kalerkantho

রবিবার  । ১৫ চৈত্র ১৪২৬। ২৯ মার্চ ২০২০। ৩ শাবান ১৪৪১

বুরুন্ডিকে উড়িয়ে দিয়ে আবারও ফিলিস্তিন

মাত্র ২৬ মিনিটের ব্যবধানে ৩ গোল করে ফিলিস্তিনিরা ভীষণ চাপে ফেলে দেয় বুরুন্ডিকে। ট্যাকটিক্যাল লড়াই জিতে ফিলিস্তিনের তিউনিসিয়ান কোচ মাকরাম দাবুবের গর্বও বাড়বাড়ন্ত, ‘ওরা (বুরুন্ডি) যেটা ভেবেছিল আমরা তার উল্টোটা করেছি। বল পজেশনে তারা এগিয়ে থাকুক, কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু গোল বের করার উপায় আমাদের জানা ছিল। ফাইনাল পাসগুলো ভালো হয়েছে এবং ছেলেরা দুর্দান্ত খেলে ফাইনাল ম্যাচ খুব সহজ করে দিয়েছে।’

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বুরুন্ডিকে উড়িয়ে দিয়ে আবারও ফিলিস্তিন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দল ফিলিস্তিনের খেলোয়াড়দের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেন। ছবি : ফোকাস বাংলা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বুরুন্ডিকে উড়িয়ে দিয়ে ফিলিস্তিন ধরে রেখেছে বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের শিরোপা। তারা ৩-১ গোলে পূর্ব আফ্রিকার দলটিকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এই আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে।

দাপটের সঙ্গেই বুরুন্ডির ফাইনালে আরোহণ হয়েছিল। সুবাদে তাদের মধ্যে ভয়ংকর আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল। কাল হয়েছে সেটাই। তাদের রক্ষণে যে বড় খুঁত ছিল সে নিয়ে পূর্ব আফ্রিকার দলটি এতটুকু বিচলিত ছিল না। চেষ্টাও করেনি রক্ষণ দুর্বলতা ঢেকে দেওয়ার। তাই ফুটবল ফাইনালের আকর্ষণও টিকে থাকেনি শেষ পর্যন্ত। একটি একতরফা ফাইনালে রূপ নেয়। খুব ট্যাকটিক্যাল ম্যাচ খেলে ফিলিস্তিন শিরোপা নিশ্চিত করতে মাত্র ২৬ মিনিট সময় নিয়েছে! এর মধ্যেই ৩ গোল করে ফিলিস্তিনিরা ভীষণ চাপে ফেলে দেয় বুরুন্ডিকে। ট্যাকটিক্যাল লড়াই জিতে ফিলিস্তিনের তিউনিসিয়ান কোচ মাকরাম দাবুবের গর্বও বাড়বাড়ন্ত, ‘ওরা (বুরুন্ডি) যেটা ভেবেছিল আমরা তার উল্টোটা করেছি। বল পজেশনে তারা এগিয়ে থাকুক, কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু গোল বের করার উপায় আমাদের জানা ছিল। ফাইনাল পাসগুলো ভালো হয়েছে এবং ছেলেরা দুর্দান্ত খেলে ফাইনাল ম্যাচ খুব সহজ করে দিয়েছে।’

৩ মিনিটের মাথায় সামেহ মারাবার পা থেকে বের হয় দুর্দান্ত এক ফাইনাল পাস। তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত লং বলে অফসাইড ট্র্যাপ করতে গিয়ে বুরুন্ডি পড়েছে নিজেদের ফাঁদে। ওদের রক্ষণে একদম ফাঁকায় বল পান মোহাম্মদ দারবিশ, তাঁর পা ঘুরে আসা বলটি খালেদ সালেম টোকা দিয়ে ফাঁকা পোস্টে পাঠিয়ে এগিয়ে নেন ফিলিস্তিনকে। বুরুন্ডির জালে শুরুর এই গোল কিন্তু নতুন নয়। বাংলাদেশ বাদে গ্রুপের দুই ম্যাচে মরিশাস ও সেশেলস আগে বল পাঠিয়েছিল তাদের জালে। অর্থাৎ রক্ষণে তাদের ফাটল ধরবেই, সেটা কাজে লাগানোই আসল কথা। ফিলিস্তিন ৩ মিনিটের মাথায় ভুলের মাসুল বুঝিয়ে দিয়ে ১০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেয়। এটা এক অদ্ভুত গোল। ফিলিস্তিন গোলরক্ষকের শট ধরে সামেহ মারাবা দূর থেকে শট নেন পোস্টে। বুরুন্ডির রক্ষণ জটলা পেরিয়ে তা পোস্টের ভেতর পড়ে।

০-২ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর বুরুন্ডির একটি আক্রমণে ফিলিস্তিন রক্ষণ একটু কেঁপে ওঠে। ২০ মিনিটে ফিলিস্তিন গোলরক্ষক অ্যামি ফেলস টানা দুটো শট সেভ করেন। প্রথমে ঠেকিয়েছেন তাম্বে আমিসির শট, ফিরতি বলে অসমানের শট ঠেকিয়ে এই গোলরক্ষক হতাশায় পুড়িয়েছেন বুরুন্ডিকে। এর মধ্যে তাদের ‘সেভেন স্টার’ স্ট্রাইকার এনশিমিরিমানা জসপিনও খুব সুবিধা করতে পারেননি। ফিলিস্তিনের কড়া প্রহরা টপকে সাত গোল করা এই স্ট্রাইকারের যেন কিছু করার সাধ্য নেই। তাঁকে নজরবন্দি করে ২৬ মিনিটে জয় অনেকটা পকেটে পুরে নেয় ফিলিস্তিনিরা। খালেদ সালেমের শট পোস্টে লেগে ফিরলে ফিরতি বলে লিথ খারুবের শট বুরুন্ডির জালে জড়িয়ে গেলে ম্যাচ একরকম শেষ হয়ে যায়। এরপর বুরুন্ডি এক ডিফেন্ডারকে তুলে ফারোয়ার্ড লাইনে শক্তি বাড়ালেও কোনো লাভ হয়নি। কারণ প্রথমার্ধের পর রক্ষণভাগ পোক্ত করে ফিলিস্তিন চেষ্টা করেছে শেষ পর্যন্ত লিড ধরে রাখার। বিরতির পর তাই ফিলিস্তিন মাঠ যেন ছেড়ে দিয়েছিল বুরুন্ডিকে, তবে রক্ষণভাগে ছিল সজাগ দৃষ্টি। তাতে বুরুন্ডির পোস্টে শট ১২ আর অবিশ্বাস্যভাবে ফিলিস্তিনের শট মাত্র ৩টি! সেই তিনটিতে তিন গোল হলেও বুরুন্ডির ১২ শটের মাত্র একটিই লক্ষ্যভেদী। ৬০ মিনিটে ওই একবারই ফাটল ধরেছিল সেই ফিলিস্তিন রক্ষণে, ডান দিক থেকে পাঠানো ক্রসে এনডিকুমানা আসমানের শট বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়েও সেভ করতে পারেননি অ্যামি ফেলস। পুরো টুর্নামেন্টে ফিলিস্তিন গোলরক্ষকের এই একটিই ব্যর্থতা। চার ম্যাচে তারা খেয়েছে মাত্র এক গোল।

রানার্স-আপ বুরুন্ডির সাফল্য এটাই। বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের টানা দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়নের জালে বল পাঠিয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা