kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

প্রত্যাবর্তনের হাসি

বাদ নন ‘বিশ্রামে’ মাহমুদ উল্লাহ

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাদ নন ‘বিশ্রামে’ মাহমুদ উল্লাহ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : তিন বছর আগেও একবার তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেতে বসেছিল প্রায়। কলম্বোর পি সারা ওভালে বাংলাদেশের শততম টেস্টের একাদশ থেকে বাদ পড়া মাহমুদ উল্লাহকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছিল দেশেও। কিন্তু তখনকার হেড কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহের এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে এই ব্যাটসম্যানের টেস্ট ক্যারিয়ার পেয়েছিল ‘দ্বিতীয় জীবন’।

ফিরেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকায় পরের টেস্ট সিরিজেই। সে যাত্রায় রক্ষা পাওয়ার পর যেন নতুনভাবেই শুরু করেছিলেন মাহমুদ। ৯ বছর পর পেয়েছিলেন নিজের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা। তাঁর চার টেস্ট সেঞ্চুরির তিনটিই করেছেন দ্বিতীয় জীবন পাওয়ার পর খেলা ১৬ টেস্টে। তাও আবার সেই তিনটি করেছিলেন চার টেস্টের মধ্যে, দুটো টানা দুই টেস্টে। ব্যাট হাতে এমন দুর্দান্ত সময় পার করা মাহমুদ উল্লাহরই কিনা সবশেষ ৫ টেস্টের ১০ ইনিংসে ফিফটি মাত্র একটি। এমনিতেই ব্যাটে রান নেই, তার ওপর রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ফাস্ট বোলার নাসিম শাহর হ্যাটট্রিক বলে দায়িত্বজ্ঞানহীন শট খেলে নিজেকে নিয়ে ওঠা প্রশ্ন যেন উচ্চকিত করে দিয়েছেন আরো!

এরই সূত্র ধরে বর্তমান হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো যে তাঁকে টেস্ট থেকে অবসর নিতে বলেছেন এবং জবাবে মাহমুদ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, তাও জানতে বাকি নেই ক্রিকেটাঙ্গনের কারো। প্রকাশ্যে সেটি স্বীকার করে মিনহাজুল আবেদীন বিষয়টিকে আনুষ্ঠানিকতার মোড়ক পরাতে চাইবেন না স্বাভাবিক। তবে গত কিছুদিনের আলোচনার ধারাবাহিকতায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের দল থেকে মাহমুদের বাদ পড়া অবধারিত হয়ে থাকলেও প্রধান নির্বাচকের তা গোপন করাই বরং বিস্ময়কর লাগল। মিনহাজুলের বক্তব্যে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের টেস্ট ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা উহ্যই থেকে গেল তাই, ‘ও একজন সিনিয়র খেলোয়াড়। আমরা এই সিরিজে ওকে বিশ্রামে রেখেছি।’

বিশ্রামের ছদ্মাবরণে মাহমুদকে বিদায়ের পথও দেখিয়ে দেওয়া হলো কি না, আপাতত নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই। কারণ একেই লড়াই করে ফিরতে চান তিনি। তার ওপর অন্যদের ব্যর্থতাই কারো কারো ক্যারিয়ারের ‘লাইফলাইন’ হয়ে ওঠার নজির কম নয় বাংলাদেশে। নিজে ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করতে থাকলে মাহমুদের সেই অপেক্ষা দ্রুত ফুরাতেও পারে। এই যেমন টেস্টে ফেরার অপেক্ষা দ্রুতই ফুরিয়েছে মুস্তাফিজুর রহমানের। তাঁর মতো ১৬ জনের দলে ফিরেছেন তাসকিন আহমেদ এবং মেহেদী হাসান মিরাজও। পাকিস্তান সফরে না যাওয়ায় মুশফিকুর রহিমও ফিরেছেন বলা যাচ্ছে। টেস্ট দলে প্রথমবারের মতো জায়গা পেয়েছেন ব্যাটসম্যান ইয়াসির আলী চৌধুরী এবং পেসার হাসান মাহমুদ।

হাসানকে ধরে এই দলে পেসারের সংখ্যা পাঁচজন। মিনহাজুল জানালেন, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে তৃতীয় দফার পাকিস্তান সফরে করাচি টেস্ট প্রস্তুতি চিন্তা থেকেই পেসারের আধিক্য, ‘পেস বোলার বেশি নেওয়ার কারণ হচ্ছে, টিম ম্যানেজমেন্ট চাচ্ছে কিছু বোলারকে প্রস্তুত করতে। কারণ এরপর আমাদের পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ আছে। এর প্রস্তুতিও যেন একসঙ্গেই নেওয়া যায়। এই টেস্টের পর তো আবার ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাবে দল। তাই খুব বেশি অনুশীলনেরও সুযোগ নেই।’ ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া একমাত্র টেস্টের পাশাপাশি তাই করাচি টেস্টের প্রস্তুতিও চলবে। এই প্রথম টেস্ট দলে জায়গা করে নেওয়া হাসানের গতি যে যথেষ্টই গুরুত্ব পাচ্ছে, সেটিও পরিষ্কার প্রধান নির্বাচকের কথায়, ‘টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা একটি বিষয় ঠিক করেছি। যারা জোরে বল করতে পারে বা যাদের গতি ১৪০ কিলোমিটারের (ঘণ্টায়) কাছাকাছি, তাদের বিবেচনা করা হবে। হাসানের মধ্যে আমরা এই প্রতিভাটা দেখেছি। দুর্ভাগ্যবশত মাঝখানে সে কিছুটা লাইনচ্যুত ছিল। আবার ফিরেছে, যে কারণে সিস্টেমের মধ্যে আমরা ওকে নিয়েছি।’ মনে করিয়ে দেওয়া দরকার যে টেস্ট ক্যারিয়ার খাদের কিনারায় চলে যাওয়ার পরও কিন্তু মাহমুদ উল্লাহ সিস্টেমে ফিরেছিলেন! 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা