kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

শূন্য হাতে ফেরা

প্রয়োগ ক্ষমতায় ঘাটতির কথা বললেন অধিনায়ক

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রয়োগ ক্ষমতায় ঘাটতির কথা বললেন অধিনায়ক

ক্রীড়া প্রতিবেদক : হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াল বাংলাদেশ, নাকি অন্তত একটি ম্যাচ জয়ের সুযোগ? কাল তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ভাসিয়ে নেওয়া বৃষ্টির কাছেও নেই এ প্রশ্নের উত্তর। তবে পাকিস্তানের কাছে ০-২ ব্যবধানে হেরে যাওয়া সিরিজটি এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের সামর্থ্যকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে আরেক দফায়।

অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ আত্মসমর্পণ করছেন দুহাত তুলে। সিরিজ শেষে নিজেদের ব্যর্থতাকে মেনে নিচ্ছেন অকপটে, ‘টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে পাকিস্তান এক নম্বর দল, আমরা ৯ নম্বর। তবে অধিনায়ক হিসেবে আশা করেছিলাম, আমরা আরো ভালো খেলব। আমাদের প্রতিভা আছে, দক্ষতা আছে—তবে মাঠে এর প্রয়োগ দেখাতে পারিনি। আমরা যথেষ্ট ভালো খেলিনি এবং অবশ্যই পাকিস্তান আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে।’ নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে না পারার আক্ষেপ তাঁর। আর তারুণ্যনির্ভর দলটিকে আরো বেশি সময় দেওয়ার পক্ষে তাঁর ব্যাখ্যা, ‘ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আমি হতাশ। যেমন খেলেছি, আমরা এর চেয়ে ভালো দল। পাকিস্তানকে কৃতিত্ব দিতে হবে। প্রথম ম্যাচে আমরা লড়াই করতে পেরেছি; অল্প কিছু রান হয়তো কম করেছিলাম। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তান খুব দাপটের সঙ্গে জিতেছে। এখন পর্যালোচনা করে দেখা প্রয়োজন কোন কোন জায়গায় উন্নতি করতে পারি। আমাদের দলটি তরুণ। ক্রিকেটারদের যথেষ্ট সুযোগ ও সময় দিতে হবে। আশা করছি, সামনে ভালো পারফরম্যান্স নিয়ে ফিরতে পারব।’

দুটো ম্যাচেই বাংলাদেশ হেরে গেছে প্রথম ইনিংসেই; ব্যাটিংয়ে। মাত্র ১৪১ ও ১৩৬ রান করে টি-টোয়েন্টিতে জেতার আশা তো বাড়াবাড়িই। সামগ্রিক এই ব্যাটিং ব্যর্থতায় তামিম ইকবালকেই একমাত্র ব্যতিক্রম মানছেন অধিনায়ক। এই ওপেনারের স্ট্রাইকরেট নিয়ে বিস্তর কথা হলে ৩৪ বলে ৩৯ এবং ৫৩ বলে ৬৫ রান করা পারফরম্যান্সকেই প্রাপ্তি হিসেবে দেখেন মাহমুদ, ‘সিরিজে প্রাপ্তির জায়গা কম। প্রাপ্তির কথা বললে আমি তামিমের ব্যাটিংয়ের কথা বলব। কারণ উইকেটের আচরণ বুঝে এবং নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ব্যাটিং করেছে। তবে ব্যাটিংয়ে সামগ্রিক অর্থে সবাই মিলে ততটা ভালো করতে পারিনি। উইকেট হয়তো ব্যাটিংয়ের জন্য ততটা সহায়ক ছিল না। তবে আমাদের সামর্থ্য ছিল, আরো বেশি রান করার।’ এ ক্ষেত্রে উইকেটকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে নারাজ বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘পিএসএলে আমি কয়েকবার খেলেছি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে উইকেট বেশ ভালো ছিল। শেষবার মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছি। তাতে তো আর কিছু বলতে পারি না। তবে পাকিস্তান সাধারণত ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো উইকেট তৈরি করে। এবার আরেকটু ভালো উইকেট আশা করেছিলাম। কিন্তু তা ঠিক আছে। আমি বরং মনে করি, আমরাই তাতে যথেষ্ট ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি।’

নিজ দলের বোলারদের পারফরম্যান্সে খুব অসন্তুষ্ট নন মাহমুদ, ‘বোলাররা তাদের কাজ মোটামুটি ভালোই করেছে। প্রথম ম্যাচে ভালো বোলিং করেছে। দ্বিতীয় ম্যাচে রান যেহেতু আরো কম ছিল, সেটি হয়তো বোলারদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এখানে মূল দায় ব্যাটসম্যানদেরই। আমি মনে করি, টি-টোয়েন্টিতে আমাদের ব্যাটিং আরো ভালো হতে হবে।’ ওদিকে পাকিস্তানে পেস বোলিং আক্রমণ নিয়ে প্রশংসার খই তাঁর মুখে। আর উইকেটের আচরণ বুঝতে যে বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছিল, সেটিও স্বীকার করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘আমি সব সময় বিশ্বাস করি, পাকিস্তান ফাস্ট বোলার তৈরির কারখানা। এ দলেও খুব ভালো কিছু ফাস্ট বোলার রয়েছে। হারিস রউফ, শাহিন শাহ আফ্রিদি খুব ভালো করেছে। লাহোরের উইকেট ব্যাটিং করার জন্য খুব সহজ ছিল না। প্রথম ম্যাচে উইকেটের আচরণ বুঝতে আমাদের কিছুটা দেরি হয়েছে। আমাদের আসলে ভিন্নভাবে ব্যাটিং করা প্রয়োজন ছিল। তবে এটিকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাচ্ছি না। ভবিষ্যতে এগুলো মাথায় রেখে আরো ভালো করব বলে আশাবাদী।’

সিরিজের আগে নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তর কথা চালাচালি হয়েছে। মাঠের ক্রিকেটে পাকিস্তানের সঙ্গে পেরে না উঠলেও তা নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট মাহমুদ, ‘হ্যাঁ, আমরা সন্তুষ্ট। আমি পাকিস্তানে আগেও এসেছি। লাহোর দারুণ শহর। এখানকার আতিথেয়তা এবং ব্যবস্থাপনা সব সময়ই দুর্দান্ত। এবার খুব ভালো নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে ছিলাম। আশা করছি, টেস্ট সিরিজের জন্য আবার ফিরব।’

তিন দফা পাকিস্তান সফরের দ্বিতীয় দফায় প্রথম টেস্ট খেলার জন্য কদিন বাদেই আবার পাকিস্তান যাবে বাংলাদেশ। তখনো যদি মাঠের পারফরম্যান্স টি-টোয়েন্টি সিরিজের মতো হয়, তাহলে লজ্জা এড়ানোর জন্য বৃষ্টির দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে হয়তো।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা