kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

নির্বাচন করবেন না রুহুল আমিন

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : দুই বছরের লালিত স্বপ্নের ইতি টেনে দিলেন তিনি এক লহমায়। বহুল প্রচারিত ও আলোচিত বাফুফে সভাপতি প্রার্থী তারফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিন সরে দাঁড়ালেন আসন্ন বাফুফের নির্বাচনী হাওয়া থেকে। তাতে মাঠে আপাতত শুধুই কাজী সালাউদ্দিন।

নির্বাচন হবে আগামী এপ্রিলের শেষ দিকে। কিন্তু অনেক আগে থেকে নির্বাচনী হাওয়াটা তুলেছিলেন চট্টগ্রাম আবাহনীর পরিচালক রুহুল আমিন তরফদার। তাঁর স্বপ্ন ফুটবলের সভাপতির পদে বসা। তাই দুই বছর ধরে ফুটবল নিয়ে তাঁর নানামুখী তৎপরতা। কখনো জেলার ফুটবল জাগরণে অর্থলগ্নি করেছেন। কখনো বা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ঢাকার ক্লাবগুলোর দিকে। সুবাদে এক ধরনের জনপ্রিয়তাও তৈরি হয়েছিল তাঁর। তাই জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব পদে বসে রুহুল আমিন প্রায়ই সরব হতেন ফুটবল নিয়ে। কখনো বাফুফের সমালোচনায়, কখনো বা নিজের ফুটবল সংস্কারের পরিকল্পনার কথা বলতেন। কিন্তু গতকাল হঠাৎই স্বপ্নের লাগাম টেনে ধরলেন তিনি, ‘ফুটবল ফেডারেশন নির্বাচনে আমি সভাপতি পদে নির্বাচন করার যে ঘোষণা দিয়েছিলাম সেখান থেকে আপাতত সরে দাঁড়াচ্ছি। আমি ফুটবলের ভালো চাই। কারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফুটবলে যে অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এখান থেকে মুক্তি পেতে চাই। এ নিয়ে যেভাবে কাদা ছোড়াছুড়ি হচ্ছে তা কারো জন্য মঙ্গলজনক নয়।’

সামনের নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম ফুটবলপাড়ার আকস্মিত ঝিমিয়ে পড়ার কারণ নিয়ে নানামুখী আলোচনা রয়েছে। এ ব্যবসায়ী সংগঠকের সরে দাঁড়ানোটা সরলভাবে দেখছেন না অনেকেই। সংগত কারণে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন উঠেছে, আপনার ওপর কোনো চাপ ছিল কী? রুহুল আমিনের এড়িয়ে যাওয়া জবাব, ‘না। কোনো চাপ নেই। ফুটবলের স্বার্থে কাজ করে যাব।’ কিন্তু সদা হাস্যময় আমিনের চেহারায় ছিল কাল রাজ্যের অন্ধকার, তা যেন অনুচ্চারে অনেক কথাই বলে দিচ্ছে। চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে তাঁর গভীর হৃদ্যতা। সেই নাছির চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে সরকারি দলের টিকিট না পাওয়ার সঙ্গেও তরফদারের মত পরিবর্তনের কারণ কি না, গুঞ্জন রয়েছে। আমিনের জবাব, ‘ওটা রাজনৈতিক ইস্যু আর এটা ফুটবলের। দুটোর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।’

বহুল প্রচারিত ও আলোচিত বাফুফে সভাপতি প্রার্থী তারফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিন সরে দাঁড়ালেন আসন্ন বাফুফের নির্বাচনী হাওয়া থেকে। তাতে মাঠে আপাতত শুধুই কাজী সালাউদ্দিন।

আরেকটি সূত্র জানাচ্ছে, বাফুফে সভাপতি পদে নির্বাচন করলে রুহুল আমিনের ব্যাবসায়িক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। গত কয়েক দিনে এটা ভালোভাবে টের পেয়েছেন বলেই তিনি পিঠটান দিয়েছেন। যেটাই হোক, কোনো না কোনো কারণে রুহুল আমিনের স্বপ্নে আপাতত বাঁধ দিতে হচ্ছে। তবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার সময় চট্টগ্রাম আবাহনীর এই সংগঠক চার বছর আগের বাফুফে নির্বাচনের কথা টেনে বলেছেন, ‘ফেডারেশনে এখন যে কমিটি আছে চার বছর আগের নির্বাচনে আমি তাদের প্রধান সমন্বয়ক ছিলাম। তখন বর্তমান সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন সবার কাছে আবেদন করেছিলেন শেষবারের মতো তাঁকে সুযোগ দেওয়ার জন্য। ২০১৬ সালের নির্বাচনকেই তিনি তাঁর শেষ নির্বাচন বলেছিলেন।’ সেবার তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচনের প্রাক্কালে বলেছেন, ‘আমি নির্বাচন করব না বলিনি। এটা বোঝার ভুল ছিল। তখন বলেছিলাম, সামনে আমি দাঁড়াতেও পারি, আবার না-ও দাঁড়াতে পারি। আসলে এখনো কিছু কাজ বাকি রয়ে গেছে।’ সেই বাকি কাজ শেষ করতেই বর্তমান সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় বাফুফে নির্বাচনে আবার সভাপতি প্রার্থী।

ফুটবলের ১২ বছরের এই সভাপতির জন্য এবার ময়দান একদম ফাঁকা। গতবারের ঝঞ্ঝাবিক্ষুুব্ধ পরিবেশের তুলনায় ভীষণ শান্ত, অন্তত গতকাল থেকে। তবে তাঁর সঙ্গী-সাথিদের কেউ কেউ এরই মধ্যে বিদ্রোহ করেছেন। সহসভাপতি মহিউদ্দিন মহি পুরনো প্যানেল থেকে নির্বাচন না করার ঘোষণা দিলেও সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘কারো থাকা, না থাকা পরে। আমি তাঁকে রাখব কি না, সেই সিদ্ধান্ত তো আমার। মহি বাফুফের হিসাব-নিকাশ নিয়ে নানা অভিযোগ তুলেছেন অথচ যেখানে কথা বলার জায়গা, সেই বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি যাননি।’ তাই সালাউদ্দিনের প্যানেলে এবার হয়তো নতুন অনেক সংগঠক যোগ হবেন। তবে রুহুল আমিনের পক্ষের লোকজনও একটি প্যানেল দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যা হতে পারে সভাপতিহীন প্যানেল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা