kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

জমা-খরচে বিস্তর ব্যবধান!

সামীউর রহমান   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জমা-খরচে বিস্তর ব্যবধান!

খবরের কাগজের বাণিজ্য পাতায় চোখ রাখলে ‘বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি’, ‘আমদানি-রপ্তানিতে বৈষম্য’ এমন অনেক শিরোনামই খুঁজে পাওয়া যাবে। এক বছর ধরে টেস্ট ক্রিকেটেও বাংলাদেশ ভুগছে বিপুল ‘বাণিজ্য ঘাটতি’তে। বোলাররা যত রান খরচ করছেন আর ব্যাটসম্যানরা যত রান বোর্ডে জমা করছেন, তাতে বিস্তর ব্যবধান। গত বছরের ৩ মার্চ সব শেষ কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে শতরান করেছিলেন মাহমুদ উল্লাহ। এরপর বাংলাদেশ খেলেছে আরো ৫টি টেস্ট, যার ৪টিতেই ইনিংস ব্যবধানে হার, যদিও সবটিতেই বাংলাদেশ ব্যাট করেছে দুই ইনিংসেই। এর পরও কারো ব্যাট থেকে আসেনি তিন অঙ্কের ইনিংস। অথচ সব ম্যাচেই প্রতিপক্ষে এক বা একাধিক ব্যাটসম্যান করেছেন শতরান। কাল বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টের প্রথম দিনে, জিম্বাবুয়ের ক্রেইগ আরভিনও চার বছর পর দেখা পেলেন টেস্ট শতকের, আজ ব্যাটিং পেলে সেই খরাটা কি ঘোচাতে পারবেন তামিম-মুশফিকরা।

গত বছরের গোড়ার দিকে, হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে শতরান করেছিলেন মাহমুদ উল্লাহ। প্রথম ইনিংসে তামিম ইকবাল ও দ্বিতীয় ইনিংসে সৌম্য সরকার এবং মাহমুদ ছুঁয়েছিলেন তিন অঙ্কের রান। তাতে ইনিংস ব্যবধানে হার এড়ানো না গেলেও নিউজিল্যান্ডের মতো প্রতিকূল পরিবেশে শতরানের আত্মতৃপ্তি ছিল নিঃসন্দেহে। কিন্তু এর পর থেকেই যে রানের স্রোতে ভাটার টান! অথচ উল্টো দিকে ভরা জোয়ার। ওয়েলিংটনে রস টেলর খেললেন ২০০ রানের ইনিংস, হেনরি নিকোলস করলেন ১০৭ রান। অথচ দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস তামিমের ৭৪। এরপর মসজিদে হত্যাকাণ্ডের কারণে হলো না ক্রাইস্টচার্চে খেলা, দল ফিরল দেশে আর শুরু হলো বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। লম্বা সময় সীমিত ওভারের ম্যাচ খেলার পর সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট চট্টগ্রামে। সেই টেস্টে ক্যারিয়ারের প্রথম শতকের দেখা পেলেন আফগানিস্তানের রহমত শাহ, সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন আসগর আফগান (৯২) ও ইব্রাহিম জাদরান (৮৭)। অথচ বাংলাদেশের দুই ইনিংস মিলিয়ে একটাই হাফসেঞ্চুরি, মমিনুল হকের ৫২। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আবারও বিদেশে, এবারে গন্তব্য ভারত। ইন্দোরে মায়াঙ্ক আগারওয়াল দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে দারুণ ছন্দে থাকার সময়টাকে টেনে আনলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজেও, করলেন ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। ২৪৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন আগারওয়াল, অন্যদিকে দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের একটাই হাফসেঞ্চুরি। মুশফিকের ৬৪ রানের ইনিংস। কলকাতায় গোলাপি বলের বিভ্রমে আর মাথায় বাউন্সার লেগে ‘কনকাশন’-এর ভয়ে রান করতে ভুলেই গিয়েছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা, ব্যতিক্রম শুধুই মুশফিক। খেলেছিলেন ৭৪ রানের ইনিংস। অথচ তার আগে বাংলাদেশের বোলারদের হাতের গোলাপি বলকে গোলাপজাম মিষ্টি বানিয়ে বিরাট কোহলি খেলে গেছেন ১৩৬ রানের চোখ-ধাঁধানো ইনিংস।

দেশে বিসিএলে ট্রিপল সেঞ্চুরি করে ইতিহাস গড়েই পাকিস্তানের ফ্লাইটে চড়েছিলেন তামিম ইকবাল। এখানে ৩৩৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন, রাওয়ালপিণ্ডিতে দুই ইনিংসে তাঁর রান ৩ ও ৩৪! রাওয়ালপিণ্ডিতে শতরান করেছেন পাকিস্তানের শান মাসুদ (১০০) ও বাবর আজম (১৪৩)। অন্যদিকে দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের একজনই পার করতে পেরেছিলেন অর্ধশতর মাইলফলক, তিনি মোহাম্মদ মিঠুন (৬৩)। বছর ঘুরে আবার টেস্ট ম্যাচ মিরপুরের ‘হোম অব ক্রিকেটে’, যে জায়গাটা জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের হাতের তালুর মতো করেই চেনা। সেখানে সবচেয়ে পরিচিত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচ। কিন্তু এখানেও শতরানের ধারাবাহিকতার ব্যতিক্রম হলো না! বোলাররা শুরুতে ভালো বোলিং করলেও সময় নিয়ে, ধৈর্য ধরে খেলে, সীমিত দক্ষতার সর্বোচ্চটার সঙ্গে পূর্ণ আত্মনিবেদনের প্রয়োগে শতরান আদায় করে নিয়েছেন আরভিন। প্রায় তিন বছর পর টেস্টে শতরানের দেখা পেলেন এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তুলে নিলেন টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতক। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম শতকটা তাঁর কাছে বিশেষ স্মৃতির রত্ন, কাল সংবাদ সম্মেলনে এসে জানালেন এমনটাই ‘দেশের বাইরে যেকোনো শতকই খুব স্পেশাল। আমাকে সব সময়ই বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে, এ রকম একটা ইনিংস খেলার পর আমি সত্যিই বেশ সন্তুষ্ট।’

প্রথম শতক, প্রথম দ্বিশতক, বহুদিন পরের শতক; বাংলাদেশের বিপক্ষে অনেকেই এসব ‘স্পেশাল’ মুহূর্তের দেখা পাচ্ছেন। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা তো এ অনুভূতির সঙ্গে বোধ হয় এখন অপরিচিতই হয়ে গেছেন! মমিনুল কথা দিয়েছেন, কেউ একজন বড় রান করবেন। অধিনায়কের কথার মর্যাদা রাখার ভার এখন সতীর্থদের ওপর। কারণ জমা-খরচের হিসাবে বিস্তর ফারাক! দিন দিন সেটা যে আরো বাড়ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা