kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

একূলে মিনহাজুল ওকূলে ডমিঙ্গো

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একূলে মিনহাজুল ওকূলে ডমিঙ্গো

ক্রীড়া প্রতিবেদক : কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর ভাবনা এক রকম। মিনহাজুল আবেদীন-হাবিবুল বাশারদের নির্বাচক প্যানেলের চিন্তাধারায় আরেক স্রোত। দুই টেস্টের দুই দল ঘোষণায় দুই পেসার মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেনের সৌজন্যে তা জানা গেল আরেক দফা।

পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের জন্য স্কোয়াড দেওয়া হয় ২ ফেব্রুয়ারি। সেখানে মুস্তাফিজকে না রাখায় প্রধান নির্বাচকের ব্যাখ্যা, ‘ও এক টেস্ট খেলে, আরেক টেস্টে আনফিট। বোলিংও আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী করতে পারছে না। তাই ভাবলাম, ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে আসুক।’ পরদিন কোচ ডমিঙ্গো একই প্রশ্নের উত্তরে ওই বাঁহাতি পেসারের টেস্ট ক্যারিয়ারে টেনে দেন আপাত বিরতি, ‘মুস্তাফিজকে টেস্টের বিবেচনায় সিরিয়াসলি নেওয়ার আগে ওর অনেক টেকনিক্যাল কাজ করতে হবে।’

এরপর সপ্তাহ দুয়েক পেরিয়েছে কেবল। অথচ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কাল যে স্কোয়াড ঘোষণা হয়, তাতে ঠিকই মুস্তাফিজের প্রত্যাবর্তন! বিস্ময়ের ঘোর আরো বেড়ে যায় মিনহাজুলের ব্যাখ্যায়। ‘মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সময় বলা হচ্ছিল, লাল বলের ক্রিকেটে বিবেচনা করা হচ্ছে না...’—কথার পিঠে প্রধান নির্বাচকের উত্তর, ‘আমাদের নির্বাচক প্যানেল থেকে বলা হয়নি।’ ‘জাতীয় দলের কোচ বলেছিলেন’—ধরিয়ে দেওয়ার পর জবাব, ‘কোচ এটা চিন্তা করেছিল। কিন্তু বিসিএলে মুস্তাফিজ যেভাবে (ফর্মে) ফিরে এসেছে, তাতে ওকে এখন অবশ্যই লাল বলে বিবেচনা করা যায়।’

সেই ফিরে আসার নমুনা জানেন? দুই জাতীয় দল ঘোষণার মধ্যে বিসিএলে একটি মাত্র ম্যাচ খেলেছেন মুস্তাফিজ। এতেই আগেরবার বাদ দেওয়ার সময় মিনহাজুল যে বলেছিলেন, ‘ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে আসুক’—সে শর্তপূরণ। কোচের ‘টেস্ট বিবেচনায় সিরিয়াসলি নেওয়ার আগের অনেক টেকনিক্যাল কাজ করা’ও যেন হয়ে গেছে! এতে কোচ আর নির্বাচক প্যানেলের ভাবনার দূরত্বও মানতে নারাজ প্রধান নির্বাচক, ‘নিজেদের আইডিয়া ম্যানেজমেন্ট অবশ্যই আমাদের দেবে। আর কোচ তো ঘরোয়া ক্রিকেটে খুব একটা ম্যাচ দেখেননি। মুস্তাফিজের পর পর দুটো বিসিএল ম্যাচ দেখেছি আমরা। দেখে আমরা দেখলাম, ও আগের মতোই বল করেছে।’

মিনহাজুল সর্বশেষ দুটো ম্যাচের যে সীমা বেঁধেছেন, এর প্রথমটিতে ওই পেসারের বোলিং ফিগার ৪/৬৮, ২/৫৪। চলমান দ্বিতীয় ম্যাচে ০/২০, ১/১৭। এটাই মুস্তাফিজের আগের মতো বোলিং!

রুবেলের ব্যাপার পুরো উল্টো। আগের চার বছরে খেলা চার টেস্টে ৩০৪ গড় এবং ৪৬৮ স্ট্রাইকরেটে মাত্র এক উইকেট পাওয়া রুবেলকে নেওয়া হয় রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাঁকে বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যায় প্রধান নির্বাচক বলেছেন, ‘এখন টিম ম্যানেজমেন্ট চাইছে, ও পুরোপুরি সাদা বলের খেলায় মনোযোগ দিক; লাল বলে না।’ তাহলে আগের টেস্টে নির্বাচকরা নিলেন কেন? অনুমিতভাবেই টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে দূরত্বের বিষয়টি নাকচ করেছেন মিনহাজুল, ‘না, এটি দূরত্বের ব্যাপার না। কোচ এবং অধিনায়কের সঙ্গে কথা বলে দলের ভালোর জন্যই এসব করা হচ্ছে।’

ব্যাখ্যাটি যেন বলার জন্যই বলা। কিন্তু কাজের বেলার ভাবনার দূরত্বটা স্পষ্ট। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এত গোলমেলে সব কথাবার্তায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা