kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মহামূল্য ভেট্টোরিও খরচের খাতায়!

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মহামূল্য ভেট্টোরিও খরচের খাতায়!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বড় আশা করেই নিয়ে আসা হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু কাজের কাজ খুব একটা না হওয়ায় নিজেও বুঝে গিয়েছিলেন যে ২০১৯ বিশ্বকাপের পর কিছুতেই আর চুক্তি নবায়ন হচ্ছে না তাঁর। তাই বিশ্বকাপে যাওয়ার আগেই ঢাকায় শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকের সঙ্গে বিদায়ি সাক্ষাৎও করে গিয়েছিলেন কোর্টনি ওয়ালশ। বিশ্বকাপ শেষে ইংল্যান্ড থেকেই নীরবে বিদায় নেন ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফাস্ট বোলার। তাঁর কিছু ব্যর্থতা নিশ্চয়ই ছিল। তবে ওয়ালশকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে না পারার দায় অবশ্যই তাঁর নয়।

তিনি চলে যাওয়ার বহুদিন পর সে দায় স্বীকারেও কোনো আপত্তি করলেন না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। গতকাল বিকেলে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের বিসিবি কার্যালয়ে নিজের কক্ষে বসে বলছিলেন, ‘এটি সত্যি কথা যে ওয়ালশের পুরোটা আমরাও নিতে পারিনি।’ বলে রাখা ভালো, এত দিন পর এক বিকেলে ওয়ালশ প্রসঙ্গ অপ্রাসঙ্গিকভাবে ওঠেনি মোটেও। বাংলাদেশ দলের স্পিন বোলিং উপদেষ্টা ডেনিয়েল ভেট্টোরি প্রসঙ্গেই উঠে এসেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার। তাঁর সঙ্গে বিসিবির চুক্তি যেরকম ছিল, ভেট্টোরির সঙ্গেও অনেকটা সেরকমই। অর্থাৎ সিরিজভিত্তিক চুক্তি। একটা করে সিরিজ আসবে, আসবেন ভেট্টোরি এবং সিরিজ শেষে চলেও যাবেন। যেমনটি ছিল ওয়ালশের ক্ষেত্রেও।

কিন্তু চলে যাওয়ার পর এখন নিত্যই নিজেদের মনে প্রশ্ন জাগছে যে কেন ওয়ালশকে তৃণমূলে একটু কাজে লাগানো হলো না? কেন অফ সিজনে পেসারদের নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করার কোনো সুযোগ তৈরি করা গেল না? কেন বয়সভিত্তিক দলের বোলারদের ওয়ালশের কাছে শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হলো? ইত্যাকার নানা প্রশ্ন ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়ে আছে তো ভেট্টোরিকে নিয়েও। কারণ ২০২০-র টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে ১০০ দিন কাজ করার চুক্তি বিসিবির। প্রতিটি দিনই কোনো না কোনো সিরিজের সময়। যে সময়ে স্পিনারদের সমস্যার মূলে গিয়ে কাজ করার সুযোগ কম। আবার ব্যাপক উন্নতির জায়গা চিহ্নিত করে তা নিয়ে কাজ করার পর্যাপ্ত সময়ও থাকে না। তাতে ভেট্টোরির মতো একজনের কাছ থেকে স্পিনারদের সর্বোচ্চ উপকৃত হওয়া নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। যায় বলেই খোদ জাতীয় দলের মধ্যেও ইতিহাসের অন্যতম সেরা বাঁহাতি স্পিনারকে অন্যভাবে কাজে লাগানোর ফর্মুলা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ দলের এক সিনিয়র ক্রিকেটার যেমন বলেছেন, ‘স্পিনারের টেকনিক নিয়ে কাজ করার শ্রেষ্ঠ সময় অফ সিজন। সিরিজের সময় তো এসব নিয়ে কাজ করার সময় নেই। ওনাকে (ভেট্টোরি) তাহলে সিরিজের সময় এনে শুধু শুধু বসিয়ে রেখে লাভ কী?’

যদিও বিসিবি প্রধান নির্বাহী ড্রেসিংরুমেও ভেট্টোরির উপস্থিতিকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বললেন, ‘ভারত সিরিজের সময় আমি দেখেছি, উনি ব্যাটিংয়ে যাওয়ার আগে প্রতিটি ব্যাটসম্যানের সঙ্গে কথা বলছেন এবং ওদের অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করছেন। ওনার অভিজ্ঞতাও শেয়ার করছেন। এসবও আমাদের কাছে মূল্যবান।’ আবার এটিও ঠিক যে তাঁর সঙ্গে চুক্তি করার সময় এই ‘মূল্যবান’ জিনিস পাওয়ার কথা নিশ্চয়ই ভাবেনি বিসিবি। ভেবেছে তাঁর কোচিংয়ে নিজেদের স্পিন বিভাগকে সমৃদ্ধ করার কথাই। কিন্তু এখন অবস্থাদৃষ্টে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে ‘আসল’ প্রাপ্তির চেয়ে ‘বোনাস’-এর দিকেই বেশি ঝোঁক বিসিবির।

নিজাম উদ্দিন অবশ্য বলে রাখলেন, ভেট্টোরিকে অন্য সময়েও কাজে লাগানোর সুযোগ আছে, ‘সিরিজভিত্তিক চুক্তি করার অর্থ এই নয় যে তাঁকে আমরা অন্য সময়ে আনতে পারব না। আমি আপনাদের সঙ্গে একমত। তাঁর সার্ভিস অফ সিজনে নিতে পারলে ভালোই হবে। তবে সিরিজ আর অফ সিজনের মধ্যে ভারসাম্য রেখে সূচি সাজানোও জরুরি। আমরা এটি নিয়ে অবশ্যই কাজ করব।’

তার আগে আপাতত সিরিজের সময়ই পাওয়া যাবে ভেট্টোরিকে। ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আসছেন, জিম্বাবুয়ে টেস্টের এক দিন আগে। যথারীতি স্পিনারদের নিয়ে বিশেষায়িত অনুশীলন শিবির তাঁর করা হচ্ছে না এই দফায়ও। অথচ তিনি আসামাত্রই বিসিবির ব্যয়ের খাতায় গুচ্ছের ইউএস ডলার যোগ হতে থাকবে প্রতিদিন। কর কেটে দিনপ্রতি নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ককে দেওয়া হয় আড়াই হাজার ডলার। ভেট্টোরির পাঁচ দিনের আয় জাতীয় দলের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর পুরো মাসের সমান। সুযোগ-সুবিধায়ও অন্যদের চেয়ে আলাদা তিনি। ডমিঙ্গোসহ জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের অন্য সদস্যদের কারো জন্যই পূর্ণকালীন গাড়ি বরাদ্দ নেই। তাঁদের ঢাকার ঠিকানা থেকে স্টেডিয়ামে যাওয়া-আসার সময়ই কেবল গাড়ি পান তাঁরা। সে তুলনায় রীতিমতো ভিআইপি মর্যাদা ভেট্টোরির। পূর্ণকালীন গাড়ি আর চালকসহ জ্বালানি তেলও কোচদের মধ্যে শুধু তিনিই পেয়ে থাকেন। বর্তমান বাজারে তাঁর মতো হাই প্রফাইল কোচের পেছনে বিপুল অঙ্কের পারিশ্রমিকের পাশাপাশি অন্যান্য ব্যয়ের বিকল্পও নেই। তবে এর সমানুপাতিক সুফল তোলা যাবে কি না, চুক্তির ধরন সেই সংশয় জাগিয়েই রাখছে। ওয়ালশই হয়ে আছেন এর জ্বলন্ত উদাহরণ। দেখা যাক, সেই শিক্ষা এবার বিসিবি কাজে লাগায় কি না?

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা