kalerkantho

শুক্রবার । ২০ চৈত্র ১৪২৬। ৩ এপ্রিল ২০২০। ৮ শাবান ১৪৪১

২২ বছরে ১৫ বার

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : ২২ বছরে এই নিয়ে ১৫তম বারের মতো বাংলাদেশে এসেছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে এসেছে দুইবার করে।

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল প্রথমবারের মতো ঢাকায় আসে ১৯৯৮ সালে, আইসিসি নক আউট বিশ্বকাপের প্রথম আসরে। ১৯৯৬ বিশ্বকাপের ফলের ওপর ভিত্তি করে অবস্থানের দিক থেকে শেষ দুটো টেস্ট খেলুড়ে দলকে খেলতে হয়েছিল কোয়ালিফায়ার, দারুণ উত্তেজনার সেই ম্যাচে শেষ বলে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৫ উইকেটে হেরেছিল জিম্বাবুয়ে। অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেল, অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ারদের নিয়ে গড়া সেই দলটা নিজেদের দিনে হারিয়ে দিতে পারত যেকোনো দলকেই। তাদের সঙ্গে ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় নামা দলটার তুলনা করলে শুধুই ভারী হবে দীর্ঘশ্বাস আর বাড়বে হতাশা। বাংলাদেশের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে দলের প্রথম সিরিজ ১৯৯৯ সালের মেরিল কাপ, যে সিরিজটা স্মরণীয় হয়ে আছে মেহরাব হোসেনের শতরানের কীর্তিতে। বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়, প্রথম টেস্ট জয়, প্রথম টি-টোয়েন্টি; ইতিহাসের অনেকগুলো পাতাতেই আছে আফ্রিকার দেশটির নাম। সেই কৃতজ্ঞতার বন্ধনের জন্যই হয়তো আইসিসি জিম্বাবুয়েকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পরও তাদের ত্রিদেশীয় সিরিজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বিসিবি! ১৯৯৯ থেকে ২০১৯, এই দুই দশকের খুব কম বছরই আছে যে বছর ক্রিকেটের কোনো না কোনো সংস্করণে খেলতে বাংলাদেশে আসেনি জিম্বাবুয়ে। এ কথা সত্যি যে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার শুরুর দিনগুলোতে অনেক বড় দলগুলোরই বাংলাদেশ সফরে অনীহা থাকায় জিম্বাবুয়েকেই বেশি করে পাশে পেয়েছে বোর্ড। তবে ইদানীং প্রবণতাটা অন্য রকম।

১৯৯৯, ২০০১, ২০০৫, ২০০৬, ২০০৯, ২০১০; একুশ শতকের প্রথম দশকের এই বছরগুলোতে বাংলাদেশে এসেছে জিম্বাবুয়ে। দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে এই সময়ে বাংলাদেশও ফিরতি সফরে গিয়েছে জিম্বাবুয়েতে। চালচিত্রটা বদলে গেছে ২০১৩ সালের পর। সেবার জিম্বাবুয়েতে গিয়ে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলার পর আর জিম্বাবুয়ে সফরে যায়নি বাংলাদেশ। অথচ বাংলাদেশে আসা বেড়েছে জিম্বাবুয়ের। ২০১৪-২০১৯-এর মধ্যে শুধু ২০১৭ সালেই বাংলাদেশে আসেনি জিম্বাবুয়ে। ২০১৪ সালে বিশ্ব টি-টোয়েন্টি খেলতে মার্চে বাংলাদেশে এসেছিল জিম্বাবুয়ে, এরপর অক্টোবরেই ব্রেন্ডন টেলরের নেতৃত্বে ৩ টেস্ট ও ৫ ওয়ানডের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসে তারা। পরের বছর, অর্থাৎ ২০১৫-র নভেম্বরে আবারও বাংলাদেশে আসে জিম্বাবুয়ে, মূল সূচিতে টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি থাকলেও আসন্ন এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি ও বিশ্ব টি-টোয়েন্টর প্রস্তুতিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শুধুই তিনটি ওয়ানডে এবং দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। ২০১৫-র নভেম্বরের পর ২০১৬-র জানুয়ারি, মাত্র মাস দুয়েকের ব্যবধানে আবার বাংলাদেশে জিম্বাবুয়ে, খুলনায় ৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে। ২০১৭ সালে না এলেও বেশি দিন অপেক্ষায় না রেখে ২০১৮ সালের শুরুতেই ফের বাংলাদেশে চলে আসে তারা। এবারে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের সঙ্গে তৃতীয় দল হিসেবে। সেই একই বছরের শেষ দিকে, অক্টোবরে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে আবার আসে জিম্বাবুয়ে। ওয়ানডে সিরিজে হারলেও টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়ে দিয়ে লম্বা সময় পর দেশের বাইরে টেস্ট জয়ের স্বাদও নিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। ২০১৮-র নভেম্বরে টেস্ট শেষ করে বাড়ি ফেরার পর এক বছর না কাটতেই আবারও বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজে ডাক পড়ে জিম্বাবুয়ের। সেটা ছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরের কথা। মাস চারেক পেরোতে না পেরোতেই এখন আবারও ঢাকায় জিম্বাবুয়ে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা