kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ভাবনার বাঁকবদলে ভুল স্বীকার

সর্বশেষ আট টেস্টেই হার, এর মধ্যে সাতটিতে ইনিংস ব্যবধানে। বাধ্য হয়ে তাই ঘরের মাঠের উইকেট নিয়ে ‘স্টান্স বদল’ করছে বাংলাদেশ। স্পিনিং ট্র্যাক থেকে স্পোর্টিং উইকেটে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট দিয়েই শুরু সে যাত্রা।

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : ভুল হিসাবে তো আর স্বীকোরোক্তি মিলবে না। তবে টেস্টে সাময়িক সাফল্যে মোহ ভুলে দীর্ঘ মেয়াদের কথা ভাবতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। তিন বছর পর!

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে স্পিনবান্ধব উইকেট থেকে সরে আসাতেই তো ‘ভুল’ শোধরানোর দলিল!

স্পিনিং উইকেট ছিল না কবে বাংলাদেশে! তবে ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ থেকে শুরু ভয়ংকর ঘূর্ণির ২২ গজ তৈরি। যেখানে প্রথম দিন থেকে বল কথা বলবে স্পিনারদের হয়ে। এ কৌশলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ, ড্র করেছে সিরিজ। পরের বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও কীর্তির পুনরাবৃত্তি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে একটু অন্য রকম উইকেট, তাতেই পরাজয়। ঢাকায় দ্বিতীয় টেস্টে তাই চেনা ফর্মুলায় ফিরে জয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি টেস্টেও তাই। এমনকি রাসেল ডমিঙ্গোর অধীন প্রথম যে টেস্ট খেলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে, সেটিও স্পিনবান্ধব উইকেটে।

স্পিনস্বর্গে স্পিনারসর্বস্ব একাদশ সাজানোয় ক্রিকেট ইতিহাসকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে খেলা সর্বশেষ তিন টেস্টে নেমেছে স্পেশালিস্ট চার স্পিনার নিয়ে—সাকিব আল হাসান, তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসান। ১৪৩ বছরের টেস্ট ইতিহাসে যা হয়নি কখনো। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তা-ও স্পেশালিস্ট পেসার হিসেবে খেলেন মুস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু দুই ইনিংসে দুই দুগুণে চার ওভারের বেশি বোলিংয়ের প্রয়োজন পড়েনি! ‘চক্ষুলজ্জা’ বিসর্জন দিয়ে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাই পেসারবিহীন একাদশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাটির সর্বশেষ টেস্টেও তাই।

কিন্তু এতে লাভটা হয়েছে কী! আফগানদের কাছে পর্যন্ত হারতে হয় এখন। আর দেশের বাইরে পরাজয় তো বটেই, ইনিংস পরাজয়ই যেন হয়ে উঠেছে অবধারিত। সর্বশেষ আট টেস্টেই হার, এর মধ্যে সাতটিতে ইনিংস ব্যবধানে। বাধ্য হয়ে তাই ঘরের মাঠের উইকেট নিয়ে ‘স্টান্স বদল’ করছে বাংলাদেশ। স্পিনিং ট্র্যাক থেকে স্পোর্টিং উইকেটে।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট দিয়েই শুরু সে যাত্রা। সামগ্রিক উন্নতির খোঁজেই যে এ পরিবর্তন, সেটি কাল বলেছেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, ‘টেস্টে উন্নতির জন্য সব সময় অমন প্রবল টার্নিং উইকেটে খেললে চলবে না। এখানে হয়তো আমরা এক সিমার দলে নিই। এরপর ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে খুঁজতে থাকি, তিন সিমার হবে কারা।’ নিজেদের শক্তি সম্পর্কে ভালোই ধারণা রয়েছে তাঁর। এর পরও বিশেষত বিদেশে উন্নতির জন্য দেশের উইকেট পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন কোচ, ‘আমাদের শক্তি স্পিনিং উইকেটে খেলা; বিশেষত অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলগুলোর বিপক্ষে। তবে আমাদের ভালো উইকেটে খেলাও শিখতে হবে, যেখানে পেসারদের ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে। কঠিন উইকেটে খেলার সময় ব্যাটসম্যানরা বড় সেঞ্চুরি করতে পারে না। এটি অনেক সময় বোলারদের ভুল ধারণা দেয় যে ওরা দারুণ বোলার। আমাদের ভালো উইকেটে খেলা এ কারণেই প্রয়োজন, যেন বাংলাদেশের পাশাপাশি দেশের বাইরেও নিজেদের খেলার উন্নতি করতে পারি।’

‘ভালো উইকেট’-এর সংজ্ঞায় বাংলাদেশের ক্রিকেটমহলের এক ধন্ধ রয়েছে। কেমন উইকেট চান, সেটির প্রেসক্রিপশন খোলাখুলি কাল দেন ডমিঙ্গো। সেখানে ওই ক্যানভাস বড় করে দেখার ব্যাপারটাই পাচ্ছে প্রাধান্য, ‘আমি ভালো ক্রিকেটীয় উইকেট চাই। যেখানে আমাদের সিমাররা প্রথম দিন ভালো বোলিং করবে, তৃতীয়-চতুর্থ-পঞ্চম দিনে স্পিনাররা কার্যকর হয়ে উঠবে। প্রথম সেশনে ব্যাটসম্যানদের যেন সংগ্রাম করতে হয়। এরপর উইকেট ক্রমে ভালো হবে, যেখানে ব্যাটিং করা হবে সহজ। এটি ঠিক যে স্পিনিং উইকেটে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ ভালো করেছে। এটি অবশ্যই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য বড় ছবিটাও দেখতে হবে।’

এত দিন ছবিটা ছোট করেই দেখেছে বাংলাদেশ। বিশেষত সর্বশেষ তিন বছরে। ‘তিন দিনের উইকেট’ বানিয়ে জুয়া ধরেছে। তাতে জিতেছেও বেশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব জুয়াড়িই তো সর্বস্বান্ত হয়। সেই দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার আগেই উপলব্ধিটা এসেছে ডমিঙ্গোর দলের।

তাতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে সাফল্য এলেই হয়!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা