kalerkantho

শুক্রবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৭ সফর ১৪৪২

মাশরাফিকে নিয়ে জিম্বাবুয়ে সিরিজ

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মাশরাফিকে নিয়ে জিম্বাবুয়ে সিরিজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মাশরাফি বিন মর্তুজার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ কী? এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর নেই কারোর কাছে। মাশরাফি নিজে অবশ্য খেলা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছেন। বাকিটা নির্বাচকদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। তো, নির্বাচকরা কি মাশরাফিকে রাখবেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে? ভেতরের খবর, মাশরাফিকে নিয়েই সিলেটে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

সরকারিভাবে কোনো ভাষ্য অবশ্য নেই। মাঝে টেস্ট ম্যাচ আছে বিধায় ওয়ানডে স্কোয়াড ঘোষণার জন্য আরো কিছুদিন সময়ও পাচ্ছেন নির্বাচকরা। তাই এখনই মাশরাফির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বাধ্যবাধকতা নেই তাঁদের। অবশ্য বিষয়টি এতটাই স্পর্শকাতর যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনেক ‘উঁচু’ মহল থেকে আসবে বলেই মনে করছে অনেকে।

সে ধারণার সূত্র ধরেই গতকাল মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ছড়িয়ে পড়ে যে সন্ধ্যায় (গতকাল) বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসানের সঙ্গে একান্ত আলোচনায় বসবেন মাশরাফি। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সে আলোচনা দুই দিন আগে সংসদ ভবনে হয়ে গেছে দুজনের মধ্যে। সে আলোচনার সারবেত্তা জানিয়েছেন বোর্ডের এক ক্ষমতাবান পরিচালক, ‘দুই দিন আগেই তাদের (বোর্ড সভাপতি ও মাশরাফি) কথা হয়েছে। সেখানে মাশরাফি নাকি আরো বছর দেড়েক খেলার ইচ্ছার কথা জানিয়েছে।’ তবে কোচ ও মাশরাফিকে নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনায় সহসাই বসবেন বিসিবি সভাপতি।

এদিকে বিসিবির ক্ষমতাধর একটি অংশ মনে করছে জিম্বাবুয়ে সিরিজে মাশরাফির থাকা না থাকার সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি। কারণ হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো নাকি ভবিষ্যতের জন্য দল গোছানোর কাজটা জিম্বাবুয়ে সিরিজ দিয়েই শুরু করতে চেয়েছিলেন। মাশরাফি যেহেতু নিজের ক্রিকেটার জীবনের আয়ু বছর দেড়েকের বেশি দেখছেন না, সেহেতু ওয়ানডে অধিনায়ক পদে নতুন কাউকে নিয়েই ২০২৩ বিশ্বকাপের রোডম্যাপ আঁকতে চান ডমিঙ্গো। সেটা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ থেকেই।

সেটি তিনি আপাতত ‘আঁকতে’ পারবেন বলে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না এখনই। বোর্ড সভাপতির সঙ্গে কী কথা হয়েছে কিংবা আদৌ কথা হয়েছে কি না, এ নিয়ে যথারীতি নিশ্চুপ মাশরাফি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলার সম্ভাবনা নিয়েও পুরনো দর্শনে স্থির তিনি, ‘এটা নির্বাচকদের ব্যাপার। এ নিয়ে অনেক কথা বলেছি। আর কিছু বলার নেই।’ তবে চেষ্টা করছেন তিনি। মিরপুরে যে সময়টায় অন্য ক্রিকেটার কিংবা সংবাদকর্মীর ভিড় থাকে না, তখন এসে জিম করেন, বোলিং করেন। তাতে অনেকটাই ওজন কমিয়ে ফেলা মাশরাফিকে দেখে এক সংবাদকর্মীর প্রশ্ন, ‘এত শুকালেন কী করে?’ তাঁর উত্তরে মাঠে ফেরার স্থির লক্ষ্য, ‘মাঠে নামলে বোঝা যাবে কতটা কী হয়েছে।’

বিসিবির ক্ষমতাধর একটি অংশ মনে করছে জিম্বাবুয়ে সিরিজে মাশরাফির থাকা না থাকার সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি। কারণ হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো নাকি ভবিষ্যতের জন্য দল গোছানোর কাজটা জিম্বাবুয়ে সিরিজ দিয়েই শুরু করতে চেয়েছিলেন। মাশরাফি যেহেতু নিজের ক্রিকেটার জীবনের আয়ু বছর দেড়েকের বেশি দেখছেন না, সেহেতু ওয়ানডে অধিনায়ক পদে নতুন কাউকে নিয়েই ২০২৩ বিশ্বকাপের রোডম্যাপ আঁকতে চান ডমিঙ্গো।

একটা ‘মাঠ’ তাঁর নিশ্চিত হয়ে গেছে। এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের জন্য মাশরাফিকে মোটা অঙ্কেই নিচ্ছে শেখ জামাল ধানমণ্ডি। তবে তাঁর আসল ‘ফ্রন্টিয়ার’ তো জাতীয় দল। আরো নির্দিষ্ট করে বললে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ চলাকালীন অবস্থানকালেই নির্দিষ্ট হয়ে যাবে মাশরাফির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। দলে থাকলে ধরে নিন প্রলম্বিত হচ্ছে তাঁর ক্যারিয়ার। আর না থাকলে অলক্ষ্যে বিদায় ঘটে যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনবদ্য এক ক্রিকেট চরিত্রের।

দীর্ঘদিন পর মিরপুরে সাংবাদিকদের জটলায় ‘পুরনো’ মাশরাফির মনে এ নিয়ে বিশেষ কোনো আক্ষেপ আছে বলে মনে হয়নি। বরং ঘুরেফিরে সেই ২০১৯ বিশ্বকাপে নিজের পারফরম্যান্সই কাটাছেঁড়া করে গেছেন, ‘নতুন বলে আমার আর তামিমের (ইকবাল) ভূমিকা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি নতুন বলে বোলিং করি আর ও (তামিম) করে ব্যাটিং। অথচ আমরা দুজন একসঙ্গে খারাপ খেললাম। আমরা এভাবে ফ্লপ না করলে বিশ্বকাপটা অন্য রকম হতে পারত।’

যেমনটা হয়েছিল বিশ্বকাপের ঠিক আগের আয়ারল্যান্ড সফরে। ত্রিদেশীয় ওই সিরিজের চার ম্যাচে ৯ উইকেট নেওয়া মাশরাফি রানের চাকাও আটকে রেখেছিলেন। তাতে অন্য প্রান্ত থেকে উইকেট নেওয়ার কাজও কিছুটা সহজ হয়েছিল। তামিম মারকাটারি কোনো ইনিংস খেলেননি। তবে ইনিংসের প্রায় সবটাজুড়েই ক্রিজে ছিলেন, যা চাপমুক্ত রাখে দলের ব্যাটিং ইউনিটকে। ‘সাকিব যে ক্রিকেট খেলেছে, তাতে আমরা দুজন যদি আয়ারল্যান্ড সিরিজের অর্ধেকও খেলতে পারতাম...’ বাকিটুকু পড়ে নিতে অসুবিধা হয় না।

একটা জিম্বাবুয়ে সিরিজ কিংবা আরো বছরখানেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেললে কি এ হাহাকারের উপশম মিলবে? মিলবে না। তবে একটা বিশ্বকাপেই ফুরিয়ে যাইনি—এই একটা ‘এজেন্ডা’ই যেন সকাল ৮টায় মিরপুরের জিমে টেনে আনে মাশরাফিকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা