kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

চ্যাম্পিয়নদের হারের স্বাদ দিল অ্যাতলেতিকো

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চ্যাম্পিয়নদের হারের স্বাদ দিল অ্যাতলেতিকো

চ্যাম্পিয়নস লিগ নকআউট রাউন্ডের ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ নিজেদের মাঠে। তাতে শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার পর অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ সেই লিড ধরে রেখে জিতে মাঠ ছাড়বে মাদ্রিদের ক্লাবটিতে ৯ বছরে এই বিশ্বাসটা অন্তত প্রোথিত করতে পেরেছেন ডিয়েগো সিমিওনে। দলটির মানসিকতা ও সংগঠন এতটাই দৃঢ় করেছেন যে প্রতিপক্ষকে একচুল ছাড় না দেওয়ায় তাদের জুড়ি নেই। সেই ছাড় পেল না চ্যাম্পিয়নস লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লিভারপুলও।

এই ওয়ান্দা মেত্রোপোলিতানো থেকেই গত জুনে চ্যাম্পিয়নস লিগের মুকুট নিয়ে ফিরেছেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। কে ভাবতে পেরেছিল সেই মাঠে ফেরাটা এমন অস্বস্তিকর হবে তাঁর জন্য। সাউল নিগেজের গোলে চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার পর লিভারপুলকে পুরো ম্যাচে গোল করতে দেওয়া দূরে থাক পোস্টেই যে শট নিতে দেয়নি সিমিওনের দল। অল রেডদের দায়িত্ব নেওয়ার পর ২৫১ ম্যাচে যে অভিজ্ঞতা মাত্র দ্বিতীয়বার হলো ক্লপের। অথচ অ্যাতলেতিকো কি বাজে সময়টাই না পার করছিল, শেষ সাত ম্যাচের মাত্র একটিতে জয়। কিন্তু ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়নস লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ম্যাচ, জেগে উঠতে এর চেয়ে বড় উপলক্ষ কি আর লাগে। রোজি ব্লাংকোদের সমর্থকদের খ্যাতিও পুরনো। নতুন স্টেডিয়ামে বড় ম্যাচে পরশু রাতে সত্যিই যেন দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে খেলল তারা। ম্যাচ শেষে সিমিওনে বলেছেন, ‘ম্যাচটা আসলে আমরা জিততে শুরু করেছি খেলা শুরুর আগে থেকেই সমর্থকরা যখন অসাধারণ আবহ তৈরি করতে শুরু করেছে মাঠে।’ ক্লপেরও মনে হয়েছে গোটা স্টেডিয়ামটাই ছিল তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী, ম্যাচ শেষে ফেরার আগে সেই সমর্থকদের তাই আমন্ত্রণ করে গেছেন অ্যানফিল্ডে পরের লেগে, ‘অ্যাতলেতিকোর সমর্থক যারা যারা টিকিট পাবে, অ্যানফিল্ডে তাদের সবাইকে স্বাগত। আবেগ, আবহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আজ তার সবটাই ছিল অ্যাতলেতিকোর। এখন আমি খুব করে তাকিয়ে আছি দ্বিতীয় লেগের দিকে। অ্যানফিল্ডের শক্তি নিয়ে আমরা প্রায়ই কথা বলি। স্টেডিয়ামের সেই শক্তিই আজ দেখিয়েছে অ্যাতলেতিকো। তবে ম্যাচে এখন বিরতি, আমরা পিছিয়ে ১-০। দ্বিতীয়ার্ধটা হবে আমাদের মাঠে, আশা করি সেই শক্তি ওরা টের পাবে।’

এই ওয়ান্দা মেত্রোপোলিতানো থেকেই গত জুনে চ্যাম্পিয়নস লিগের মুকুট নিয়ে ফিরেছেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। কে ভাবতে পেরেছিল সেই মাঠে ফেরাটা এমন অস্বস্তিকর হবে তাঁর জন্য। সাউল নিগেজের গোলে চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার পর লিভারপুলকে পুরো ম্যাচে গোল করতে দেওয়া দূরে থাক পোস্টেই যে শট নিতে দেয়নি সিমিওনের দল।

স্কোরলাইনের হিসেবেও শেষ ষোলো থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার লড়াইটা এখনো উন্মুক্ত। তবে সেই হিসাব তো পরে, পরশু রাতে মেত্রোপলিতানো ভিজেছে উচ্ছ্বাসের বৃষ্টিতে। যা দেখে লিভারপুল ফুলব্যাক অ্যান্ডি রবার্টসনও বলতে ছাড়েননি, “ওদের আনন্দ দেখে মনে হয়েছে যেন ‘টাই’ জিতে গেছে!” ইউরোপে দুই দলের এর আগের একমাত্র নকআউট রাউন্ডটিও অবশ্য অ্যাতলেতিকোই জিতেছিল, ২০০৯-১০ মৌসুমে ইউরোপা লিগের সেমিফাইনালে। সেবারও ঘরের মাঠে প্রথম লেগটি ১-০তে জিতেছিল অ্যাতলেতিকো। গোল করেছিলেন ডিয়েগো ফোরলান। পরশুর নায়ক সাউল, কোকের কর্নার থেকে বল উড়ে এসে পড়ে লিভারপুল মিডফিল্ডার ফাবিনিয়োর পায়ে, সেখান থেকে ছুটে যায় গোলমুখে দাঁড়ানো সাউলের সামনে। স্প্যানিশ মিডফিল্ডার কি সেই সুযোগ নষ্ট করেন, আলতো টোকায় তা জালে জড়িয়ে দেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে অ্যাতলেতিকোর হয়ে এটি দশম গোল তাঁর, যার কোনোটিতেই হারেনি তাঁর দল। ওই গোলের পর আলভারো মোরাতাকে ব্যবধান বাড়াতে দেননি আলিসন বেকার। ওদিকে লিভারপুল পুরো পজেশন উপভোগ করলেও বক্সের মুখে তাদের কোনো সুযোগই দেয়নি অ্যাতলেতিকো। প্রিমিয়ার লিগে নরউইচ সিটির বিপক্ষে আগের ম্যাচ জেতানো সাদিও মানে প্রথমার্ধ শেষেই মাঠ ছেড়েছেন দ্বিতীয় হলুদের শঙ্কায়। দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরানোর সেরা সুযোগটি পেয়ে মোহামেদ সালাহও হেড পোস্টে রাখতে পারেননি। গোলডটকম

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা