kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর মিশন

গত বছর এ ফরম্যাটে খেলা ৯টি পূর্ণাঙ্গ ম্যাচের মধ্যে আটটিতেই হার পাকিস্তানের। বাংলাদেশের সেখানে সাত ম্যাচে চার জয়; যার মধ্যে রয়েছে ভারতে গিয়ে ভারতকে হারানোর অর্জনও। র‌্যাংকিং-ফর্মের বিপরীতমুখী অবস্থান যেন গ্লাসের অর্ধেক খালি নাকি অর্ধেক ভরা— অমন ধন্ধে ফেলার মতোই। ইতিবাচকতা খুঁজে নেওয়ার সুযোগ ছিল দুই দেশের সামনেই।

২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর মিশন

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সফরের ওপর ঝুলে ছিল নিরাপত্তার চোখ-রাঙানি। আর সিরিজের শেষ ম্যাচের আগে বাংলাদেশের ওপর ঝুলে হোয়াইটওয়াশের খড়্গ। প্রথমটি আতঙ্কের; পরেরটি আশঙ্কার। পাকিস্তানের আয়োজনের ওই প্রথমাংশ নিয়ে তো আর কিছু করার নেই মাহমুদ উল্লাহর দলের। তবে পারফরম্যান্স দিয়ে আজ পরের অংশ জয়ের চ্যালেঞ্জটা থাকছে ঠিকই।

আইসিসি র‌্যাংকিং নাকি সাম্প্রতিক ফর্ম? বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের আবহে এ দুইয়ের বৈপরীত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিং বলছে, এক নম্বর দল স্বাগতিকরা, ৯ নম্বরে সফরকারীরা। আবার ফর্মের সাক্ষ্য ভিন্ন। গত বছর এ ফরম্যাটে খেলা ৯টি পূর্ণাঙ্গ ম্যাচের মধ্যে আটটিতেই হার পাকিস্তানের। বাংলাদেশের সেখানে সাত ম্যাচে চার জয়; যার মধ্যে রয়েছে ভারতে গিয়ে ভারতকে হারানোর অর্জনও। র‌্যাংকিং-ফর্মের বিপরীতমুখী অবস্থান যেন গ্লাসের অর্ধেক খালি নাকি অর্ধেক ভরা— অমন ধন্ধে ফেলার মতোই। ইতিবাচকতা খুঁজে নেওয়ার সুযোগ ছিল দুই দেশের সামনেই।

কিন্তু সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে কোথায় উড়ে গেল ফর্মের পরিসংখ্যান। বরং র‌্যাংকিংয়ের জয়জয়কারে অনায়াস দুটো জয়ে সিরিজের অধিকার নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। আজ শেষ ম্যাচে তারা হেরে গেলেই-বা কী!

বাংলাদেশের জন্য অবশ্য জয়-হারে বিস্তর ব্যবধান। ০-৩ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার চেয়ে ১-২ ব্যবধানে সিরিজ হার তো ঢের ভালো। সঙ্গে যোগ করুন, সফরের শেষ ম্যাচ থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাসের সঞ্জীবনী সুধা। পাকিস্তানে আরো দুই দফা সফরে যা কাজে লাগবে নিঃসন্দেহে। আর নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেওয়ার ব্যাপারও রয়েছে। দুই ম্যাচের হতশ্রী ক্রিকেটে যে সামর্থ্য ভীষণ রকম প্রশ্নবিদ্ধ। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে টানা প্রায় দেড় মাসের বিপিএল খেলার পর সফরে গিয়ে প্রস্তুতির ঘাটতির অজুহাতও তো ধোপে টিকছে না।

মাহমুদ উল্লাহর দলের জন্য সবচেয়ে যা হতশার, সেটি হলো প্রথম দুই টি-টোয়েন্টির অভিন্ন চিত্রনাট্য। প্রথম ম্যাচের ভুলগুলো থেকে মোটেই শিক্ষা নেয়নি দল। বিশেষত ব্যাটিংয়ে। কুড়ি-বিশের ফরম্যাটে ১৪১ ও ১৩৬ রান করে ম্যাচ জয়ের আশাটা তো বাড়াবাড়ি। সেটি উইকেট যেমন হোক, প্রতিপক্ষের ব্যাটিং কিংবা নিজেদের বোলিং যেমন হোক। আজ সিরিজের শেষ ম্যাচে তাই ব্যাটসম্যানদের জ্বলে ওঠার দায়টাই সবচেয়ে বেশি।

১৫ সদস্যের স্কোয়াডে নিখাঁদ ব্যাটসম্যান আটজন। যাঁদের মধ্যে সাতজন ছিলেন প্রথম ম্যাচের একাদশে; পরের ম্যাচে ছয়জন। রান তবু দেড় শ ছোঁয়া যায়নি। কোনো ম্যাচ না খেলা একমাত্র ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন। সিরিজ হার নিশ্চিত হওয়ার পর আজ তিনি খেলছেন নিশ্চিতভাবে। এ সফর থেকে যখন আর কিছু পাওয়ার নেই, তখন দূরে চোখ মেলে সবাইকে বাজিয়ে দেখার পথে হাঁটছেন টিম ম্যানেজমেন্ট। কোনো ম্যাচ না খেলা দুই পেসার রুবেল হোসেন ও হাসান মাহমুদেরও তাই সুযোগ হয়ে যেতে পারে। এমন পরিবর্তনের আভাস দ্বিতীয় ম্যাচ হারের পরই দিয়েছিলেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, ‘সবাইকে খেলার সুযোগ দিতে চাই আমি। সিরিজে ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে গেছি। সে তিনটি ছেলে সিরিজে এখনো খেলেনি, ওরা অবশ্যই খেলবে। তাহলে আরো কিছু বিকল্প আমরা দেখতে পারব।’

ব্যাটিং ব্যর্থতায় আড়াল হয়ে যাচ্ছেন বোলাররা। বিশেষ করে মুস্তাফিজুর রহমান। বানের জলের মতো রান বেরিয়ে যাচ্ছে তাঁর বোলিংয়ে। প্রথম ম্যাচে চার ওভারে ৪০ রান দিয়ে নেন মোহাম্মদ হাফিজের উইকেট। পরেরটিতে তিন ওভারে ২৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য। অর্থাৎ, সিরিজে সাত ওভারে দিয়েছেন ৬৯ রান; ওভারপ্রতি প্রায় ১০ রান করে। অনেক দিন ধরে বিবর্ণ মুস্তাফিজ বিপিএলে দারুণ খেলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ফর্মে ফেরার। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দুটো টি-টোয়েন্টিতে আবার প্রশ্নবোধক চিহ্নে সামনে দাঁড় করিয়ে দিল বাঁহাতি এই পেসারকে। দলের সেরা বোলারেরই যখন এই অবস্থা, অন্যদের দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়াই তো স্বাভাবিক। প্রথম ম্যাচে তাও কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, দ্বিতীয় ম্যাচে বোলারদের একেবারেই হাল ছেড়ে দেওয়া অবস্থা। সঙ্গে জঘন্য ফিল্ডিংয়ের পুরনো রোগ তো আছেই। আজ শেষ ম্যাচে তাই ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ের সব কিছু বদলে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের।

সিরিজ শুরুর আগের দিন লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ট্রফি হাতে হাসিমুখে পোজ দিয়েছিলেন দুই অধিনায়ক। আজ শেষ ম্যাচ শেষে আরেক দফার হাসিমুখে তা বাবর আজমের উঁচিয়ে ধরা নিশ্চিত। ট্রফির অধিকার হারালেও হাসিমুখে সিরিজ শেষের সুযোগটা কিন্তু ঠিকই থাকছে মাহমুদ উল্লাহর। সে জন্য আজ তৃতীয় টি-টোয়েন্টিটা জিততে হবে, এই যা!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা