kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

মেয়েদের লিগও মাতাবে বসুন্ধরা

সর্বশেষ জাতীয় দলে খেলা ফুটবলারদের সিংহভাগকেই দলে ভিড়িয়েছে তারা। সাবিনা, কৃষ্ণা, মারিয়া, মনিকা, তহুরারা মাঠে নামলে বোঝার উপায়ই থাকবে না কিংস না জাতীয় দল খেলছে। এই দল নিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে, ব্যান্ড বাজিয়ে দলবদলে না এলে হয়!

২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মেয়েদের লিগও মাতাবে বসুন্ধরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মারিয়া মান্ডা, মনিকা চাকমা, শামসুন্নাহারদের মুখে লাজুক হাসি। ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে তাঁরা বাফুফে ভবনে ঢুকেছেন। এ এক নতুন অভিজ্ঞতা এই মেয়েদের জন্য। মেয়েদের ফুটবল লিগের জন্য বসুন্ধরা কিংসের হয়ে দলবদলে অংশ নিতে এসেছিলেন বাংলাদেশ মহিলা জাতীয় দলের এই ফুটবলাররা। বাংলাদেশে মেয়েদের লিগ হয়েছে ছয় বছর আগে। এরপর খেলা শুরু করা মারিয়া, মনিকারা সম্পূর্ণ নতুন যুগে পা রাখতে চলেছে। ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে দলবদলে আসার অনুভূতিও তো অভূতপূর্ব। ভেতরে আনন্দের ফোয়ারা, সেটিই বাঁধ দিয়ে রাখার বৃথা চেষ্টা তাঁদের ঝলমলে মুখে।

বসুন্ধরা ছেলেদের ফুটবলে রাজত্ব করছে আত্মপ্রকাশের শুরু থেকে। বিশ্বকাপে খেলা ফুটবলার আনা, দেশের শীর্ষ সব ফুটবলারদের দলে টানা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বে দল পরিচালনাসহ প্রতিটা ক্ষেত্রে নতুন উদাহরণ তৈরি করেছে তারা। সেই ফলও পাচ্ছে হাতেনাতে। লিগসহ এ পর্যন্ত খেলা চারটি ঘরোয়া আসরের সবকয়টিতে ফাইনাল খেলে তিনটিতেই শিরোপা জিতেছে। প্রথমবারের মতো মহিলা ফুটবলে নাম লিখিয়ে সেই একই মনোভাব ও লক্ষ্যে দল গড়েছে তারা। সর্বশেষ জাতীয় দলে খেলা ফুটবলারদের সিংহভাগকেই দলে ভিড়িয়েছে তারা। সাবিনা, কৃষ্ণা, মারিয়া, মনিকা, তহুরারা মাঠে নামলে বোঝার উপায়ই থাকবে না কিংস না জাতীয় দল খেলছে। এই দল নিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে, ব্যান্ড বাজিয়ে দলবদলে না এলে হয়! ছেলেদের দলবদলও করেছে তারা মহাসমারোহে। কিংস সভাপতি ইমরুল হাসান বলেছেন তাঁদের এই উৎসব-আয়োজন নিছক আনন্দের জন্য নয়, ‘ফুটবলে গত কয়েক বছর ধরে নিরুত্তাপ দলবদল হয়। সেই উত্তাপ ফেরানোরই চেষ্টা করছি আমরা।’ সত্যিকার অর্থে এবার বসুন্ধরা কিংস ইতিবাচক না হলে মহিলা লিগটা মাঠে গড়াত কি না সন্দেহ। কারণ তারা ছাড়া প্রিমিয়ার লিগের আর একটি ক্লাবও খেলছে না আগামী মাস থেকে শুরু হতে যাওয়া এই লিগে। ২০১১তে মেয়েদের লিগ শুরু হওয়ার পর ২০১৩তে হয়েছে দ্বিতীয় আসর, এর পর থেকেই তা হিমাগারে। প্রথম দুইবারে আবাহনী, মোহামেডান, শেখ জামালের মতো ক্লাবগুলো দল গড়লেও এবার কোনোটিই সাড়া দেয়নি। কিংসকে নিয়ে লিগ হচ্ছে কিন্তু বাকি দলগুলো একরকম অখ্যাত, অচেনা। আট দলের আসরের অন্য সাতটি দল হলো বেগম আনোয়ারা স্পোর্টিং ক্লাব, এফসি উত্তরবঙ্গ, কাচারিপাড়া একাদশ, কুমিল্লা ইউনাইটেড, নাসরিন স্পোর্টিং ক্লাব, স্বপ্নচূড়া অ্যান্ড আকেলপুর ফুটবল একাডেমি এবং স্পার্টান এমকে গ্যালাকটিকো সিলেট এফসি।

জাতীয় দলের সিংহভাগ খেলোয়াড় নিয়ে এই দলগুলোর বিপক্ষে বসুন্ধরাই পুরোপুরি ফেভারিট। ইমরুল হাসানও জানিয়েছেন, ‘চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যেই আমরা দল গড়েছি। এএফসির কোনো টুর্নামেন্টেও যদি খেলার সুযোগ হয় আমরা খেলব।’ গতবারের লিগ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বসুন্ধরা এএফসি কাপ খেলতে যাচ্ছে ছেলেদের ফুটবলে। মেয়েদের দল নিয়েও একই রকম উচ্চাশা তাদের। সেখানে প্রিমিয়ার লিগের অন্য ক্লাবগুলোর এই আসরে সাড়া না দেওয়াটাকে দুঃখজনক বলেছেন কিংস সভাপতি, ‘এবার বসুন্ধরা কিংস ছাড়া প্রিমিয়ার লিগের আর কোনো ক্লাব অংশ নিচ্ছে না, এটা দুঃখজনক। বাফুফেকে অনুরোধ করব এই লিগটা যেন নিয়মিত হয়, এবং প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর জন্য যেন বাধ্যতামূলক করা হয় মেয়েদের লিগে খেলা।’ সাম্প্রতিক সময়ে মেয়েদের সাফল্য বিবেচনায় নিয়েই এই লিগের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন তিনি। যে কারণে স্রোতের বিপরীতেই ছেলেদের দলের মতো একই রকম পেশাদারিত্ব নিয়ে মেয়েদের দলটাকে গড়েছেন। তাঁর বিশ্বাস, ‘এই লিগের মাধ্যমে বাংলাদেশের নারী ফুটবল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো ভালো করার একটা প্ল্যাটফর্ম খুঁজে পাবে।’ নারী কোচ মাহমুদা শরিফা অদিতিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলটির। অধিনায়ক ভারত, মালদ্বীপে লিগ খেলা অভিজ্ঞ সাবিনা খাতুন। সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকও পাচ্ছেন তিনি। ২০১৩ সর্বশেষ আসরটি হয়েছিল টুর্নামেন্টের আদলে। এবার অবশ্য ডাবল লিগেই খেলার কথা বলেছেন বাফুফের মহিলা ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ।

দল : গোলরক্ষক : মাহমুদা আক্তার, রুপ্না চাকমা, রুপা আক্তার; ডিফেন্ডার : শিউলী আজিম, নিলুফা ইয়াসমিন, নার্গিস খাতুন, মাসুরা পারভীন, আফিদা খন্দকার, আঁখি খাতুন, সুরভী আক্তার, রঞ্জনা রানী; মিডফিল্ডার : মনিকা চাকমা, মিশরাত জাহান, মারিয়া মান্ডা, মুন্নি আক্তার, লিপি; ফরোয়ার্ড : সানজিদা আক্তার, তহুরা খাতুন, কৃষ্ণা রানী, সাবিনা খাতুন, শাহেদা আক্তার, শামসুন্নাহার ও মোসাম্মত আরিফা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা