kalerkantho

শনিবার । ১৪ চৈত্র ১৪২৬। ২৮ মার্চ ২০২০। ২ শাবান ১৪৪১

অমন উইকেটে লাভ হলো কই!

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : উল্লাস যতটা না, তার চেয়ে বেশি ছিল গর্ব। যেন ক্রিকেটের কুলীন সমাজে ঠাঁই হলো অবশেষে। অভিজাত ফরম্যাট টেস্টে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে পর পর দুই বছর হারানো তো চাট্টিখানি অর্জন নয়! সেটি স্পিনঘূর্ণির উইকেট বানিয়ে হলেও-বা কী!

কিন্তু সেই জোড়া শিকারের পর বাংলাদেশের টেস্ট পরীক্ষার খাতায় কেবলই লাল কালির দাগ। অমন উইকেট বানিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে কী লাভ হলো, সে প্রশ্ন অবান্তর নয়। আবার বর্তমানের দুঃসময় কাটানোর জন্য জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একই ফর্মুলার এগোনোর যৌক্তিকতাও প্রশ্নবিদ্ধ।

২০১৬ সালে ইংল্যান্ড এবং পরের বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট জেতে বাংলাদেশ; ড্র করে সিরিজ। মাঝে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে অ্যাওয়েতেও জিতে আসে। কিন্তু সে সুসময় এখন সাময়িক বলে প্রমাণিত। অসিদের বিপক্ষে সেই সিরিজের পর বাংলাদেশ ১৬টি টেস্ট খেলেছে। এর মধ্যে ১২টিতেই হার। তিন জয়ের সঙ্গে ড্র একটিতে। এ সময়ে নিজ দেশে খেলা সাত ম্যাচে তিনটি করে জয়-হার; একটিতে ড্র। আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ের মতো দলের কাছেও যখন হারতে হয়, তখন অর্জনের আলো খুঁজে পাওয়া কঠিন।

আর দেশের বাইরে খেলা ৯ টেস্টের তো সবগুলোতেই হার। দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও পাকিস্তান সফরের কোনো ম্যাচে ন্যূনতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। ৯ টেস্টের মধ্যে সাতটিতেই হারে ইনিংস ব্যবধানে। বাকি দুই টেস্টে কাগজ-কলমে সে পরিণতি না হলেও পার্থক্য নেই খুব একটা। ২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পচেফস্ট্রুম টেস্টে ৩৩৩ রানে হারে বাংলাদেশ। কিন্তু স্বাগতিকরা প্রথম ইনিংসে যে তিন উইকেটে ৪৯৬ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে, সফরকারীরা দুই ইনিংস (৩২০ ও ৯০) সে রান করতে পারেনি। ২০১৮ সালে কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ১৬৬ রানে হারা ম্যাচেও তাই। ক্যারিবিয়ানদের প্রথম ইনিংসের ৩৫৪ রান দুই ইনিংস মিলিয়েও (১৪৯ ও ১৬৮) করতে পারেনি বাংলাদেশ।

অভিজাত ফরম্যাট টেস্টে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে পর পর দুই বছর হারানো তো চাট্টিখানি অর্জন নয়! সেটি স্পিনঘূর্ণির উইকেট বানিয়ে হলেও-বা কী! কিন্তু সেই জোড়া শিকারের পর বাংলাদেশের টেস্ট পরীক্ষার খাতায় কেবলই লাল কালির দাগ।

এ দুটো ম্যাচ তাই ইনিংস ব্যবধানে হারের চেয়ে কম কিসে!

অথচ অমন ঘূর্ণিট্র্যাক (আসলে আন্ডার প্রিপেয়ার্ড) উইকেটের তত্ত্ব আবিষ্কারের আগের প্রায় একই সময়কালের ছবি দেখুন। সেটি বরং অনেক উজ্জ্বল। ২০১৩ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত তিন বছরে ১৮টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। তাতে চার জয়, ছয় হার এবং আট ড্র। ওই অষ্টকে ২০১৫ সালে ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনটি ড্র না হয় বৃষ্টির সৌজন্যে। এর বাইরেও তো শ্রীলঙ্কা-নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কৃতিত্বপূর্ণ তিন অমীমাংসা। আর ২০১৩ সালে গলে শ্রীলঙ্কা এবং ২০১৫ সালে খুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ড্র দুটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা। প্রথমটিতে সাকিব-তামিম না খেলা সত্ত্বেও অমন ফল; মুশফিকের ডাবল সেঞ্চুরি, আশরাফুল-নাসিরদের সেঞ্চুরিতে। আর পরেরটিতে প্রথম ইনিংসে ২৯৬ রানে পিছিয়ে পড়ার পর তামিম-ইমরুলের ওপেনিং জুটির ৩১২; প্রথমজনের ডাবল সেঞ্চুরি, পরেরজনের দেড় শতে বীরত্বপূর্ণ ড্র।

এ তিন বছরে দেশে খেলা ১২ টেস্টের মধ্যে তিন জয়, দুই হার, সাত ড্র। দেশের বাইরের ছয় টেস্টের মধ্যে চার হারের বিপরীতে একটি করে জয়-ড্র। ড্র গলে আর জয় ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে। চার হারের কোনোটি ইনিংস ব্যবধানে না। আসলে দেশ-বিদেশ মিলিয়েই ওই তিন বছরে ইনিংস ব্যবধানে হার মাত্র এক ম্যাচে—২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঢাকায়।

তাহলে? অমন স্কয়ার টার্নার বানিয়ে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জেতা গেছে ঠিক। কিন্তু বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের উন্নতি কি হয়েছে? সাম্প্রতিক দুঃসময়কে ঢেকে দেওয়ার চেষ্টায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টের উইকেট অমন হলে আদতে লাভ হবে কি?

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা