kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

সম্ভাব্য আরেক বিভীষিকা সামলানোর প্রস্তুতি

পাকিস্তানে টেস্ট খেলতে গিয়ে মূল যে সমস্যায় পড়তে পারেন ব্যাটসম্যানরা, সেই রিভার্স সুইং ও বাড়তি বাউন্স সামলানোর তালিমই নেইল ম্যাকেঞ্জি এখন দিচ্ছেন মমিনুল হক, সাইফ হাসান ও সাদমান ইসলামদের।

২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সম্ভাব্য আরেক বিভীষিকা সামলানোর প্রস্তুতি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : লাহোরে টি-টোয়েন্টি সিরিজে মোটেও সুবিধা করে উঠতে পারছেন না বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। এই যখন অবস্থা, তখন দেশেই প্রস্তুতি চলছে সম্ভাব্য আরেক বিভীষিকা সামলানোর। গত নভেম্বরের ভারত সফরে একটি টি-টোয়েন্টি জেতা বাংলাদেশ এমনকি সিরিজ জেতার সম্ভাবনা জাগালেও টেস্টে রীতিমতো বেসামাল হয় ভারতীয় পেসারদের সামনে। ইশান্ত শর্মা, উমেশ যাদব ও মোহাম্মদ সামিদের পেসে মমিনুল হকের দল এমন দিশেহারা হয় যে তিন দিনেই দুটো টেস্ট হারে। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে রাওয়ালপিন্ডিতে শুরু হতে যাওয়া পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টেও একই রকম বিভীষিকা অপেক্ষা করে থাকতে পারে বলে মনে হচ্ছে বাংলাদেশের ব্যাটিং উপদেষ্টা নেইল ম্যাকেঞ্জির।

তিনি মূলত সাদা বলের কোচ হলেও পাকিস্তান যাননি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায়। এই অবসরে তাই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কাজ করছেন বাংলাদেশের টেস্ট দলের সম্ভাব্য ক্রিকেটারদের নিয়ে। পাকিস্তানে টেস্ট খেলতে গিয়ে মূল যে সমস্যায় পড়তে পারেন ব্যাটসম্যানরা, সেই রিভার্স সুইং ও বাড়তি বাউন্স সামলানোর তালিমই এখন দিচ্ছেন মমিনুল হক, সাইফ হাসান ও সাদমান ইসলামদের। পাকিস্তানি পেসারদের খেলার জন্য শিষ্যদের প্রস্তুত করে তোলার চেষ্টা করছেন এভাবে, ‘টেস্ট দলের জন্য বাউন্সার খেলা নিয়ে কাজ করছি। আমরা পাকিস্তানের ভালো উইকেটে খেলব, যেখানে বল দ্রুত আসবে। পাকিস্তানের পেসাররা আমাদের জন্য সত্যিকারের হুমকিই হবে। বিশেষ করে রিভার্স সুইং করানোর ক্ষেত্রে ওরা ভীষণ দক্ষ। আমরা এমন বলেও অনুশীলন করছি, যেটি স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশিই লাফিয়ে ওঠে।’ পাকিস্তানের সম্ভাব্য পেস আক্রমণের আলোকেই চলছে ম্যাকেঞ্জির অধীনে অনুশীলন, ‘রিভার্স সুইং খেলার প্রচুর অনুশীলন করে যেতে থাকব আমরা। আমাদের মুখোমুখি হতে হবে, এমন কিছুর জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন বাঁহাতি পেসার আছে। সৌভাগ্য যে আমাদেরও এ রকম কয়েকজন আছে। আমরা অ্যাঙ্গেল নিয়ে কথা বলছি। খেলা সহজ করতে কিভাবে ব্যাটিং করা যায়, সেটি বের করার চেষ্টা করছি।’ 

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের উন্নতিতে বেশ কিছুদিন ধরেই খেটে চলেছেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান। যদিও পাকিস্তানে টি-টোয়েন্টি সিরিজের ব্যাটিংয়ে এর কোনো প্রতিফলন দেখতে না পাওয়ায় হতাশাও প্রকাশ করেছেন ম্যাকেঞ্জি। ভালো কিছু করার অভিপ্রায় বা ইনটেন্ট দেখতে না পাওয়াই সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছে তাঁকে, ‘‘এই মুহূর্তে দলে অনভিজ্ঞ ক্রিকেটার অনেক। সেটি মাথায় রেখেও এই পারফরম্যান্সকে হতাশাজনকই বলতে হয়। প্রথম ম্যাচে ভালো শুরু পেয়েও কাজে লাগাতে পারিনি আমরা। সবচেয়ে বেশি হতাশ হয়েছি কোনো ‘ইনটেন্ট’ দেখতে না পেয়ে।’’ গত বছর দুয়েক ধরে যা যা নিয়ে কাজ করেছেন, সেগুলোও তো অনুপস্থিত ছিল লাহোরের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি ম্যাচে, ‘‘ব্যাটসম্যানদের স্ট্রাইক রোটেট করা, বোলারকে চাপে রাখা, নিজের শক্তির জায়গায় বোলারকে বোলিং করতে বাধ্য করা—এসব নিয়ে আমরা গত বছর দুয়েকে অনেক কাজ করেছি। কিন্তু এই দুটো টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সেসবের কিছুই আমরা খুব একটা দেখিনি। আরো ‘ইনটেন্ট’ দেখানো, আরো বেশি ক্ষুধার্ত থাকা, ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলা—রাসেল (হেড কোচ) ও অন্যরা মিলে তো এসবই ওদের মনে গেঁথে দেওয়ার চেষ্টা করছে।’’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা