কাল ৭১ রানে আউট হয়ে গেলেও যতক্ষণ খেলছিলেন, নিরেট ও নিশ্ছিদ্র দেখাচ্ছিল তাঁর রক্ষণ। সেই সঙ্গে বলও লাগছিল মাঝব্যাটে। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতকের তৃপ্তি অথবা প্রথম শতরান হাতছাড়া করার আক্ষেপ, দুটোই আছে শান্তর। তবে তার চেয়েও বড় পরিতৃপ্তি বাদ পড়ার ভয়কে জয় করার।

বছর তিনেক আগের নিউজিল্যান্ড সফরে অনেকটা ঘটনাচক্রেই টেস্টে অভিষেক হয়ে যায় শান্তর। প্রায় বছর দেড়েক পর সিলেটে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে টেস্টে দলে ডাক পাওয়ার পর আবারও বাদ। এরপর আবার লম্বা বিরতি, এ মাসেই রাওয়ালপিন্ডি টেস্ট দিয়ে আবার সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফেরার পর খেলছেন এই টেস্টেও। এবারই প্রথম কোনো রকম বিরতি বাদেই পর পর দুটো টেস্ট খেলছেন শান্ত। ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতেও সুযোগ পেয়েছেন, ব্যর্থ হয়ে আবার বাদও পড়েছেন। কাল টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশত রানের ইনিংসের সঙ্গে পেয়েছেন ওয়ানডে দলে ফেরার সুখবরও। শান্ত জানালেন, খেলার ধরন যতটা না বদলেছেন, তার চাইতেও বেশি পরিবর্তন এনেছেন মানসিকতায়, ‘এর আগে যতটা ম্যাচ খেলেছি, সবগুলোতেই বাদ পড়ার একটা ভয় কাজ করত। সেটা নিউজিল্যান্ডে ২০১৭ সালে টেস্ট খেলার পর থেকেই মাথায় ঢুকে গিয়েছিল। এখন আমি নিয়মিত ভালো খেলার চেষ্টা করছি। কোচিং স্টাফে যাঁরা আছেন, তাঁরা বলে দিয়েছেন ওসব নিয়ে চিন্তা না করতে। বলেছেন আমাকে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হবে। তাই আমি খেলায় মনোযোগ বাড়াচ্ছি।’ সুফলটা পেয়েছেন, তবে ইনিংসটাকে পরিণতি দিতে পারলে আরো ভালো লাগত বলেই জানালেন শান্ত, ‘সুযোগ তো ছিলই, উইকেটটা ভালো ছিল। আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত যতক্ষণ খেলেছি, ভালোই ছিল সব কিছু। তবে আমার ইনিংসটা বড় করা দরকার ছিল, কারণ উইকেটটা সত্যিই ব্যাট করার জন্য খুব ভালো ছিল।’

উইকেটটা ভালো ছিল, সেই সঙ্গে মনের আকাশও ছিল ভাবনার মেঘহীন। নিজের ওপর ভরসা হারাননি শান্ত, “সব শেষবার যখন দল থেকে বাদ পড়লাম, তখন আমি হাইপারফরমেন্স দল এবং ‘এ’ দলের সঙ্গে ছিলাম। আমি সিস্টেমের মধ্যেই ছিলাম। সেটা ছিল আমার জন্য খুবই ইতিবাচক ব্যাপার। আমার মনে হয় সবারই এই সুযোগটা পাওয়া দরকার।” জাতীয় দলের বাইরে থেকে অনেক রানই করেছেন শান্ত, সমস্যাটা হচ্ছিল জাতীয় দলে। মানসিকতায় পরিবর্তন এনে এখন সেখানে পেলেন সাফল্যের প্রথম পালক, ‘মানসিকতা অনেক বদলে গেছে। আগে অনেক তাড়াহুড়া করতাম, এখন অনেক ধৈর্য ধরে খেলি আর শান্ত থাকার চেষ্টা করি। এখন শুরু থেকেই খুব শান্ত থাকার চেষ্টা করি।’

বাদ পড়ার ভয়কে অবশেষে জয় করতে পেরেছেন শান্ত। অনূর্ধ্ব-১৯, ‘এ’ দল, এইচপি দল; কাঠামোর ভেতর সব রকম ক্রিকেটে ভালো করেও চূড়ান্ত মঞ্চে হতাশ করায় শান্তকে নিয়ে সংশয় দানা বাঁধতে শুরু করেছিল। কালকের ইনিংসে শান্ত জানান দিলেন, সবই আছে আগের মতোই, শুধু বদলে গেছে মনোজগৎ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা