kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

শিষ্যদের আড়াল দিলেন ডমিঙ্গো

ডমিঙ্গো এখানে ব্যাট ধরলেন মাহমুদদের পক্ষে, ‘এই ফরম্যাটে পাকিস্তান সব সময়ই ভালো ফাস্ট বোলার পেয়ে আসছে। ওদের খেলা আমাদের জন্য কঠিন। আমাদের ব্যাটিং লাইনআপটা অনভিজ্ঞ, তারা ভালো উইকেটে ভালো মানের বোলারদের সামনে পড়েছে। আশা করছি সামনের দিনে ওরা ভালো করবে।’

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : ম্যাচের পর মাঠের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে  মাহমুদ উল্লাহ শুনিয়ে গেলেন সেই পুরনো রেকর্ড, ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার আর পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর। আর সংবাদমাধ্যমের সামনে এলেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। হাসিহাসি মুখ নিয়ে কূটনৈতিক ভাষায় পরিস্থিতি সামাল দিতে অভ্যস্ত এই প্রোটিয়া অবশ্য কোনো খোঁড়া অজুহাত দিলেন না হারের পর।

‘দিনটা ছিল হতাশাজনক। ভেবেছিলাম প্রথম ম্যাচের চেয়ে আজকে (কাল) আরো বেশি চ্যালেঞ্জ জানানো যাবে পাকিস্তানকে। উইকেটে ব্যাটিং করা সহজ ছিল না আর এই মাঠের গড় রানই ১৫৫-র মতো। এর পরও আমাদের কমপক্ষে ২৫টা রান কম হয়েছে। এ জন্যই ওরা এক নম্বর আর আমরা নবম’—এমনটাই বললেন ডমিঙ্গো। র‌্যাংকিংয়ের অঙ্কে পাকিস্তান এখন টি-টোয়েন্টিতে এক নম্বরে, তবে এই আহসান আলী-মোহাম্মদ রিজওয়ানদের নিয়ে গড়া দলটা কতটা ‘এক নম্বরসুলভ’ তা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন থাকছেই। মোহাম্মদ আমিরকে রাখা হয়নি দলে, বিপিএলে যাঁর বোলিংয়ের সামনে উড়ে গেছেন দেশি-বিদেশি সবাই। এর পরও রান পাচ্ছেন না ব্যাটসম্যানরা, ডমিঙ্গো এখানে ব্যাট ধরলেন মাহমুদদের পক্ষে, ‘এই ফরম্যাটে পাকিস্তান সব সময়ই ভালো ফাস্ট বোলার পেয়ে আসছে। ওদের খেলা আমাদের জন্য কঠিন। আমাদের ব্যাটিং লাইনআপটা অনভিজ্ঞ, তারা ভালো উইকেটে ভালো মানের বোলারদের সামনে পড়েছে। আশা করছি সামনের দিনে ওরা ভালো করবে।’

আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্তটা ডমিঙ্গো ব্যাখ্যা করলেন এভাবে, ‘মনে হচ্ছিল উইকেটে ব্যাটিং সহজ হবে না। প্রথম ম্যাচেই দেখা গেছে, আমাদের ১৪২ রান তাড়া করে ওদের জিততে শেষ পর্যন্ত খেলতে হয়েছে। আমরা জানি পাকিস্তান কিভাবে নিজেদের পুঁজি আগলাবে। অনভিজ্ঞ একটা ব্যাটিং লাইনআপকে আসলে রান তাড়ার চাপে ফেলে পিষ্ট করতে চাইনি।’

নিষেধাজ্ঞায় সাকিব, পাকিস্তানে আসবেন না মুশফিক, চোট সাইফ উদ্দিনের। পূর্ণশক্তির দলটাকে পাচ্ছেনই না বাংলাদেশের কোচ, তাই বললেন শুধু মুশফিক না অভাব টের পাচ্ছেন আরো অনেকেরই, ‘আমরা খুব সম্ভবত আমাদের প্রথম পছন্দের তিনজন ক্রিকেটারকে এখন দলে পাচ্ছি না। সাইফ উদ্দিনকে নতুন বলে আর আটে ব্যাট করতে দরকার। সাকিব নেই, মুশফিকও নেই। তবে এটা তরুণদের জন্য একটা সুযোগ। পরের দিকের ক্রিকেটারদের গভীরতা কতখানি সেটা মেপে দেখা গেল, কারণ ওরা (সাকিব-মুশফিক) তো সব সময় থাকবে না। ওরা থাকলে হয়তো আমরা এতটা হন্য হয়ে বিকল্প খুঁজতাম না।’

তামিম ইকবালকে নিয়ে হচ্ছে সমালোচনা। তাঁর মন্থর ব্যাটিংই কি দুটো ম্যাচে বাংলাদেশের সংগ্রহটাকে বাড়তে দিল না? ডমিঙ্গো মোটেই তা মনে করেন না, ‘তামিমের সঙ্গে এটা আমার প্রথম সফর আর আমার মতে সে দুটো ম্যাচেই ভালো দুটো ইনিংস খেলেছে। অবশ্যই তাঁর খেলায় উন্নতির জায়গা আছে। আজ (কাল) আমরা ভুল সময়ে উইকেট হারিয়েছি। উল্টো দিকে যখন নিয়মিত উইকেট পড়ছে তখন ওর জন্য হাত খুলে খেলা কঠিন। কাজ করার আছে। আমি দেখলাম তার টি-টোয়েন্টির ব্যাটিংটা কেমন। আশা করছি সে তার ব্যাটিং পরের স্তরে নিয়ে যাবে, তবে সে জন্য অনেক কাজ করতে হবে।’

যে সফরে আসতে অনীহা, তার সিংহভাগই শেষ। আর মাত্র একটা ম্যাচ, এর পরই বাড়ির বিমান ধরা। সিরিজ হাতছাড়া করা বাংলাদেশের কোচ চাইছেন নিয়মরক্ষার তৃতীয় ম্যাচে এখন একাদশে বদল আনতে, ‘সবাইকেই সুযোগ দিতে হবে। আমরা ২-০তে পিছিয়ে, স্কোয়াডে তিনজন আছে যাদের এখনো কোনো ম্যাচে একাদশে জায়গা হয়নি। তারা তো অবশ্যই আসবে, অন্য বিকল্পও ভাবব।’

প্রস্তুতির অভাব ছিল, এমনটা বলার সুযোগ নেই কারণ বিপিএলের মতো লম্বা আসর শেষেই পাকিস্তানে এসেছে বাংলাদেশ। বিপিএলে খেলা শোয়েব মালিক, শাদাব খানরা রীতিমতো পাখিপড়া করেই এসেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। ব্যাটে-বলে সাফল্য পাচ্ছেন সেই অভিজ্ঞতার আলোকে। আর বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা পারছেন না ন্যূনতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে। এরপর আড়াল খুঁজছেন কোচের পেছনে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা