kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

আরামবাগের চমক, জিতেছে জামালও

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আরামবাগের চমক, জিতেছে জামালও

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় ম্যাচে এসে জয়ের দেখা পেয়েছে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব। গোপালগঞ্জের শেখ ফজলুল হক মণি স্টেডিয়ামে গতকাল স্বাগতিক মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রকে ২-১ গোলে হারিয়েছে তিনবারের লিগ চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল। ঢাকায় প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরে লিগ শুরু করেছিল জামাল। দিনের অন্য ম্যাচে আরামবাগ ২-১ গোলে মারুফুল হকের চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারিয়ে অঘটনের জন্ম দিয়েছে। এই জয়ের নায়ক জোড়া গোল করা আরামবাগের এলিটা কিংসলে। 

সেই প্রথম ম্যাচে তারা এলোমেলো ছিল, বিশেষ করে তাদের ফরোয়ার্ডরা অনেক চেষ্টা করেও গোলের দেখা পাননি। গতকাল গোপালগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষেও তারা সুবিধা করতে পারছিলেন না শুরু থেকে। কয়েকবার প্রতিপক্ষের রক্ষণে হানা দিয়েও সফল হয়নি। তাই গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৪২ মিনিট পর্যন্ত। ডান দিক থেকে জাহিদ হোসেনের ক্রসে ওমর জবির হেড ফেরে ক্রসবারে লেগে। এরপর ফিরতি বলে আর জাল খুঁতে পেতে সমস্যা হয়নি, ডান পায়ের প্লেসিংয়ে এই গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড এগিয়ে নেন শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবকে। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই মুক্তিযোদ্ধাও ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে এবং সোহেল রানার এক থ্রু বলে খুলে যায় গোলমুখ। চমৎকার এই বল ধরে ক্যামেরুনের ফরোয়ার্ড পল এমিল দূরের পোস্টে বল পাঠিয়ে ম্যাচে ফেরান মুক্তিযোদ্ধাকে। এরপর দুপক্ষই জয়সূচক গোলের সন্ধান করেছে তবে সফল হয়েছে সলোমন কিং। ডান প্রান্ত থেকে পাঠানো মোজাম্মেলের ক্রসে এই গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ডের হেড গোলরক্ষক মাহফুজকে কোনো সুযোগ না দিয়ে পৌঁছে যায় মুক্তিযোদ্ধার জালে।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রকে ২-১ গোলে হারিয়েছে তিনবারের লিগ চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল। দিনের অন্য ম্যাচে আরামবাগ ২-১ গোলে মারুফুল হকের চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারিয়ে অঘটনের জন্ম দিয়েছে।

দিনের অন্য ম্যাচে আরামবাগ চট্টগ্রামে স্বাগতিকদের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে শুরু থেকেই। চট্টগ্রাম আবাহনীর সঙ্গে তুলনা করলে এই আরামবাগ সেরকম কোনো শক্তিই নয়। ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে জেরবার হওয়ায় ক্লাবটি শেষ মুহূর্তে দল গঠন করে মাঠে নেমেছে। সেই দলই কিনা চমকে দিয়েছে ৩৮ মিনিটে মারুফুল হকের চট্টগ্রাম আবাহনীর জালে বল পাঠিয়ে। মিসরীয় মিডফিল্ডার মোস্তফা মাহমুদের লং বল ধরে আনমার্কড এলিটা কিংসলে তিন ডিফেন্ডারকে অনেকখানি পেছনে বল পাঠিয়ে দেন দূরের পোস্টে। আরামবাগ লিড নেয় ১-০ গোলের। তবে প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে দুই মিনিটের নাটকে ম্যাচ জমে ওঠে আরো। ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে স্বাগতিকরা ম্যাচে ফেরে দেশি স্ট্রাইকার সাখাওয়াত হোসেনের গোলে। ডানদিক থেকে দারুণ স্কয়ার পাস ঠেলে নাইজেরিয়ান চিনেডু ম্যাথু চমৎকার সাজিয়ে দিয়েছিলেন গোলটি। কিন্তু ম্যাচে ফিরে যে তারা দম ফেলার ফুরসতও পাননি, পরের মিনিটে চট্টগ্রাম আবাহনীর রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে আবার লিড নেয় আরামবাগ। এবারও ওই মাহমুদের লং বল, তবে সেটা গিয়ে পড়েছিল আবাহনীর ডিফেন্ডার শওকত রাসেলের পায়ে, যা অনায়াসেই ক্লিয়ার করার সুযোগ ছিল। তিনি দিলেন ব্যাক পাস, তাও কচ্ছপ গতির পাস যা অনায়াসে ধরে এলিটা কিংসলে কোনাকুনি শটে গোলরক্ষক নেহালকে পরাস্ত করে ২-১ গোলে এগিয়ে নেন আরামবাগকে। বিরতির পর তারা স্বাগতিকদের তোপের মুখে পড়লেও গোলপোস্ট সুরক্ষিত রেখে অবিশ্বাস্য এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মোহামেডানের কাছে প্রথম ম্যাচ হারা আরামবাগ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা