kalerkantho

রবিবার  । ১৫ চৈত্র ১৪২৬। ২৯ মার্চ ২০২০। ৩ শাবান ১৪৪১

ভারতকে হারাতে শুধু খেলাই যথেষ্ট নয়

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : মাঠের ভেতরে তাঁর সতীর্থদের অনেকে মেজাজ হারিয়েছেন। যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতীয় ক্রিকেটারদের এটা-ওটা বলেছেনও। কখনো নিজে থেকেই বলেছেন তো কখনো দিয়েছেন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের স্লেজিংয়ের জবাবও। জবাব দিয়েছেন অধিনায়ক আকবর আলীও। তবে সেটি সতীর্থদের মতো মুখের কথায় নয়। মুখে লেগে থাকা হাসির নীরব ভাষায়।

কোনো এক বইয়ের পাতায় খুঁজে পাওয়া একটি লাইনই যে বদলে দিয়েছিল তাঁর খেলার মাঠের দর্শনও। দেশের ফেরার পর আগের রাতটি বিসিবির একাডেমি ভবনেই কাটিয়েছেন বিশ্বজয়ী দলের অধিনায়ক। গতকাল সকালে নিজ ঠিকানা রংপুরের পথে রওনা হওয়ার আগে সেখানেই সংবাদমাধ্যমকে বলে গেলেন বই থেকে অনুপ্রাণিত ক্রিকেট দর্শনের কথা, ‘‘আমি একটি জায়গায় পড়েছিলাম যে, ‘স্মাইলিং ইজ দ্য বেস্ট রিভেঞ্জ’ (হাসিই সর্বোত্তম প্রতিশোধ)। ওরা (ভারতীয় ক্রিকেটাররা) যতই স্লেজিং করছিল, চিন্তা করছিলাম আমরা হাসি, হয়তো ওদের ওপর অন্য রকম প্রভাব ফেলতে পারে। সেই চেষ্টাই করছিলাম।’’

সতীর্থরা বাক্যবাণ ছুড়তে কিংবা ফিরিয়ে দিতে দিতে খেললেও তাঁদের অধিনায়ক তাই নীরবেই খেলছিলেন অন্য খেলাও। অবশ্য আকবর এটিও মানছেন যে ভারতের সঙ্গে জিততে শুধু খেলাই যথেষ্ট নয়। লাগে অন্য কিছুও। কী সেটি? চোখে চোখ রেখে খেলা, শরীরী ভাষায় আগ্রাসন ফুটিয়ে তোলাও। আকবরের ভাষায়, ‘ভারতের সঙ্গে আপনি যখনই খেলবেন, খালি ৫০ ওভার খেলে বের হয়ে গেলে হবে না। তাহলে কঠিন। আপনি ওদের চাপে রাখলে জেতার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।’ পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে তাই ঠিক হয় খেলার সঙ্গে যোগ করতে হবে প্রবল প্রতিপক্ষকে বিপাকে ফেলার বাড়তি অনুষঙ্গও। পেসার তানজিম হাসান সাকিবের মুখ থেকেই শুনে নিন বাকিটা, ‘খেয়াল করে দেখুন, ভারতের কাছে আমরা দুইবার হেরেছি (সাম্প্রতিক সময়ে)। একবার ইংল্যান্ডে, একবার এশিয়া কাপে। (ওই ম্যাচগুলো থেকে) একটি জিনিস শিখতে পেরেছি, ওদের সঙ্গে আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে হবে। ওদের (ব্যাটসম্যানদের) ওপর চড়ে না বসলে আমাদের বোলারদের ওপর চড়াও হবে। দলের পরিকল্পনা এটিই ছিল যে ওদের আমরা চড়াও হতে দেব না। প্রথম থেকেই চেপে ধরব ওদের।’ ৯ ফেব্রুয়ারির ফাইনালে টস জিতে বোলিং নেওয়ার পর প্রথম বল থেকেই বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামের মুখ চলতে শুরু করার রহস্যও লুকিয়ে ওই পরিকল্পনাতেই।

রংপুরের পথে রওনা হওয়ার আগে আকবর আলী বলেছেন, ‘‘আমি একটি জায়গায় পড়েছিলাম যে, ‘স্মাইলিং ইজ দ্য বেস্ট রিভেঞ্জ’ (হাসিই সর্বোত্তম প্রতিশোধ)। ওরা (ভারতীয় ক্রিকেটাররা) যতই স্লেজিং করছিল, চিন্তা করছিলাম আমরা হাসি, হয়তো ওদের ওপর অন্য রকম প্রভাব ফেলতে পারে। সেই চেষ্টাই করছিলাম।’’

সবাই মিলে ঘটিয়েছেন সেই পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নও। সাকিবের ভাষায়, ‘আমরা (অতীত থেকে) শিক্ষা নিয়েছি। ওদের সুযোগ দেওয়া হলেই পেয়ে বসবে। তাই শুরু থেকেই আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে খেলে গেছি আমরা।’ যাঁকে দিয়ে শুরু, সেই শরিফুলও বললেন, ‘আমাদের চিন্তা ছিল ভারতের সঙ্গে খেললে ওদের মতো করেই আগ্রাসী ক্রিকেট খেলব। জানতাম যে ওরা ফিল্ডিংয়ে নামলে এমন (স্লেজিং) করবে। আমরা যদি নাও করি, তাও করবে।’ উইকেট পাওয়ার পর শরিফুলের অন্য রকম উদ্‌যাপনের ব্যাখ্যাতেও চলে এলো আগ্রাসী মনোভাবে প্রতিপক্ষকে ভড়কে দেওয়ার চিন্তা, ‘উদ্‌যাপনের অর্থ ছিল, ওদের দিন শেষ। এখন আমাদের সময়। তোমরা এখন চুপ করো, পকেটে ভরে রাখলাম।’ তবে বাজে ভাষা ব্যবহারের দায় ভারতীয় ক্রিকেটারদের ওপরই চাপিয়েছেন পারভেজ হোসেন ইমন, ‘বিরতিহীন স্লেজিং করেছে ওরা। অনেক বাজে ভাষাও ব্যবহার করেছে। যেগুলো অনেক সময় নেওয়ার (সহ্য করার) মতো ছিল না। তবু আমাদের অধিনায়ক বুঝিয়ে বলায় আমরা সহজভাবে নিতে পেরেছি।’ এশিয়া কাপ ও ইংল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ভারতের কাছে হার থেকে নেওয়া শিক্ষাই এবার তাদের বিশ্বজয়ের স্বাদ দিয়েছে বলে দাবি ইমনের, ‘‘ওই দুটো হার থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছি। সেই সময় দেখেছি, আমরা না হলেও ওরা সব সময়ই আগ্রাসী থেকেছে। এবার তাই টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে বলা হয়েছিল, ‘তোমাদেরও রাফ অ্যান্ড টাফ হতে হবে।’ ওরা যেমন করেছে, আমরাও তেমনই করেছি। যে কারণে মাঠে একটু সমস্যা (পড়ুন উত্তেজনা) তৈরি হয়েছিল।’’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা