kalerkantho

শনিবার । ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ফেদেরারের মহাকাব্যিক জয়

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফেদেরারের মহাকাব্যিক জয়

এ জন্যই তিনি কিংবদন্তি। ছিলেন হারের দুয়ারে। প্রতিপক্ষ টনি স্যান্ডগ্রিন পেয়েছিলেন সাত সাতটি ম্যাচ পয়েন্ট। তার পরও ৩৮ বছরের ‘চির তরুণ’ রজার ফেদেরার হাল ছাড়েননি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচটিতে। সাতটি ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে মহাকাব্যিক জয় ২০ গ্র্যান্ড স্লামজয়ী ফেদেরারের। র্যাংকিংয়ে ১০০ নম্বরে থাকা স্যান্ডগ্রিনকে শেষ পর্যন্ত হারান ৬-৩, ২-৬, ২-৬, ৭-৬, ৬-৩ গেমে। এরপর ফেদেরার মেনে নিলেন, ‘অলৌকিকতায় বিশ্বাস করি আমি। জয়টা অলৌকিক ছাড়া আর কী?’

অবিশ্বাস্য টেনিস দেখে সম্মোহিত মেলবোর্ন পার্কের দর্শকরাও। ফেদেরারের জন্য যেমন গলা ফাটিয়েছেন তাঁরা, তেমনি দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি স্যান্ডগ্রিনকেও। তিনি হেরেছেন সত্যি, তবে জিতেছে টেনিস। সেমিফাইনালে ফেদেরারের প্রতিদ্বন্দ্বী নোভাক জোকোভিচ। গতকাল জোকোভিচ ৬-৪, ৬-৩, ৭-৬ গেমে হারান মিলোস রাওনিককে।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে মেয়েদের এককে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছেন অ্যাশলি বার্টি ও সোফিয়া কেনিন। বার্টি ৭-৬, ৬-২ গেমে পেত্রা কেভিতোভাকে আর কেনিন ৬-৪, ৬-৪ গেমে হারান টেনিসে আরব বসন্ত আনা ওনস জাবুরকে। ৩৬ বছর পর প্রথম অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে মেলবোর্ন পার্কের শেষ চারে খেলার অনন্য নজিরও গড়েছেন র্যাংকিংয়ের চূড়ায় থাকা বার্টি।

তৃতীয় রাউন্ডে জন মিলমানের বিপক্ষে ম্যাচ হার থেকে ২ পয়েন্ট দূরে ছিলেন ফেদেরার। সেই বাধা পেরোনোর পর গতকাল টেনি স্যান্ডগ্রিন পেয়েছিলেন সাত সাতটি ম্যাচ পয়েন্ট। এর তিনটি চতুর্থ সেটে ৫-৪ গেমে এগিয়ে থাকার সময়। তিন ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচানোর পর সেট গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে নিজের অভিজ্ঞতার সবটুকু উজার করে ফেদেরার বাঁচান চারটি ম্যাচ পয়েন্ট!

সার্ভ, ফোরহ্যান্ড, বেকহ্যান্ড, উইনার্স—সব কিছুতেই ছিল জাদুকরী একটা ব্যাপার। পাশে ছিল ভাগ্যটাও। নইলে একটা বল স্যান্ডগ্রিনের গায়ে লেগে কেন পয়েন্ট পাবেন ফেদেরার! চতুর্থ সেট টাইব্রেকারে ১০-৮ পয়েন্টে জেতার পর পঞ্চম সেটে দাঁড়াতেই দেননি স্যান্ডগ্রিনকে। ৬-৩ ব্যবধানে জিতে ৪৬তম বারের মতো নাম লেখান কোনো গ্র্যান্ড স্লামের সেমিফাইনালে। রোমাঞ্চকর ম্যাচটি জিতে ফেদেরার হয়ে পড়লেন বাক্রুদ্ধ, ‘ভীষণ ভাগ্যবান আমি। বিশ্বাস করুন, এখন বলতে পারব না কয়টা বাজে। মাথায় কিছু কাজ করছে না। একেই বলে অলৌকিকতা।’

ম্যাচে তৃতীয় সেটের তৃতীয় গেমে মেজাজও হারিয়েছিলেন ফেদেরার। এক ‘লাইনসপারসনের’ অভিযোগ জার্মান ভাষায় অশ্লীল কোনো মন্তব্য করেছিলেন এই কিংবদন্তি। চেয়ার আম্পায়ার ডেকে নিয়ে সতর্কও করেন তাঁকে। এটা মানতে না পেরে চেয়ার আম্পায়ারের সঙ্গেও জড়িয়েছিলেন তর্কে। আসলে কিংবদন্তি হলেও ফেদেরার তো মানুষই।

মেয়েদের এককে গতবার ফাইনাল খেলা পেত্রা কেভিতোভা প্রথম সেটে ভালো বেগ দিয়েছিলেন অ্যাশলি বার্টিকে। র্যাংকিংয়ের চূড়ায় থাকা বার্টি সেটটা জিতেন টাইব্রেকারে ৮-৬ ব্যবধানে। পরের সেটে অবশ্য ৬-২ গেমের সহজ জয় একটা সময় ক্রিকেটার হয়ে যাওয়া বার্টির। তাতে ৩৬ বছর পর প্রথম অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে মেলবোর্ন পার্কের সেমিফাইনালে তিনি। কোনো অস্ট্রেলিয়ান সবশেষ ৪২ বছর আগে জিতেছিলেন বছরের প্রথম এই গ্র্যান্ড স্লাম। বার্টি কি পারবেন দীর্ঘ এই আক্ষেপ মেটাতে? সেমিফাইনালে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রের সোফিয়া কেনিন। টেনিসে আরব বসন্ত নিয়ে আসা ওনস জাবুরকে ৬-৪, ৬-৪ গেমে হারিয়েছেন র্যাংকিংয়ে ১৪ নম্বরে থাকা কেনিন। সেরেনা উইলিয়ামস, কোকো গফদের বিদায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের মশাল এখন তাঁরই হাতে। এএফপি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা