kalerkantho

রবিবার  । ১৫ চৈত্র ১৪২৬। ২৯ মার্চ ২০২০। ৩ শাবান ১৪৪১

শুধু বাহিনীতে বেঁচে হকি

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : এ বছর বিশ্ব হকির উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন ভারতের বিবেক সাগর প্রসাদ। দুই বছর আগে জাতীয় দলে অভিষিক্ত ১৯ বছর বয়সী মিডফিল্ডার এরই মধ্যে খেলে ফেলেছেন ৫০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। সেখানে একই সময়কালে এশিয়ান গেমসের পর বাংলাদেশ জাতীয় দল কি না কোনো ম্যাচই খেলেনি!

যার প্রভাব পড়েছে র‌্যাংকিংয়ে। এই মুহূর্তে গত এক দশকের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন র‌্যাংকিংয়ে হকি দল, ৩৮তম। ওমান তো বটেই, টপকে গেছে সিঙ্গাপুরও (৩৬তম)। যাদের একসময় হালিখানেক গোল দিত বাংলাদেশ। তার চেয়ে আশঙ্কার কথা হলো হকি খেলোয়াড়দের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই এখন দায়। কারণ দুই বছর হতে চলল লিগ নেই। সেই ২০১৮ সালে হয়েছিল সর্বশেষ লিগ। এই মুহূর্তে চলছে শহীদ স্মৃতি হকি টুর্নামেন্ট। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশকে নিয়ে হচ্ছে এ টুর্নামেন্ট। সর্বশেষ বিজয় দিবস হকিতেও খেলেছে এই দলগুলো। এই মুহূর্তে হকি বেঁচে আছে এই চার দলে খেলা গোটা পঞ্চাশেক হকি খেলোয়াড়ের মাঝে।

জাতীয় দলের প্রতিটি খেলোয়াড় নাম লিখিয়েছেন এই বাহিনীগুলোতে। নৌবাহিনী তাদের স্থায়ী চাকরির সুযোগ দিলেও সেনা ও বিমানবাহিনী খেলোয়াড়দের নিয়েছে চুক্তিতে। ২০১৫ থেকে সেনাবাহিনীতে চুক্তিভিত্তিক খেলা হাসান জুবায়ের বলছিলেন, ‘বাহিনীগুলো খেলোয়াড়দের শেষ ভরসা। লিগ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে বাহিনীতে যোগ দিয়ে অন্তত কিছু সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি আমরা। কিন্তু এটা শুধু জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্যই। এর বাইরে যে এত এত হকি খেলোয়াড় তাদের কী অবস্থা আমি জানি না।’

চুক্তিভিত্তিক খেলে স্বাভাবিকভাবেই আয় পর্যাপ্ত না। জুবায়েরের সতীর্থ পুস্কর ক্ষিসা তাই শহীদ স্মৃতি টুর্নামেন্টের আগেও সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না খেলবেন নাকি বড় ভাইয়ের ঠিকাদারি ব্যবসায় সময় দেবেন, ‘অনেক দিন জাতীয় দলের খেলা নেই। লিগ হচ্ছে না। বসে না থেকে তাই বড় ভাইয়ে ব্যবসায় টুকটাক সাহায্য করতে শুরু করেছি।’ শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টটা তিনি খেলছেনই না।

জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে রাসেল মাহমুদ, মামুনুর রহমান, সারোয়ার হোসেন, ফরহাদ আহমেদসহ সিংহভাগই নৌবাহিনীর। তারা খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়েছে। পেটি অফিসার করেছে দশজনকে। নৌবাহিনীর সাফল্যে সেনাবাহিনীও পরে পুস্কর, জুবায়ের, নাইম উদ্দিনদের নেয়। আরশাদ হোসেন, সানোয়ার হোসেন গত কিছুদিন হলো নাম লিখিয়েছেন বিমানবাহিনীতে। এতে করে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের কিছুটা গতি হয়েছে। ফেডারেশনও বিজয় দিবস, শহীদ স্মৃতি, স্বাধীনতা দিবস হকির মতো টুর্নামেন্টগুলো করতে পারছে। কিন্তু এভাবে কত দিন, এই জনা পঞ্চাশেক খেলোয়াড় নিয়ে কি হকি বাঁচবে? সারা দেশে যে স্কুল হকি হচ্ছে সেই খেলোয়াড়দের সামনে এগোনোর পথ খোলা নেই। লিগের প্রশ্নে ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফের উত্তর, ‘একটার পর একটা টুর্নামেন্ট করছি আমরা। লিগের সূচিই তো বের করতে পারছি না।’ হকির নতুন কমিটি এর মধ্যে বেশ কয়েকটি সভা করলেও প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। আগামী জুনের আগে লিগের সম্ভাবনা নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা