kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

জয়ে শুরু বসুন্ধরা কিংসের

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জয়ে শুরু বসুন্ধরা কিংসের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : উত্তর বারিধারার বিদেশি মানবপ্রাচীরে আটকে থাকা চ্যাম্পিয়নদের শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করেছেন ড্যানিয়েল কলিনদ্রেস। এই কোস্টারিকান বিশ্বকাপারের ৮৭ মিনিটের গোলে প্রিমিয়ার লিগে শুভ সূচনা করেছে বসুন্ধরা কিংস।

নতুন মৌসুম, নতুন লিগ তাই হুট করে মাঠে নেমে সেরা দলের সেরা পারফরম্যান্স দেখানোও কঠিন হয়ে যায়। তা ছাড়া ফেডারেশন কাপ দিয়ে মৌসুম শুরু হলেও মাঝে এক মাসেরও বেশি বিরতি ছন্দহীন করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এ সুযোগে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ থেকে প্রিমিয়ারে উন্নীত হওয়া উত্তর বারিধারাও তাই দারুণ চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বসে চ্যাম্পিয়নদের। তারা পণ করেছিল গোল না খাওয়ার। বসুন্ধরা কিংসে গোলের লোকের অভাব নেই, কিন্তু সব সময় ৮-৯ জন মিলে রক্ষণে প্রহরা বসালে লক্ষ্যভেদ করা কঠিন হয়ে যায় যেকোনো দলের জন্য। ম্যাচ শেষে বারিধারার কোচ আলফাজ আহমেদের কণ্ঠে আক্ষেপ ঝরেছে শেষ মুহূর্তের ভুলের জন্য, ‘কিংস বেশ শক্তিশালী দল। ম্যাচে তাদের আধিপত্য থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আমাদের কৌশল ছিল নিশ্ছিদ্র রক্ষণ প্রাচীর গড়ে তাদের আটকে দেওয়া। এটা ভালোভাবেই করছিল আমার খেলোয়াড়রা, তবে শেষ মুহূর্তের ভুলে আর পয়েন্ট নিয়ে ফেরা হয়নি। এর পরও বলব, আমার ফুটবলাররা খুব ভালো একটি ম্যাচ খেলেছে, যা পরের ম্যাচগুলোর জন্য তাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।’

দেশের ফুটবলের সাবেক তারকা আলফাজ কোচিংয়ে নেমে রক্ষণাত্মক কৌশলে বেশ বিপদেই ফেলে দিয়েছিলেন দেশসেরা দলটিকে। গোলের সন্ধানে কলিনদ্রেস-বখতিয়ারদের শত চেষ্টা যখন বিফলে যাচ্ছিল তখন কিংস কোচ অস্কার ব্রুজোনও চাপ অনুভব করছিলেন। উদ্বোধনী ম্যাচে হোঁচট খাওয়ার শঙ্কা জেগেছিল স্প্যানিশ কোচের মনেও। তাই রক্ষণভাগের খেলোয়াড় তুলে বাড়তি স্ট্রাইকার নামিয়ে গোল আদায়ের চেষ্টা করেন। কিন্তু কেউ নেমে কিছু করতে পারেননি। শেষমেশ কলিনদ্রেসই খেলা শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে বারিধারার জালে বল পাঠিয়ে কোচকে চাপমুক্ত করে চ্যাম্পিয়নদের শুভ সূচনা এনে দেন। কোচ অস্কার ব্রুজোনও তাই দারুণ খুশি, ‘কলিনদ্রেসের মানই আলাদা। আসলে অনেক দিন পর আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেলতে নামায় সমস্যা হয়েছে। লিগ যত সামনে এগোবে ততই মাঠের বোঝাপড়া ভালো হবে এবং খেলা সুন্দর হবে। এই ম্যাচে আমাদের আধিপত্য থাকলেও প্রতিপক্ষ খুব ভালো রক্ষণ সামলেছে।’

বারিধারার বিদেশি ডিফেন্ডাররাই যে নীলফামারীর সব আয়োজন ভণ্ডুল করে দিতে বসেছিল। শেখ কামাল স্টেডিয়াম চমৎকার সেজেছিল এই ম্যাচকে ঘিরে। গ্যালারি সেজেছে কিংসের রঙে, সঙ্গে বাদ্য-বাজনায় দর্শক-সমর্থকদের হুল্লোড়। এমন সমর্থনের মধ্যে নিজেদের মাঠে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা শুরু থেকে প্রতিষ্ঠা করে খেলে। তবে সব আক্রমণই মুখ থুবড়ে পড়ছিল প্রতিপক্ষের রক্ষণে গিয়ে। ২৭ মিনিটে দারুণ এক মুভে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার নিকোলাস দেলমন্তের সামনে সুযোগ তৈরি হলেও মুহূর্তেই চার ডিফেন্ডারের তোপে শেষ হয়ে যায় সম্ভাবনা। পরের মিনিটে বাঁদিকে ঢোকা কলিনদ্রেসের শট সেভ করেন বারিধারা গোলরক্ষক। সুবাদে প্রথমার্ধ থাকে গোলহীন।

বিরতির পর কিংসের আক্রমণের ঝাঁজ বাড়লেও বারিধারার প্রাচীরসম রক্ষণ টপকানো যে বড় কঠিন। এর মধ্যে কলিনদ্রেসের বাঁ পায়ের বাঁক খাওয়ানো শট ফেরে বারিধারার পোস্টে লেগে। ৭৪ মিনিটে মেলে আরেকটি চমৎকার সুযোগ। বক্সের ওপর থেকে নেওয়া কোস্টারিকানের ফ্রি-কিকটি দূরের পোস্ট ঘেঁষে চলে যায় বাইরে। তার আগে অবশ্য তপু পা ছোঁয়াতে গিয়েও পারেনি। এই ডিফেন্ডারের একটু ছোঁয়ায় বদলে যেতে পারত ম্যাচের চেহারা। এর মধ্যে কাউন্টারে ল্যান্ডিং ও সাঙ্গারা ইউসুফ কয়েকবার আতঙ্ক ছড়িয়েছিলেন কিংস রক্ষণে। আইভরিকোস্টের ইউসুফের দু-দুটো শট বাইরে যায় পোস্টে বাতাস লাগিয়ে, এরপর গাম্বিয়ান ল্যান্ডিংয়ের দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে কোনো বিপদ হতে দেননি কিংস গোলরক্ষক আনিসুর রহমান। একটি শট ফেরে পোস্টে লেগে।

প্রতিআক্রমণের ধাক্কা সামলেও কিংস খুঁজে বেড়ায় একটি গোল। ম্যাচ গড়ায় শেষদিকে। তাই যেন খানিকটা আলগা হয়ে গিয়েছিল বারিধারার রক্ষণভাগ, কিন্তু কিংসের ফরোয়ার্ডরা মরিয়া। ৮৭ মিনিটে ডানদিক থেকে ভেসে আসা ক্রসটি গোলরক্ষক সহজেই ধরতে পারেন। বখতিয়ার সেই ক্রসের পেছনে দৌড়াতেই গোলরক্ষক ভুল করেন আর কলিনদ্রেস ফাঁকা পোস্টে বল ঠেলে চ্যাম্পিয়নদের জয়ে শুরু নিশ্চিত করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা