kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

গোলোৎসব

নেমেই এক ডজন গোল বসুন্ধরার মেয়েদের

বসুন্ধরা কিংসের মেয়েরা যেন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছেন, তাঁদের কোচিং স্টাফ, অনুশীলন সরঞ্জামাদি, জার্সি, জুতাতেই বোঝা যাচ্ছিল প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাঁদের পার্থক্যটা। মাঠের খেলায়ও এর অন্যথা হয়নি। দুই-চার গোল নয়, গুণে গুণে এদিন এক ডজন গোল দিয়েছেন বসুন্ধরার মেয়েরা।

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নেমেই এক ডজন গোল বসুন্ধরার মেয়েদের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ওয়ার্ম আপের নির্ধারিত সময় শেষ হতে চলল। কিন্তু মাঠে বসুন্ধরা কিংসের প্রতিপক্ষ আনোয়ারা স্পোর্টিংয়ের দেখা নেই। মিনিট পাঁচেক বাকি থাকতে দেখা মিলল তাদের। ম্যাচ খেলার জার্সিতেই মাঠে নেমে ওইটুকু সময়ই যা দৌড়ে নেওয়ার নিলেন খেলোয়াড়রা। দেখে জাতীয় দলের কোচ গোলাম রব্বানী বলছিলেন, ‘কী মানের দল দেখেছেন, ম্যাচের আগে ওয়ার্ম আপের নিয়মটাও জানে না।’ সেখানে বসুন্ধরা কিংসের মেয়েরা যেন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছেন, তাঁদের কোচিং স্টাফ, অনুশীলন সরঞ্জামাদি, জার্সি, জুতাতেই বোঝা যাচ্ছিল প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাঁদের পার্থক্যটা। মাঠের খেলায়ও এর অন্যথা হয়নি। দুই-চার গোল নয়, গুণে গুণে এদিন এক ডজন গোল দিয়েছেন বসুন্ধরার মেয়েরা।

মেয়েদের ফুটবল লিগের উদ্বোধনী ম্যাচ ছিল এটি। কিন্তু খেলা হয়েছে আসলে মাঠের এক অর্ধে। আনোয়ারা স্পোর্টিংয়ের মেয়েরা বসুন্ধরার মেয়েদের যতই থামাতে চেষ্টা করুন দ্রুতগতির কোনো পাসে অথবা দারুণ দলীয় মুভে ঠিকই গোল বের করে নিয়েছেন সাবিনা, কৃষ্ণারা। জাতীয় দলের এ দুই স্ট্রাইকার মিলেই করেছেন ৭ গোল। তাতে হ্যাটট্রিক পূর্ণ হওয়ার পর আরো একটি গোল করেছেন কৃষ্ণা। সিনিয়র স্ট্রাইকার সাবিনা হ্যাটট্রিকেই থেমেছেন। জোড়া গোল মিডফিল্ডার মিশরাত জাহানের। এদিন আসলে কে গোল পাবেন না, সেটিই কৌতূহলের বিষয় ছিল। তাতে সানজিদা আক্তার ও মনিকা চাকমা নিজেদের দুর্ভাগা ভাবতে পারেন। সানজিদার অবশ্য তিনটি অ্যাসিস্ট, তিনটিই কর্নার থেকে। কৃষ্ণার প্রথম দুটি গোলই তাঁর কর্নার থেকে নেওয়া হেডে। ম্যাচ শুরুর ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই গোল পেয়ে যায় বসুন্ধরা, প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের পা থেকে বল কেড়ে অধিনায়ক সাবিনাই গোলোৎসবের শুরুটা করে দেন। এরপর কৃষ্ণার টানা ওই দুই গোল। কৃষ্ণার পর টানা দুই গোল মিশরাত জাহানের। এ দুটি গোলই দারুণ দলীয় মুভে। সাবিনা ও কৃষ্ণা নিজেদের মধ্যে পাস খেলে একটু নিচেই ফাঁকায় থাকা মৌসুমীকে দিলে এই মিডফিল্ডার প্লেসিং শটে বল জালে জড়িয়েছেন। মিশরাতের দ্বিতীয় গোলটিও প্রায় একই রকম, ডান দিক থেকে সানজিদার বাড়ানো বলে সাবিনার সঙ্গে ওয়ান টু খেলে বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেছেন। প্রথমার্ধ শেষ হয় এই পাঁচ গোলে।

দ্বিতীয়ার্ধেও অন্য প্রান্তে অলস সময় কাটাতে হয়েছে বসুন্ধরা গোলরক্ষককে। মাঝেমধ্যে যে কয়েকবার বল নিয়ে মাঝরেখা পার হয়েছেন আনোয়ারার খেলোয়াড়রা, বসুন্ধরার ডিফেন্স লাইনেই সেই বল হারাতে হয়েছে তাঁদের। দ্বিতীয়ার্ধেও প্রথম গোলটি সাবিনার। কৃষ্ণা এরপর হ্যাটটিক করে ফেলেন নীলার পাস জালে ঠেলে। ৫৭ মিনিটে আবার পেনাল্টিও পায় বসুন্ধরা, সাবিনা নিলে তাঁরও হ্যাটট্রিক হয়ে যেত তখনই। কিন্তু এই সুযোগে স্কোরশিটে নাম তোলেন শিউলি আজিম। সাবিনা অবশ্য বেশি সময় নেননি, এর পরের গোল করতে। অর্থাৎ বসুন্ধরার হয়ে নবম গোল করার পাশাপাশি হ্যাটট্রিকও পূরণ করেন মেয়েদের ফুটবলের তারকা এ স্ট্রাইকার। সানজিদার কর্নারে এরপর নার্গিস খাতুন করেন ১০-০। মারিয়াও তাঁদের সঙ্গী হন, সানজিদাকে তুলে নেওয়ার পর কর্নার থেকেই সরাসরি বল জালে জড়িয়েছেন অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় দলে অধিনায়কত্ব করা এই মিডফিল্ডার। কৃষ্ণা এরপর নিজের চতুর্থ গোলটি করে ডজন পূর্ণ করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা