kalerkantho

সোমবার । ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ ফাল্গুন ১৪২৬। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

আশার পিঠে আশঙ্কাও থাকায় দরকার সতর্কতা

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আশার পিঠে আশঙ্কাও থাকায় দরকার সতর্কতা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এই নিয়ে দুই বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে চতুর্থবার বাংলাদেশ সফরে আসছে জিম্বাবুয়ে। এবারের সফর অবশ্য আইসিসির ফিউচার ট্যুরস প্রগ্রামের (এফটিপি) অংশ। তবে এর বাইরেও যখন-তখন চাইলে জিম্বাবুয়েকে নিয়ে আসা যায়।

কিন্তু নিয়ে এলেই কি জিম্বাবুয়েকে বিধ্বস্ত করে নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিতে পারে বাংলাদেশ? মিনহাজুল আবেদীনের কথা শুনলে সে রকম মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

মাত্রই রাওয়ালপিন্ডি থেকে আরেকটি ইনিংস হারের লজ্জা বয়ে আনার পরও প্রধান নির্বাচককে এই আশায় বুক বাঁধতে শোনা গেছে যে, ‘আমরা ছয় মাস ধরে খারাপ খেলছি। আশা করছি, ঘরের মাঠের সিরিজ দিয়ে আমরা (টেস্টে) আবারও ঘুরে দাঁড়াব।’ ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া একমাত্র টেস্টের কথাই বুঝিয়েছেন তিনি!

যদিও যাদের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা, সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট পারফরম্যান্স শুধুই একাধিপত্যের গল্প নয়। বরং পাল্টা আঘাতে নিজেদের ছিন্নভিন্ন হওয়ার ঘটনাও আছে। ২০১৮-র নভেম্বরে দুই টেস্টের সিরিজটির কথাই ধরা যাক। এর প্রথমটি দিয়েই টেস্ট ভেন্যু হিসেবে অভিষেক সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামের। সেই উপলক্ষকে কেন্দ্র করে রীতিমতো সাজ সাজ রবও পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু সব ভণ্ডুল করে দিয়েছিল জিম্বাবুয়ের ১৫১ রানের জয়। ঢাকায় পরের টেস্টে ২১৮ রানের জয়ে সিরিজ বাঁচানো গিয়েছিল অবশ্য। সমতা নিয়ে শেষ হওয়া সেই সিরিজই বলে দিচ্ছে লাল বলের ক্রিকেটে জিম্বাবুয়েও খুব সহজ প্রতিপক্ষ নয়। এমনকি নয় নিজেদের মাঠেও। সেই জিম্বাবুয়ে আজ আবার বাংলাদেশে পা রাখছে বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে।

নিয়ে এলেই কি জিম্বাবুয়েকে বিধ্বস্ত করে নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিতে পারে বাংলাদেশ? মিনহাজুল আবেদীনের কথা শুনলে সে রকম মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয়। মাত্রই রাওয়ালপিন্ডি থেকে আরেকটি ইনিংস হারের লজ্জা বয়ে আনার পরও প্রধান নির্বাচককে এই আশায় বুক বাঁধতে শোনা গেছে যে, ‘আমরা ছয় মাস ধরে খারাপ খেলছি। আশা করছি, ঘরের মাঠের সিরিজ দিয়ে আমরা (টেস্টে) আবারও ঘুরে দাঁড়াব।’

এমন সময়ে তারা আসছে, যখন সফরকারী দল আত্মবিশ্বাসে টগবগ করে ফুটলেও স্বাগতিকদের অবস্থা তা নয়। সেটি বোঝাতে তাদের খেলা সবশেষ ৫ টেস্টের ১০ ইনিংস তুলে দিলেই হচ্ছে—২১১, ২০৯, ২০৫, ১৭৩, ১৫০, ২১৩, ১০৬, ১৯৫, ২৩৩ এবং ১৬৮! পাঁচ টেস্টের চারটিতেই ইনিংসের ব্যবধানে হারা বাংলাদেশের লজ্জায় সবচেয়ে বেশি লাল হওয়ার ঘটনাটি নিজেদের মাটিতে আফগানিস্তানের কাছে। গত সেপ্টেম্বরে ২২৪ রানের সেই হারও ইনিংসে হারার তুলনায় কোনো অংশে কম হতাশাজনক ছিল না। হারের পর হারের হতাশা থেকে তারা যখন বের হতেই পারছে না, তখন জিম্বাবুয়ে আসছে মাত্রই দেশের মাঠে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে টেস্ট ড্র করার তৃপ্তি নিয়ে। হারারেতে দুই টেস্টের সিরিজ তারা ১-০তে হেরেছে বটে, তবে প্রতিরোধও গড়েছে। ওই সিরিজে তাদের ব্যাটিং সাফল্যের গল্পও আছে। এই সুযোগ তাদের শেষ চারটি ইনিংসও তুলে ধরা যাক—৩৫৮, ১৭০, ৪০৬ এবং ২৪৭/৭ ডিক্লেয়ার্ড। সবশেষ ইনিংসটি বীরত্বেরও। কারণ ইনিংস ঘোষণা করে দিয়ে তারা শ্রীলঙ্কাকে জেতার জন্য দিয়েছিল ৩৬১ রানের লক্ষ্যও। পুরো পাঁচ দিনের লড়াইয়ে লঙ্কানদেরও ড্রয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। এমনকি কখনো কখনো সফরকারীদের হারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে ওই ড্র হওয়া দ্বিতীয় টেস্টের সময়।

বাংলাদেশ যেখানে ব্যাটসম্যানদের টানা ব্যর্থতায় তিন শ পেরোতেই ভুলে গেছে, সেখানে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং মাত্রই বড় ইনিংস গড়ে দেখিয়েছে। ড্র হওয়া ম্যাচে সেঞ্চুরি করা জিম্বাবুয়ের নিয়মিত অধিনায়ক শন উইলিয়ামস অবশ্য সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকতে আসছেন না এই সফরে। তাই বলে ক্রেইগ আরভিনের নেতৃত্বাধীন দলের আত্মবিশ্বাসে কমতি হওয়ার কথা নয়। এই দলের ব্যাটসম্যানদের এবারও স্পিন দিয়ে নাকাল করার চেষ্টা নিশ্চিতভাবেই করবে স্বাগতিকরা। কিন্তু বড় ইনিংস খেলতে ভুলে যাওয়া নিজেদের ব্যাটসম্যানরা রানে ফিরবেনই, সে নিশ্চয়তাও তো দেওয়ার উপায় নেই। ২০১৮-র নভেম্বরের সিলেট টেস্টও এসে যাচ্ছে উদাহরণ হিসেবে। তাই রাওয়ালপিন্ডি থেকে বিধ্বস্ত হয়ে এসে নিজেদের ‘কমফোর্ট জোন’-এ ঢুকে পড়া নিশ্চিত ধরে নেওয়ার বিপদও আছে। ঘুরে দাঁড়ানোর আশার পিঠে এ জন্যই আশঙ্কাও আছে। তা আছে বলেই দরকার সতর্কতাও।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা