kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

আলো-আঁধারে মেয়েদের লিগ

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আলো-আঁধারে মেয়েদের লিগ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : শুরুতে মেয়েদের লিগের দলবদলের মাঠে ছিল প্রিমিয়ারের নামিদামি ক্লাবগুলো। সবাই পিঠটান দিতে দিতে এখন আছে শুধু বসুন্ধরা কিংস ক্লাব। তাই প্রত্যাশিত জমজমাট মহিলা ফুটবল লিগটি যেমন একতরফা হয়ে যেতে পারে, তেমনি এই আয়োজনের উদ্দেশ্যও পুরোপুরি সার্থক হয়নি।

উদ্দেশ্যটা কী? বাফুফের মহিলা কমিটি চায়, এই ঘরোয়া লিগের মাধ্যমে মেয়ে ফুটবলাররা খেলার মধ্যে থাকবে। ঘরোয়া ফুটবলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে তারা তৈরি হবে। সুবাদে খেলোয়াড়দেরও আয়ের পথ খুলবে। ঘরোয়া ফুটবলের আগেই কিন্তু দেশের নারী ফুটবল সুখ্যাতি ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। বিশেষ করে অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৬ দল আন্তর্জাতিক অঙ্গন রাঙিয়েছে কয়েকবার। সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবলে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, এরপর এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা ফুটবলে তারা বাছাইপর্ব উতরে দু-দুবার খেলেছে মূল পর্বে। নারী ফুটবলের এশীয় পরাশক্তি জাপান, কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়ার মতো দলগুলোর সঙ্গে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা চাট্টিখানি কথা নয়। তারা শিরোপা জিতেছে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবলেও। কিন্তু এই সাফল্যটা সিনিয়র পর্যায়ে, অর্থাৎ মূল জাতীয় দলে রূপান্তর করা যায় না। সেটা না হওয়ার একটা কারণ হতে পারে, মেয়েদের ঘরোয়া লিগ হয় না বলে মেয়েরা একসময় আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে ফুটবলের প্রতি। এ কারণে অনেকের ফুটবল ছেড়ে চলে যাওয়ার নজিরও আছে। তাদের ধরে রাখতে হলে ফুটবলকে মোহনীয় করে তুলতে হবে। ছেলেদের ফুটবলে যেমন অর্থের প্রাচুর্য থাকে, সে রকম না হলেও ফুটবল যেন মেয়েদের আয়ের পথ খুলে দেয়, সেই চেষ্টা থেকে বাফুফের মহিলা লিগ আয়োজনের উদ্যোগ।

এই শুভ উদ্যোগে শুরুতে প্রিমিয়ার লিগের অনেক ক্লাবের নাম শোনা গেলেও শেষে দেখা গেল শুধু বসুন্ধরা কিংসই শরিক হয়েছে। বাকি সাত দলই নতুন—বেগম আনোয়ারা স্পোর্টিং ক্লাব, এফসি উত্তরবঙ্গ, কাচারিপাড়া একাদশ, কুমিল্লা ইউনাইটেড, নাসরিন স্পোর্টিং ক্লাব, স্বপ্নচূড়া ও আখেলপুর ফুটবল একাডেমি এবং স্পার্টান এমকে গ্যালকটিকো সিলেট এফসি। এদের মধ্যে বসুন্ধরা কিংস জাতীয় দলের ১৯ জন, অর্থাৎ সাবিনা, আঁখি, মাশুরা, শামসুন্নাহারের মতো তারকাদের নিয়ে সেরা দল গড়েছে। কিন্তু বাফুফের মহিলা ফুটবল ক্যাম্পে নিত্য ট্রেনিংয়ে থাকে ৫৬ জন। তাহলে আরো বাকি থাকে ৩৭ জন। এর মধ্যে এফসি পাঁচজন উত্তরবঙ্গে, কুমিল্লা ইউনাইটেডে তিনজন এবং নাসরীন একাডেমিতে কয়েকজন। নাসরিন স্পোর্টিং ক্লাবের প্রধান নাসরিন আক্তার বলেছেন, ‘ফুটবল আমার নেশা। বসুন্ধরা কিংসের মতো পয়সা তো আমি খরচ করতে পারব না। মাঝারি মানের একটা দল গড়েছি, তবে সোহাগী, ইয়াসমিন, স্বপ্নরা খেলবে এই দলে।’ এর পরও বাফুফে ক্যাম্পের ৫৬ জনের মধ্যে অনেকে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না। কারণ ক্লাবগুলো ন্যূনতম পারিশ্রমিক দিতেও রাজি নয়! তাই জাতীয় মহিলা ফুটবলের দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন খুব হতাশ, ‘আমার ক্যাম্পেরই অনেক ভালো খেলোয়াড় দল পায়নি, এটা খুবই হতাশাজনক। মার্জিয়া, সাজেদা, রোজিনা, আনুচিং, আনাই মারমা, নাজমা, ঋতুপর্ণার মতো খেলোয়াড়দের কি কিছু পারিশ্রমিক পাওয়ার যোগ্যতা নেই! অথচ লিগটা করার উদ্দেশ্য খুব ইতিবাচক ছিল। বড় ক্লাবগুলো এগিয়ে আসবে, সবাই ফুটবল খেলে উপার্জন করবে। সেরা ফুটবলারদের সঙ্গে নতুনদের মিশেলে দলগুলো শক্তিশালী, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগ হবে। মেয়েদের ফুটবলের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।’

মজার ব্যাপার হলো, প্রিমিয়ার লিগের বড় ক্লাবের একজন পুরুষ ফুটবলারের চুক্তির টাকা দিয়েই একটি মহিলা দল গড়া যেত! দুজনের টাকা হলে গড়া যায় শিরোপা দল! এর পরও প্রিমিয়ারের ক্লাবগুলোর সরে থাকা রহস্যময়। বসুন্ধরা কিংসের প্রেসিডেন্ট ইমরুল হাসান মনে করেন, ‘শুরুতে যে কয়েকটি দলের নাম শুনেছিলাম তারা দল গড়লেই মহিলা লিগটা চমৎকার হতো। বাফুফে ক্যাম্পের মেয়ে ফুটবলারদের সবাই খেলার সুযোগ পেত। আসলে টাকা এখানে বড় ইস্যু নয়, ইচ্ছাটাই বোধ হয় আসল।’ তার ক্লাবের স্ট্রাইকার সাবিনা আক্তার পাচ্ছেন সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা। এটা আলোর দিক। অন্ধকার হলো, বিনা পয়সায় খেলতে হচ্ছে অনেককে। বাফুফে সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ মনে করেন, ‘শুরুটা খুব জরুরি, আস্তে আস্তে নিশ্চয়ই লিগের চেহারা বদলাবে।’ শুরুর এই সমস্যা যেন ফি বছরের হয়ে না ওঠে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা