kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

মমিনুল ৭৯ ব্যাটিং ⇔ নাজমুল ৭১

ভারসাম্যের বাংলাদেশ

সামীউর রহমান   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভারসাম্যের বাংলাদেশ

ছবি : মীর ফরিদ

রাজনীতির মাঠে কোণঠাসা হলেও ক্রিকেটের মাঠে বাংলাদেশে ‘বামপন্থী’দেরই জয়জয়কার! সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালসহ সেরাদের কাতারে ওপরের দিকে থাকা দুই ক্রিকেটারই তো বাঁহাতি। কাল সব সংস্করণ মিলিয়ে ১৩ হাজার আন্তর্জাতিক রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তামিম, যদিও উপলক্ষটা রাঙানো হয়নি পঞ্চাশের রঙে। ৪১ রান করে হয়ে গেছেন আউট। তবে টপ অর্ডারে থাকা আরো দুই বাঁহাতি ঠিকই বড় করেছেন ইনিংসটা। নাজমুল হোসেন শান্ত প্রথম টেস্ট অর্ধশতকটাকে শতরানে রূপ দেওয়ার সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন, জার্সির নম্বর বদলে মমিনুলও দেশের মাটিতে ফিরেছেন চেনা ছন্দে। ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের গল্পে বাঁহাতিদেরই জয়জয়কার। অথচ প্রথম দিনে আর কালকের প্রথম ঘণ্টার নায়ক দুই ডানহাতি। অফস্পিনার নাঈম হাসান ৪ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের স্কোরকার্ডে লাগাম পরিয়েছিলেন, কাল সকালে ডানহাতি পেসার আবু জায়েদ রাহি চটজলদি দুটি উইকেট তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়ের ইনিংসটা বড় হতে দেননি। নাঈম ও রাহি; দুজনেই পেয়েছেন ৪টি করে উইকেট, সঙ্গে বাঁহাতি স্পিনে তাইজুলের জোড়া শিকার। বোলিংয়ে ডানহাতিদের সাফল্যের পর ব্যাটিংয়ে বাঁহাতিদের সাফল্যেই মিরপুরে দেখা মিলেছে ভারসাম্যের বাংলাদেশ দলের। তাইতো দ্বিতীয় দিনটা পুরোটাই স্বাগতিকদের।

দুটো হাত এক ছন্দে না চললে যেমন কোনো কাজই সহজে হয় না, তেমনি দলেরও বোলিং-ব্যাটিং দুটোই ভালো না হলে মাঠেও সাফল্য ধরা দেয় না। প্রথম দিনে ৪ উইকেট নেওয়া নাঈম বলেছিলেন, অন্য প্রান্তে বাঁহাতি তাইজুলের সঙ্গে জুটি গড়ে বল করাতেই এক প্রান্তে ধরা দিয়েছে সাফল্য। কালও তাইজুল করে গেছেন নিজের কাজটা। কাল তাইজুলের ভূমিকাটা একই ছিল, শুধু অন্য প্রান্তে বদলে গেছে চরিত্র। যেহেতু বলটা মাত্র ১০ ওভার পুরনো আর সকালের উইকেটের তাজা ভাবটা উবে যায়নি, তাই বল ওঠে ডানহাতি পেসার রাহির হাতে। দিনের সপ্তম ওভারেই ডোনাল্ড তিরিপানোকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন রাহি, নিজের পরের ওভারে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেন এনলোভুকে। দেশের মাটিতে টেস্টে যেখানে পূর্ববর্তী অধিনায়করা পেসারদেরই দলে নিতে চাইতেন না বা নিলেও বল করাতে সাহস পেতেন না, সেই প্রেক্ষাপট থেকে রাহির ৪ উইকেট নিঃসন্দেহে মানসিকতার পরিবর্তনেরই ছবি। প্রায় এক দশক আগে দেশের মাটিতে শাহাদাত হোসেন রাজীব টেস্টে ভারতের বিপক্ষে নিয়েছিলেন ইনিংসে ৫ উইকেট। সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তির কাছাকাছি গিয়েও পারেননি রাহি, পারেননি সাত বছর আগে হারারেতে রবিউল ইসলামের পর ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া কোনো বাংলাদেশি পেস বোলার হতে। সেসব না হতে পারলেও দুটো নতুন বলের ব্যবহার দেখিয়ে রাহি নিজের জায়গাটা আদায় করতে পেরেছেন। নাঈম ও রাহির ডানহাতের কাজের পর বাঁহাতের খেল দেখিয়েছেন তাইজুল, জিম্বাবুয়ের শেষ দুই ব্যাটসম্যানকে ফেরত পাঠিয়েছেন এই বাঁহাতি স্পিনারই।

বোলিংয়ে মুখ্য ভূমিকাটা ছিল ডানহাতিদের, ব্যাটিংয়ে দায়িত্বটা নিলেন বাঁহাতিরা। ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সাইফ হাসান দ্রুতই বিদায় নেওয়ার পর ওয়ানডাউনে চলে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্বিতীয় উইকেটে দুই বাঁহাতির জুটি ৭৮ রানের, তাঁদের স্থিতধী ব্যাটিংই ধসের মতো কোনো দুর্যোগপ্রবণ পরিস্থিতির জন্ম হয়নি। তামিম অর্ধশত রানের ৯ রান দূরে থাকতে আউট হয়ে যান তিরিপানোর বেরিয়ে যাওয়া বলে ব্যাটের পালকস্পর্শে। এরপর অধিনায়ক মমিনুলের সঙ্গে যুগলবন্দি শান্তর, উইকেটে আবারও দুই বাঁহাতি। তাঁদের জুটিটা ৭৬ রানের। ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতর ইনিংসটাকে শতরানে রূপ দেওয়ার সম্ভাবনা জাগালেও ৭১ রানে আউট হয়ে যান শান্ত। অন্যদিকে মমিনুল অবশ্য অবিচল। ম্যাচ শুরুর আগে কথা দিয়েছিলেন, দলের কেউ একজন বড় ইনিংস খেলবেন। অন্যরা সম্ভাবনা জাগিয়ে ফিরে যাওয়ার পর কথা রাখার দায়িত্বটা নিজেই নিয়েছেন, দিনশেষে ৭৯ রানে অপরাজিত।

ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের ভূমিকা অবশ্য কম নয়! মুশফিক অপরাজিত ৩২ রানে, উইকেটে এসে যোগ্য সঙ্গত দিয়ে গেছেন অধিনায়ককে। চতুর্থ উইকেটে তাঁদের ৬৮ রানের জুটি, যে জুটিটা প্রতিপক্ষ অধিনায়ক ক্রেগ আরভিনের চোখে সবচেয়ে বিপজ্জনক, ‘মমিনুল এবং মুশফিক এখনো উইকেটে আছে। আমরা জানি ওরা লম্বা ইনিংস খেলতে পারে, ওদের জুটিটা যত তাড়াতাড়ি ভাঙা যায় সেটাই থাকবে কালকের (আজ) দিনে আমাদের লক্ষ্য।’

ডান ও বাঁয়ের এই ভারসাম্যেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের, কোণঠাসা প্রতিপক্ষ। ড্রেসিংরুমে এখনো ব্যাট করার অপেক্ষায় মোহাম্মদ মিঠুন, লিটন কুমার দাসের মতো ডানহাতি ব্যাটসম্যানরা। কালকের দিনটা তো ছিল বাঁহাতিদের, আজকের দিনটাকে তাঁরা কি পারবেন নিজেদের করে নিতে!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা