kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পুরনো বিতর্ক নতুন করে

জেমি এই টুর্নামেন্ট থেকে প্রাপ্তি প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আক্রমণ এবং পজেশনাল ফুটবলে আমরা ভালো করেছি। এর আগে আমাদের দলটা মূলত জমাট ডিফেন্স এবং কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবলেই অভ্যস্ত ছিল। এই টুর্নামেন্টে আমাদের পাসিং ভালো ছিল, দেখিয়েছি আমরা গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারি।’

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পুরনো বিতর্ক নতুন করে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের ফাইনালে ফিলিস্তিনই দেখাল সুযোগ কিভাবে কাজে লাগাতে হয়। আক্রমণে ভয়ংকর বুরুন্ডি ডিফেন্স অরক্ষিত রেখে গোলের সুযোগ দিয়েছেই। বাংলাদেশকেও দিয়েছিল, ছয়-সাতটি। তার একটিও কাজে লাগাতে পারেনি স্বাগতিকরা। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা সেই ভুল করেনি, ম্যাচের আধঘণ্টাতেই স্কোরলাইন ৩-০ করে ফেলে তারা। টুর্নামেন্টে তাই গোলের সুযোগ নিতে না পারাটাই বড় ঘাটতি হয়ে থাকছে স্বাগতিকদের।

এটা পুরনো সমস্যা। জেমি ডে বলেছেন, লিগের কাঠামো না বদলালে এ থেকে উত্তরণ দেখছেন না তিনিও। কাঠামো বলতে একাদশে বিদেশির সংখ্যা (যা এখন চার) কমাতে বলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘ক্লাবের হয়ে খেলোয়াড়রা বারবার গোল করার মতো অবস্থানে গেলেই না গোলের অভ্যস্ততাটা তৈরি হবে তাদের। সেটা হয় না, কারণ ক্লাবগুলোর ফরোয়ার্ড লাইন বিদেশি-নির্ভর। ক্লাবগুলোকেও আমি দোষ দিতে পারি না, কারণ সাফল্যের জন্য তারা অর্থ খরচ করেছে। কিন্তু আমাদের জাতীয় দলের জন্য এটাই সমস্যা। ভালো মানের স্ট্রাইকার পেতে লিগে এই বিদেশি কমানোর দিকেই যেতে হবে ফেডারেশনকে। আমার মতে একাদশে দুজনের বেশি বিদেশি খেলানো উচিত নয়।’

বিতর্কটা নতুন নয়। কাজী সালাউদ্দিন এবারের বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ চলাকালীনই বিদেশি কমানোর সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তাঁর যুক্তি, ‘আমাদের স্ট্রাইকারদের চ্যালেঞ্জটা নিতে হবে। বিদেশি কমানো কোনো সমাধান না।’ স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের প্রসঙ্গও টানেন তিনি, ‘স্পেন যে বছর বিশ্বকাপ জেতে সে বছরও ওদের দুটি বড় ক্লাবের ফরোয়ার্ড লাইন বিদেশি-নির্ভর ছিল।’

তবে বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোনো সমাধান মিলছে না বলেই সালাউদ্দিন অনড় অবস্থানে। জেমি ডে-ও নতুন করে তোলেন বিদেশি কমানোর দাবি। জাতীয় দলের ফরোয়ার্ডদের মধ্যে আবাহনীর নাবিব নেওয়াজ ও মতিন মিয়াই ক্লাব দলের ফরোয়ার্ড লাইনে খেলেছেন, যদিও মূল স্ট্রাইকার হিসেবে নয়। নাবিব সানডের পেছনে দ্বিতীয় স্ট্রাইকার হিসেবে খেলছেন, আর মতিন রাইট উইংয়ে। নাবিব এবার ইনজুরির কারণে বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপে খেলতেই পারেননি। মতিন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জোড়া গোলের পর বুরুন্ডির বিপক্ষে সেমিফাইনালে নেমেই চোট পেয়েছেন। পুরো টুর্নামেন্টে অন্য যে দুজন সুযোগ পেয়েছেন সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে সেই মাহবুবুর রহমান সুফিল কিংসে এবং সাদউদ্দিন আবাহনীতে গত মৌসুম কাটিয়েছেন উইংব্যাক হিসেবে।

সুফিল-সাদ সেই বয়সভিত্তিক দল থেকে খেলছেন স্ট্রাইকার হিসেবে। কিন্তু প্রিমিয়ার ফুটবলে বিদেশিদের আধিপত্যে সেই পজিশন ধরে রাখতে পারছেন না তাঁরা। জাতীয় দলে আবার যখন ফিরছেন সেই পজিশনে দেখা যাচ্ছে ওয়ান অন ওয়ান পজিশনে কিংবা বক্সের ভেতর বল পেয়েও দ্বিধায় ভুগছেন। তাই অতীতের মতো লিগে বিদেশি নির্ভরতার প্রসঙ্গটা এসেই যাচ্ছে। জাতীয় দলের কোচ নতুন করে তা সামনে আনায় এর পরিণতিটা কী হয় সেটিই এখন দেখার।

বুরুন্ডির বিপক্ষে সেমিফাইনালে অবশ্য স্বাগতিকদের ডিফেন্সও বেশ ভুগিয়েছে। তিনটি গোলের অন্তত দুটিই ডিফেন্সের দৃষ্টিকটু ব্যর্থতায়। এটা ঠিক যে ইনজুরি আর নিষেধাজ্ঞায় ম্যাচের আগেই ডিফেন্স লাইন এলোমেলো হয়ে পড়েছিল। জেমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের রক্ষণ দৃঢ়তা প্রশংসা কুড়িয়েছে। মার্চে বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচে দলটাকে আবার সেই চেহারায় ফেরাতেই হবে তাঁকে। জেমি এই টুর্নামেন্ট থেকে প্রাপ্তি প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আক্রমণ এবং পজেশনাল ফুটবলে আমরা ভালো করেছি। এর আগে আমাদের দলটা মূলত জমাট ডিফেন্স এবং কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবলেই অভ্যস্ত ছিল। এই টুর্নামেন্টে আমাদের পাসিং ভালো ছিল, দেখিয়েছি আমরা গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারি।’ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ঘরের মাঠে আফগানিস্তান, ভারত, ওমানের বিপক্ষে পয়েন্ট নিতে এই ফুটবলটাই প্রয়োজন হবে, কিন্তু তারপরও তো গোলের নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা