kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

জেমির স্বপ্ন স্বপ্নই থাকবে!

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জেমির স্বপ্ন স্বপ্নই থাকবে!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : জেমি ডে স্বপ্নের কথা ফলাও করে বলেন না। এখনো সরাসরি বলছেন না। বাংলাদেশ ফুটবল বলে সাধ ও সাধ্যের মধ্যে ফারাক থাকে বিস্তর। এর পরও ব্রিটিশ কোচ সঙ্গোপনে লালন করেন বিশ্বকাপ বাছাইয়ে একটি ম্যাচ জেতার স্বপ্ন, ‘কে না চায় এমন একটি ম্যাচ জিততে। হয়ে গেলে দারুণ ব্যাপার।’ হওয়া না-হওয়ার দোদুল্যমানতা নিয়ে জেমি ডে হয়তো শেষবারের মতো ঢাকা আসছেন আজ।

শেষবার, কারণ আগামী মে মাসে এই কোচের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাই এই মুহূর্তে তাঁর চিন্তায় নাকি কেবল দুটো ম্যাচ, ‘আমি কেবল দুটো ম্যাচ নিয়ে ভাবছি, আফগানিস্তান ও কাতারের বিপক্ষে ম্যাচে কতটা কী করা যায়। কারণ মে মাসে আমার চুক্তি শেষ হচ্ছে।’ ২৬ মার্চ ঢাকায় আফগানিস্তানের সঙ্গে হোম ম্যাচ খেলার পর বাংলাদেশ ৩১ মার্চ দোহায় খেলবে কাতারের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচ। চুক্তি নবায়ন না হলে কাতারের ম্যাচেই শেষ হয়ে যাবে জেমি ডের বাংলাদেশ অধ্যায়। ভারত ও ওমানের বিপক্ষে বাংলাদেশের শেষ দুটি ম্যাচ হবে জুনে। তার আগের মাসেই শেষ হয়ে যাবে কোচের চুক্তি। বাফুফেরও এখন কোচের চুক্তি নিয়ে ভাবার সময় নেই। দেশের ফুটবল এখন পুরোপুরি নির্বাচনমুখী। বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন আপাত স্বস্তিতে থাকলেও বাকিদের পদ-পদবি চ্যালেঞ্জের মুখে। এর পরও জেমি এবার চুক্তি নিয়ে আলাপ করবেন ফুটবল কর্তাদের সঙ্গে।

এখানে ভবিষ্যৎ যা-ই হোক, ৪০ বছর বয়সী এই কোচের ভাবনাজুড়ে আফগানিস্তান ম্যাচ। ড্রয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে অ্যাওয়েতে বাংলাদেশ হেরেছিল ১-০ গোলে। সুবাদে হোমে সম্ভাবনা দেখছে অনেকে। সুদূর ইংল্যান্ড থেকে টেলিফোনে কোচ অবশ্য কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি, ‘ফল অনুকূলে না হলেও বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচগুলো আমরা ভালো খেলেছি। শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে লড়াই করেছে বাংলাদেশ। এবার আফগানিস্তান ম্যাচের অনেক আগে আসছি লিগের ম্যাচগুলো দেখার জন্য, নতুন কাউকে যদি আলাদাভাবে চোখে পড়ে। আমার বিশ্বাস, সামনের দুটো ম্যাচেও আমরা খারাপ খেলব না।’ বাংলাদেশের ভালো খেলা মানে রক্ষণ সামলে পাল্টা-আক্রমণে গোল খোঁজা। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের চার ম্যাচে বলার মতো খেলেছে একটি ম্যাচ, ভারতের বিপক্ষে ওদের মাটিতে। আগে গোল করেও শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে ম্যাচ ড্র। ৪ ম্যাচে সম্বল ১ পয়েন্ট।

কোচ কি তাহলে এই ভালো খেলার কথাই বলছেন! ফোনের ওপ্রান্তে থাকা জেমি ডে বলছেন বাস্তবে চোখ রাখতে, ‘ফুটবলের বাস্তবতা হলো, ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেবে ফরোয়ার্ডরা। তারা গোল করতে না পারলে ম্যাচ জেতা কঠিন। কিন্তু তাদের দোষও নেই। আগে প্রয়োজন দেশি ফরোয়ার্ডদের সাহায্য করা, যেন তারা নিজেদের পারফরম্যান্স বদলাতে পারে। ঘরোয়া ফুটবলে তাদের খেলার সুযোগ করে দেওয়া।’ ব্রিটিশ কোচের এটা নতুন আক্ষেপ নয়। ঘরোয়া ফুটবলে বিদেশিদের ভিড়ে দেশি স্ট্রাইকাররা ঘরোয়া ফুটবলে খেলার সুযোগ পান না বলেই জাতীয় দলে তাঁরা গোল মিস করেন। লাল-সবুজের জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোলের যে মুহূর্তগুলো তৈরি হয় সে রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি তাঁরা আগে হয় না। অমন মুহূর্তগুলো তাঁদের একদম নতুন, তাই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বসেন। এ জন্য জাতীয় দলের কোচ বাফুফেকে পরামর্শ দিয়েছিলেন বিদেশি কমিয়ে ঘরোয়া ফুটবল পরিকাঠামো নতুন করে সাজাতে। কিন্তু বাস্তবে দেখেছেন তিনি উল্টো, ‘ফুটবল নিয়ে আমার চিন্তা-ভাবনা ফেডারেশনকে জানিয়েছি আগেই। তারা কী বুঝেছে জানি না। তবে বিদেশির সংখ্যা এখন পাঁচে উন্নীত হয়েছে (হাসি)।’ গত মৌসুমে প্রত্যেক ক্লাবে পাঁচ বিদেশির রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ থাকলেও খেলত চারজন। এবার বিদেশির বদলি হিসেবে পঞ্চম বিদেশি খেলানোর নিয়ম করে দেশি ফুটবলারদের জায়গা আরো সংকুচিত করে দিয়েছে লিগ কমিটি।

তাই স্ট্রাইকার সংকটের দায় ফুটবল ফেডারেশনরই। তাদের ফাঁদে আটকে যাচ্ছে লাল-সবুজের ফুটবল। জাতীয় দলের কোচও পারছেন না সাহসী হয়ে রক্ষণাত্মক কৌশল বদলে অ্যাটাকিং ফুটবলের ছক কষতে। আফগানিস্তান ম্যাচেও জেমির গ্যারান্টি শুধু ভালো খেলার, ‘আফগানিস্তান কঠিন প্রতিপক্ষ। আমার খেলোয়াড়রা লড়াই করবে, এটা নিশ্চিত। ম্যাচের ফল নিয়ে কিছু বলা কঠিন। ফুটবলে অনেক কিছুই ঘটে। দেখা যাক।’ প্রতিপক্ষের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক দুর্বল, এর সঙ্গে গোলের মানুষের অভাব—সব একের পর এক মেলালে ইতিবাচক কিছুই মিলবে না। তবে অঘটনের দিনে সব মিলে যাবে। জেমিরও একটি ম্যাচ জেতার স্বপ্ন পূরণ হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা