kalerkantho

রবিবার । ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩১  মে ২০২০। ৭ শাওয়াল ১৪৪১

আশ্বাসের ক্রীড়াঙ্গন

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আশ্বাসের ক্রীড়াঙ্গন

ভারতের ক্রীড়াঙ্গনে অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল অব স্পোর্টস নামে একটি ছোট পরিদপ্তর আছে। সেখানে শচীন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড়, ব্যাডমিন্টনের গোপীচাঁদ, মহিলা বক্সার মেরি কম, এমন সব জাঁদরেল ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা রয়েছেন। এ নামগুলো আবার বদল হয়ে নতুন নাম সংযোজিত হয়। তাঁরাও সব জাঁদরেল খেলোয়াড়। তাঁদের কাজই হলো ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে উপদেশ দেওয়া। মনে রাখতে হবে, উপমহাদেশের সর্বত্রই ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কখনোই ক্রীড়াবিদদের দ্বারা পরিচালিত হয় না। তাই ক্রীড়াবিষয়ক উপদেশ কাজের সুবিধা ও সুস্থতার জন্য দরকার পড়ে। এই বিবেচনায় ভারতের এই অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল অব স্পোর্টস একটি প্রয়োজনীয় সংযোজন। কিন্তু আমাদের এমন কোনো সংস্থা নেই। আমাদের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আছে, সঙ্গে আছে জাতীয় স্পোর্টস কাউন্সিলও, তবে এখানে নেই মাঠের ঘাম ঝরানো কোনো ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব।

এই যে নেই, এর ফলে আমরা প্রায় ৫০ বছরের স্বাধীনতা উপভোগ করলেও ক্রীড়াঙ্গনে সর্বত্র রয়েছে শুধুই সমস্যা। উদাসীনতার জন্য উপযুক্ত মাঠই হয়নি। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম তৈরি হয় পাকিস্তান আমলে। স্টেডিয়ামটি হয়েছিল ক্রিকেটের জন্য, এখন ফুটবল খেলা হয়। ক্রিকেট মাঠে ফুটবল হওয়াতে পশ্চিম দিকের দর্শককে মাঠ থেকে এত দূরে বসতে হয় যে তাদের পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর খেলা উপভোগ করা আর হয়ে ওঠে না।

পল্টন ময়দানে তৈরি হওয়া মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে একই অবস্থা! ভিআইপি গ্যালারি বাদ দিলে হকি খেলা গ্যালারি থেকে দেখা একটি কষ্টসাধ্য চর্চা। এ মাঠটি ফুটবলের জন্যও উপযুক্ত নয়। যেকোনো বড় খেলা হলে দর্শক সংকুলান হবে অসম্ভব। তাহলে এই হকি স্টেডিয়াম কেন পল্টনের পরিবেশ নষ্ট করে তৈরি করা হলো? একটিই কারণ, তা হলো দোকান। স্টেডিয়ামে দোকান, এ ধরনের কাঠামো বিশ্বের আর কোথাও নেই। পাকিস্তানিরা যখন ঢাকা স্টেডিয়াম তৈরি করে সেখানে তাদের একটাই ইচ্ছা ছিল, বাংলাদেশের ক্রীড়া পরিবেশ যাতে ভালোভাবে নষ্ট হয়। এবং তাই হলো। পাকিস্তানে কোনো স্টেডিয়ামে কোনো দোকান নেই। ক্রীড়াবিদদের কাছে জবাবদিহি না থাকাতে দেখা যাচ্ছে এমন ব্যক্তি ক্রীড়া পুরস্কার পেয়েছেন যিনি তাঁর খেলাতে প্রথম থেকেই ১০০ জনের মধ্যেও আসেন না। জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব তো দূরের কথা এখন খেলোয়াড়দের প্লট বা ফ্ল্যাট দেওয়ার একটি চমৎকার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য দেশনেত্রীকে প্রশংসা করতেই হবে। বাছাই করা শ্রেষ্ঠরাই এই প্লট বা ফ্ল্যাট পাবেন। অথচ এমন একজনকেই ফ্ল্যাট দেওয়া হলো যিনি তাঁর নিজ খেলাতে ৪০ বছর পূর্বে ঢাকাভিত্তিক প্রতিযোগিতাতে পুরস্কার পেয়েছিলেন এবং জাতীয় পুরস্কার ওই এক খেলার ভিত্তিতেই নিয়ে এলেন। এটা সমগ্র খেলোয়াড়দের ছোট করা হয়েছে। যে কর্মকর্তা এ পুরস্কার দিলেন তিনি যদি তাঁর প্রতি এতই দরদি হন তাহলে ব্যক্তিগত টাকায়ই তো ফ্ল্যাট দিতে পারতেন। সরকারি টাকায় ফ্ল্যাট দিতে হলে যাঁকে দিতে হবে তাঁর খেলোয়াড় হিসেবে উপযুক্ততা প্রথম বিবেচনায় আনতে হবে।

পল্টন ময়দানে তৈরি হওয়া মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে একই অবস্থা! ভিআইপি গ্যালারি বাদ দিলে হকি খেলা গ্যালারি থেকে দেখা একটি কষ্টসাধ্য চর্চা। এ মাঠটি ফুটবলের জন্যও উপযুক্ত নয়। যেকোনো বড় খেলা হলে দর্শক সংকুলান হবে অসম্ভব। তাহলে এই হকি স্টেডিয়াম কেন পল্টনের পরিবেশ নষ্ট করে তৈরি করা হলো?

যদি কাউন্সিল অব স্পোর্টস থাকত, যা মন্ত্রণালয়কে উপদেশ বা সঠিক সিদ্ধান্তের পথ দেখাত তাহলে এ ধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি হতো না। প্রায় ৫০টি ফেডারেশন রয়েছে। এর মধ্যে ক্রিকেট ও ফুটবল বাদে সব ফেডারেশনই টাকার অভাবে ধুঁকছে। দেশব্যাপী এই যে এতগুলো স্টেডিয়াম, তাতে শত শত দোকান, এই দোকানগুলোর সেলামি আর ভাড়া যাচ্ছে কোথায়? এই টাকা যদি বরাদ্দ হিসেবে ফেডারেশনকে দেওয়া হয় তাহলে ফেডারশনগুলোকে তাদের কর্মকাণ্ড চালাতে সারাক্ষণ স্পন্সরদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো না। ফেডারেশন কর্মকর্তারাও পারতেন কাজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে।

অখেলোয়াড় ক্রীড়াঙ্গনে এলে কী হয় তার একটাই নমুনা হলো টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। তিনি নিজে টেনিস খেলোয়াড় নন। তবে অস্ট্রেলিয়ায় ওপেন টেনিস দেখে সেখান থেকে জ্ঞান নিয়ে এসে দেশের টেনিসের উন্নতির জন্য তা কাজে লাগাবেন! অস্ট্রেলিয়ান ওপেন টেনিস চলছে মেলবোর্নে। তিনি ফেসবুকে ছবি দিয়েছেন। ঘুরছেন বিভিন্ন স্পটে আর তা হলো সিডনিতে। কী বুঝলেন? তাই ক্রীড়াঙ্গনে জবাবদিহির জন্য একটি কাউন্সিল থাকা দরকার। আর তাতে আমাদের গৌরবগাথা সৃষ্টিকারী খেলোয়াড়রা হবেন সদস্য। আপনি কী বলেন?

মেজর চাকলাদার (অব.)

(লেখক : সাবেক জাতীয় হকিদল অধিনায়ক এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা