kalerkantho

শনিবার । ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

শোকের আঁধারে চলছে অনুসন্ধান

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শোকের আঁধারে চলছে অনুসন্ধান

প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে কোবি ব্রায়ান্টকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি দুর্ঘটনায় পড়ার কারণ। ঘন কুয়াশা আর মেঘের কারণেই দৃষ্টিসীমা ছোট হয়ে এসেছিল পাইলটের, তাই হেলিকপ্টারটি সোজা আছড়ে পড়ে পাহাড়ের গায়ে। জানা গেছে পাইলটের নামও। নিহত পাইলট আরা জোবাইয়ান ছিলেন একজন প্রশিক্ষিত হেলিকপ্টারচালক এবং ইনস্ট্রাকটর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুসারে তিনি উড়ানের সব পূর্বশর্তই পালন করেছিলেন। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে চালকের রেডিও যোগাযোগ এবং জরুরি যোগাযোগের নম্বরে দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীর ফোনের সময় বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, ঘন কুয়াশা ও মেঘ থাকার কারণেই পাহাড়ের গায়ে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে পড়ে হেলিকপ্টারটি।

পাইলট জোবাইয়ান এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে রাডার সহায়তা চেয়েছিলেন, তখন এটিসি জানায় যে হেলিকপ্টারটি অনেক নিচু দিয়ে উড়ছিল। এরপর উপদেশ দেওয়া হয় মেঘের স্তর এড়াতে ওপরে উঠতে। তারপর যানটি দুই হাজার ৩০০ ফুট ওপরে উঠে বাঁ দিকে কাত হয়ে পড়ে, এক হাজার ৮৫ ফুটে হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। বিমান দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানকারীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন। তাঁদের একজন জেনিফার হোমেন্দি জানিয়েছেন, ‘অনেকটা জায়গাজুড়েই ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে আছে। লেজের একটা অংশ পাওয়া গেছে পাহাড়ের ঢালে, ফিউজিল্যাজ পাওয়া গেছে অন্যদিকের ঢালে। প্রধান রোটরটা পাওয়া গেছে তারও ১০০ গজ পেছনে। আমরা চালক, যন্ত্র, পরিবেশ; সব ব্যাপারই মাথায় রেখে কাজ করছি।’ র‌্যান্ডি ওয়াল্ডম্যান নামের একজন হেলিকপ্টার ইনস্ট্রাকটর জানিয়েছেন, ‘চোখে দেখে চালালে যেটা হয়, যখন কেউ এমন পরিস্থিতিতে পড়ে যে উইন্ডশিল্ড দিয়ে কিছুই দেখা যাচ্ছে না, তখন পাইলটের হাতে ১০-১৫ সেকেন্ড সময় থাকে, এরপর কিছুই করার থাকে না।’ ঘন কুয়াশায় আবহাওয়া এমন ছিল যে পুলিশ এবং উদ্ধারকারী বাহিনীও হেলিকপ্টার নিয়ে ঘটনাস্থলে যেতে পারেনি, যেতে হয়েছে ঘোড়ায় চড়ে। ওখান থেকে ধ্বংসাবশেষ ও মৃতদেহগুলো নামিয়ে আনারও রাস্তা নেই, সে জন্য বুলডোজার দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে।

এদিকে কোবি ব্রায়ান্টের মর্মান্তিক মৃত্যুতে বাতিল করা হয়েছে তাঁর সাবেক দল লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্স ও এলএ ক্লিপার্সের মধ্যকার ম্যাচ। এনবিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তী সময়ে এই ম্যাচ ফের আয়োজন করা হবে। কোবির স্মৃতিকে ধরে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আরেক বাস্কেটবল তারকা লেব্রন জেমস। খেলোয়াড়িজীবনে তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত ছিল ভক্তকুল, কোবির মৃত্যুর পর জেমস শোকার্ত হয়ে ঘোষণা দিয়েছেন কোবির স্মৃতিকে ধরে রাখার। সাবেক সতীর্থর মৃত্যুর পর টুইটারে লিখেছেন, ‘তোমাকে নিয়ে যা কিছুই লেখার চেষ্টা করছি, কান্না পাচ্ছে। শুধু মনে পড়ছে তোমাকে, তোমার মেয়েকে আর আমাদের বন্ধুত্ব। রবিবার সকালে যখন তোমার সঙ্গে আমার কথা হয় তখন মনে হয়নি যে এটাই আমাদের শেষ কথা। ভাই হারিয়ে আমি শোকার্ত। আমি কথা দিচ্ছি, তোমার কীর্তির উত্তরাধিকার আমি ধরে রাখব। তুমিই আমাকে স্বর্গ থেকে শক্তি জোগাবে। আমার আরো অনেক কিছু বলার আছে, কিন্তু কিছুই বলতে পারছি না। আবার দেখা হবে।’ সিএনএন

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা