kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

অভিজ্ঞতা অর্জনের নামে ঘোরাঘুরি

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অভিজ্ঞতা অর্জনের নামে ঘোরাঘুরি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : অস্ট্রেলিয়া পৌঁছেই টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নতুন বেশে! হাফ প্যান্ট আর টি-শার্টে পর্যটকের সাজে তিনি সিডনি অপেরা হাউসের সৌন্দর্য গায়ে মাখছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিগুলো দেখেই ফোনালাপ হয়।

দারুণ উপভোগ করছেন। কবে গেলেন?

মাসুদ করিম : ২৬ জানুয়ারি পৌঁছেছি। অস্ট্রেলিয়া তো খুব সুন্দর জায়গা...

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোনো ম্যাচ দেখেছেন?

মাসুদ করিম : না। সামনের ম্যাচগুলো দেখব। ৩০-৩১ জানুয়ারির ম্যাচগুলো দেখার চেষ্টা করব।

মাসুদ করিম এখন উপভোগ করছেন সিডনির সৌন্দর্য। এরপর যাবেন মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন দেখতে। সরকারি অনুমতিপত্র অনুযায়ী টেবিল টেনিস ফেডারেশনের এই সাধারণ সম্পাদক গেছেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ‘অভিজ্ঞতা’ নিতে। ওই অনুমতিপত্রে লেখা আছে অভিজ্ঞতা সবিস্তারে লিখে জানাতে হবে। ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সানাউল হক বকুলের কাছে এটা নিতান্তই কথার কথা, ‘মাঝেমধ্যে আমাদের ফেডারেশনে আমন্ত্রণ আসে। টেনিস ওপেন দেখতে যাওয়াটা খারাপ কিছু মনে করি না। শুধু অ্যাক্রিডিটেশন হয় না, টিকিট কেটে খেলা দেখতে হয়। ওই অভিজ্ঞতার কথাটা আসলে বলার জন্য বলা। উইম্বলডন কিংবা অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের মতো বৈশ্বিক টেনিস টুর্নামেন্টের বিশালতা আমরা চিন্তাই করতে পারি না। খেলা দেখা ছাড়া আর অন্যদিকে যাওয়ারই সুযোগ থাকে না।’

শুধু মাসুদ করিম নন, ফেডারেশনের চেয়ারে যে বা যাঁরা বসেছিলেন কেউ বৈশ্বিক টেনিস টুর্নামেন্ট দেখার সুযোগ ছাড়েননি। এমনও আছে কেউ কেউ ফেডারেশনের অর্থে টেনিসের সবকটি গ্ল্যান্ড স্লাম দেখে ফেলেছেন। কিন্তু তাতে বাংলাদেশ টেনিসের এতটুকু শ্রীবৃদ্ধি হয়নি, এটা নিশ্চিত। টেনিস খেলা আগের মতোই ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে আছে। দেশের ৬৪টি জেলায় টেনিস কোর্ট থাকলেও রাজশাহী বাদে বাকিগুলো যেন জেলার সৌন্দর্য। মাঝেমধ্যে জেলা প্রশাসকসহ কিছু সরকারি কর্মকর্তা খেলেন ওসব কোর্টে। ফেডারেশন কর্তারাও খেলাটিকে ঢাকা ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন না। ঢাকায় তাঁরা জাতীয় টেনিস, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস টেনিস, প্রাইজমানি টুর্নামেন্ট, আন্ত স্কুল টুর্নামেন্ট, আইটিএফ টেনিস করেন। এসবের মধ্যে আন্ত স্কুল টেনিসের সুবাদে আশা জেগেছিল খানিকটা, কিশোরদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এ টুর্নামেন্টও পাঁচ বছর চলার পর ২০১৫ সাল থেকে আর হয় না। গত দেড় বছর ধরে কোনো খেলাই নেই টেনিসে। কারণ রমনা টেনিস কমপ্লেক্সে সংস্কার চলছে ২০১৮ সালের জুন থেকে। গ্যালারি, ছাউনি, কার পার্কিংসহ অন্যান্য কাজ শেষ হলেও কোর্টের কাজ এখনো চলছে।

সব কিছু পরিপাটি করে সাজানো হলেও টেনিসের চেহারা ফেরার কোনো লক্ষণ নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফেডারেশনের এক সদস্য মনে করেন, ‘খেলাটিকে ভালোবেসে কেউ ফেডারেশনের বড় পদে বসেন না। এমনকি টেনিস খেলাও তাঁরা বোঝেন না। তাঁরা আসেন বিদেশ-বিভূঁইয়ে ঘোরার জন্য। কর্মকর্তা এ রকম হলে খেলার উন্নতি হবে কিভাবে?’

টেনিস কর্মকর্তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও বেশ আলোচিত। কিছুদিন আগে আমেরিকাপ্রবাসী এক তরুণী এখানে টুর্নামেন্ট খেলতে এসে ফেডারেশন সম্পাদক গোলাম মোর্শেদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে থানা-পুলিশও করেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে গত নভেম্বরে তাঁকে সরিয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে বসেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব মাসুদ করিম। বসেই দুই মাসের মাথায় তিনি টেনিস বুঝতে চলে গেলেন সুদূর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে, এখনো যদিও সিডনিতে। টেনিস ফেডারেশন যেন ক্রীড়া পরিষদ কর্মকর্তাদের লোভনীয় এক জায়গা। নানা ছুঁতোনাতায় তাঁরা টেনিস ফেডারেশনের সম্পাদকের পদে বসে পড়েন। ২০০২ সালে সাবেক ক্রীড়া পরিষদ পরিচালক নুরুল হক প্রধান পদে আসীন হন। দুই বছর বাদে নির্বাচনের মাধ্যমে সম্পাদকের পদে আসেন সানাউল হক বকুল। সেটাই শেষ নির্বাচন, ২০০৮ সালে মেয়াদ পূর্তির পর অ্যাডহক কমিটিতেই চলছে। এরপর বসেন ক্রীড়া পরিষদ সাবেক পরিচালক আব্দুর রহমানসহ আরো দু-একজন সরকারি কর্মকর্তা। এখন চলছে ক্রীড়া পরিষদ সচিব মাসুদ করিমের অধ্যায়।

এই অধ্যায়েও বিশেষ প্রত্যাশার কিছু নেই। গত ১০ বছর ধরে চলছে অমল রায়, দীপু লাল, রাজু, আলমগীরদের আধিপত্য। এর মধ্যে গত মাসে চাকরি নিয়ে চীন চলে গেছেন আলমগীর। এভাবে প্রায় ৩০ জনের মতো টেনিস খেলোয়াড় চীনে আছেন জীবিকার তাগিদে। তাঁরা কোচ হয়ে বিভিন্ন ক্লাবে কাজ করছেন। দেশে যাঁরা আছেন সেই অমল, দীপু, রাজুরাও করছেন একই কাজ। তাঁরা বড় স্বপ্ন দেখেন না, দেখায় না ফেডারেশনও। সামাজিক ক্লাবে কাজ করার ফাঁকে ফাঁকে দেশের টেনিস খেলাকে সচল রাখেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা